আজ- শনিবার, ৮ই মে, ২০২১ ইং, ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  Empathy, Patriotism & Commitment Group: একটু বিশ্লেষণ       বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী       ‘পরিবর্তন চাই’ এর চার বছর       নামে কী বা আসে যায়       লৌহজং ‘সামাজিক আন্দোলন’ – আমার সুখ স্মৃতি       `একাত্তরের জননী’র সন্তানেরা       মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস    

eDG’র সোশ্যাল ফাইলিং

সমাজসেবা অধিদপ্তর সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যা সমাধানের দৃষ্টান্ত সৃষ্টিতে অগ্রসর ভূমিকা পালন করছে। অধিদপ্তরটি এজন্য সরকারীভাবে স্বীকৃতিও পেয়েছে – ’সোশ্যাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ড মে, ২০১৬’। এই অর্জনের প্রধান কারিগর বর্তমান ডিজি মহোদয় গাজী 13413024_880412482084980_8576552231587100871_nমোহাম্মদ নুরুল কবীর। তিনি ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল সমাজসেবা অধিদপ্তরে ডিজি হিসাবে যোগদান করেন। কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারে অভ্যস্ত ও সিদ্ধহস্ত ডিজি মহোদয় ডিজএ্যাবিলিটি ইনফরমেশন সিস্টেম ইন ডাইরেক্টরেট অফ সোশাল সার্ভিসেস (ডিআইএস ইন ডিএসএস) নামের ফেসবুক গ্রুপে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের যুক্ত করে একটি নতুন ধারার প্রবর্তন করেন। গ্রুপটির সদস্য সংখ্যা এখন ৯৯১। অফিস সময়ের পরেও এমনকি ছুটির দিনেও কর্মকর্তারা আপডেট দেন গ্রুপে। আর ডিজি মহোদয় তাৎক্ষণিকভাবে কমেন্ট আকারে প্রশংসা, উপদেশ, নির্দেশ, সিদ্ধান্ত, প্রণোদনা দিয়ে কর্মকর্তাদের উৎসাহ যোগাতে থাকেন।

সমাজসেবার সোশ্যাল ফাইলিং
ডিজি থেকে ডিডি, ডিডি থেকে এডি, এডি থেকে ইউএসএসও সমাধান বা নির্দেশ, উপদেশ বা প্রশংসা, আর কাজ শেষে লিখিত ও অডিও ভিজুয়াল রিপোর্ট ফেসবুক গ্রুপে এমনভাবে চলতে থাকে যে তাকে ই-ফাইলিং ছাড়া অন্য কিছুর সাথে তুলনা করা যায় না। কিন্তু ই-ফাইলিং প্রসেসে পূর্ব নির্ধারিত কিছু কর্মকর্তা ছাড়া অন্যরা দেখতে পায় না। তাই সমাজসেবা অধিদপ্তরের সোশাল মিডিয়া নির্ভর অফিস কার্যক্রমকে বলা যায় সোশ্যাল ফাইলিং।

ডিআইএস ইন ডিএসএস এর মাধ্যমে সোশাল মিডিয়া ব্যববহারের শুরুটা সুন্দর, প্রাণবন্ত এবং সফল হওয়ায় বিভিন্ন কার্যক্রমভিত্13183256_1753064581574476_352291303_nতিক আরো বেশ কয়েকটি গ্রুপ খোলা হয়। যেমন, (১) শিশু অধিকার সুরক্ষা, (২) এমআইএস ইন ডিএসএস, (৩) রুরাল সোশাল সার্ভিসেস, (৪) ইউসিডি ইন ডিএসএস, (৫) হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম, (৬) বেস্ট প্র্যাকটিসেস ইন ডিএসএস, (৭) ইনোভেশন ইন ডিএসএস, (৮) ডিএসএস মিডিয়া আর্কাইভ প্রভৃতি।

কিছুদিন আগে ই-ফাইলিং কার্যক্রমকে গতিশীল ও সহজবোধ্য করার জন্য ‘ই-ফাইলিং ইন ডিএসএস’ নামেও একটি ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয়েছে যার সদস্য এখন ৪৬৩। সব মিলিয়ে গ্রুপ সম্ভবত ১৭টি। এই কাজে অধিদপ্তরের জনাব মোঃ সাজ্জাদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবীর এবং মোঃ রেজাউর রহমান এর অবদান অসীম। জনাব ওয়ালিউল্লাহ আব্দুল্লাহ, জহিরুল ইসলাম, মোঃ কামরুজ্জামান, সাজ্জাদ রাঙ্গাসহ আরও অনেকের অবদান আছে সমাজসেবার এই নজিরবিহীন সোশ্যাল ফাইলিংএ।

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ‘পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন বাংলাদেশ’ ফেসবুক গ্রুপেও গাজী বাহিনীর সরব উপস্থিতি দেখা যায়। একমাত্র এই অধিদপ্তরেরই প্রায় সাড়ে তিনশত কর্মকর্তা এই গ্রুপে যুক্ত। গাজী সাহেব নিজেও কমেন্ট (সমাধান বা নির্দেশনা) করেছেন ৪৭টি পোস্টে।d

একজন ডিজি মাঠ পর্যায়ের শত শত কর্মকর্তাকে কোন যাদুবলে সোশ্যাল মিডিয়ায় এতোটা এ্যাকটিভ করতে পারেন তা বোঝা কঠিন। জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘’ ডিজি নিজে এ্যাকটিভ থাকলে অন্যরা আস্তে আস্তে এ্যাকটিভ হবেই। সমাজসেবা একাডেমিতে পুরো একটি দিন সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিভিন্ন কর্মশালায় প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তাদের সোশাল মিডিয়ায় জয়েন করানো হয়। সম্মেলনগুলোকেও কাজে লাগানো হয়। ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিয়ে অফিস ইন্সপেকশনের ইন্সট্যান্ট রিপোর্ট দিতে বলা হয়। দাপ্তরিক বরাদ্দের আবেদন ডাকযোগে পাঠিয়ে গ্রুপে পোস্ট দিয়ে জানালে অনুমোদন করা হয়। সবাইকে এ্যাকটিভ বা অভ্যস্ত করে তোলাটাই মূল চ্যালেঞ্জ’’। এভাবেই খোলনলচে বদলে যেতে থাকে অধিদপ্তরের। এভাবেই ই-ফাইলিং এর আগেই সমাজসেবা অধিদপ্তরে সোশ্যাল ফাইলিং এর জন্ম, বিকাশ এবং কার্যকর হয়ে ওঠা।

গত ১ বছরে তিনি ফেসবুকের পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন বাংলাদেশ গ্রুপসহ সমাজসেবা অধিদফতরের বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপ মিলিয়ে ছুটির দিনগুলো বাদ দিলে গড়ে প্রতিদিন ২-৩টি করে সমাধান, সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা দিয়েছেন।

কি ধরণের সিদ্ধান্ত/ নির্দেশনা/ সমাধান?
ফেসবুকের পোস্টের সাথে সংযুক্ত ছবি দেখে নির্দেশ দিয়েছেন ‘ভবনটি রং করিয়ে নাও’। টিনের চাল দেখে নির্দেশ দিয়েছেন –‘সিলিং লাগানোর ব্যবস্থা করো’।

ফেসবুকে শিশু পরিবারের ছবি দেখে মন্তব্য করেছেন ‘ঝোপ জংগল , ঘাস বিচালি পরিস্কার কর , শুধু গাছের গোড়ায় চুনকাম করলে তো হবে না’।

শিশু পরিবারের পিএসসি পরীক্ষার্থীদের এইমাত্র অটোতে তুলে দিয়ে এলাম এরকম একটি পোস্টে মন্তব্য করেছেন ‘Easy bike (অটো) এর পরিবর্তে রিকশাতে দিও’।

untitle1-pyচটগ্রাম রৌফাবাদস্থ মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠানে ট্রান্সফর্মারের কারণে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। ফেসবুকে জেনে সমাধান দিয়েছেন ‘পিডিবি চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ২০০ কেভি পৃথক ট্রান্সফর্মারের জন্য পত্রের খসড়া উপস্থাপন করো। আমি টেলিফোনেও কথা বলবো’।

ঘূর্ণিঝড় “রোয়ানু” এর প্রভাবে সরকারি শিশু পরিবার বালিকা ভোলা’র নতুন নির্মাণাধীন ডরমেটরী ভবনের সীমানা প্রাচীরের অংশবিশেষ ধ্বসে গেছে। বাকীটাও যে কোনো মুহূর্তে ধ্বসে পড়তে পারে জেনে সমাধান দিয়েছেন – ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্হা নাও , পিডব্লিউডির প্রকৌশলী ও ঠিকাদারকে ত্বরিত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বলো। ২৪ ঘন্টা কড়া প্রহরার ব্যবস্হা নাও কেউ যেন প্রাচীরে কাছে না যায়’।

সরকারী শিশু পরিবার (সশিপ), মহেশ্বরপাশা খুলনার হোষ্টেল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে এরকম একটি পোস্টে নির্দেশনা –‘কাজের মান কোনক্রমেই যেন বিনির্দেশ এর তুলনায় কম না হয়। প্রকল্প পরিচালক ৮ ইউনিট ব্যক্তিগত পরিদর্শনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন এবং ফিডব্যাক দেবেন’।

সশিপ, চুয়াডাঙ্গা (বালিকা) শিশু সুরক্ষার সৌন্দর্য বর্ধনের চিত্র ফেসবুকে দেখে নির্দেশ দিয়েছেন ‘ভবনটির অবস্থা খুবই করুণ। মেরামতের ব্যবস্থা নাও’।

ফেসবুকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন – ‘শিশু পরিবারগুলোর (অন্যান্য আবাসিক প্রতিষ্ঠানসহ) সৌন্দর্যবর্ধনের প্রতিযোগিতা চলবে পুরো অর্থ বছর জুড়ে। প্রতি তিনমাস অন্তর ত্রৈমাসিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে দেয়া হবে সম্মাননা। নতুন কিছু করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দাও’।

বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন না রহিমা, বয়স ৬২র পরেও ১৩ বছর পার হয়ে গেছে। পত্রিকায় খবর হয়েছে কিন্তু রহিমার অবস্থার হেরফের হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে ভাতা প্রদানের নির্দেশ দিয়ে প্রমাণ করেছেন সংবাদপত্রের চেয়েও এখন সোশাল মিডিয়া শক্তিশালী।

১০ বছরের এতিম শিমু শিপনের কথা ফেসবুকে জেনে তাৎক্ষণিক নির্দেশ – ‘ডিডি, মেহেরপুর শিশুটিকে শিশুপরিবারে ভর্তি করে নেয়ার উদ্যোগ নিয়ে আমাকে জানাবে’।

দিন নয় ঘন্টা
সমালোচকরা বলেন তিনি ফেসবুকে, বিশেষ করে ‘পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন বাংলাদেশ’ ফেসবুক গ্রুপে তাঁর অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট পোস্টে তৎপরতা দেখান। এই গ্রুপে তাঁর ৪৭টি সিদ্ধান্ত পাওয়া গেছে। মজার বিষয় হলো সিদ্ধান্ত জানিয়ে নির্দেশ দেবার সময় তিনি দিন বেঁধে দেন না, ঘন্টা বেঁধে দেন। জন্ম থেকে দুই হাত আর বাবা নেই মরিয়মের। untitledcopyমা কাজের সন্ধানে জর্ডানে। সে পা দিয়ে লিখে পিএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। ডিডি, ময়মনসিংহের উপর নির্দেশ জারি হয়েছে – ‘দেখো কত দ্রুত ওকে ছাত্র উপবৃত্তির আওতায় আনা যায়। দুপুর ১২ টার মধ্যে রিপোর্ট চাই’।

উপরোক্ত গ্রুপের অতিরিক্ত সমাজসেবার প্রায় ১৫টি গ্রুপে ডিজি মহোদয়কে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। এরকম এক গ্রুপে ডিডি, চাঁপাই নওয়াবগঞ্জকে ২৪ ঘন্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন এক বৃদ্ধের বয়স্কভাতা কার্ড দেবার জন্য। দেড় ঘন্টার মধ্যে কার্ড দিয়ে ফেসবুক গ্রুপে ছবিসহ পোস্ট দিয়ে জানান দিয়েছেন ডিডি মহোদয়। এমন নজির, এমন ধ্বণাত্মক প্রতিযোগিতার উদাহরণ প্রচুর। সমাজসেবা অধিদপ্তরের শত শত কর্মকর্তাকে সদা তৎপর রাখতে সোশ্যাল মিডিয়ার এমন সার্থক ব্যবহার সত্যিই অনুকরণীয়। মোঃ আসাদুজ্জামান সরদার মিঠু, তত্ত্বাবধায়ক, সরকারী শিশু পরিবার, রাজশাহী বলেন ’সমাজসেবার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা হিসাবে বাড়তি চাপে থাকতে হয় সত্য কিন্তু মাঠ থেকে ডিজির সাথে চাইলেই যোগাযোগ করতে পারার উত্তাপটিও আরামদায়ক’।

সমালোচনা
এতো অনলাইনে থাকলে মূল কাজ ক্ষতিগ্রস্থ হবার আশংকা করেন অনেকে। সরকারী কর্মকর্তাদের কোনো অফিস টাইম নেই কথাটা না মানলেও জানি সবাই। ইডিজি মহোদয় অফিস শেষে মূলত রাতে সোশ্যাল মিডিয়ার কাজগুলো করেন। তাঁর অধিকাংশ কমেন্ট, নির্দেশনা বা সিদ্ধান্তের শেষে ‘শুভরাত্রি’ শব্দটির ব্যবহার সেটাই প্রমাণ করে। সমালোচনা আছে ডিজি মহোদয় অনলাইনে বা সোশাল মিডিয়ায় সমস্যা সমাধানে বেশী আগ্রহী। সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে দপ্তরসমূহকে জনবান্ধব করার জন্য সরকারীভাবেই যেখানে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে সেখানে এই সমালোচনা ধোপে টেকে না। পরীক্ষা করার জন্য অফলাইনে/ সামনাসামনি ডিজি মহোদয়ের কাছে একজন বয়স্ক বিধবা মহিলাকে ভাতা প্রদান করা যায় কিনা দেখতে বলা হয়েছিল। তিনি সাথে সাথে জেলা কর্মকর্তাকে ফোন করে ১২ ঘন্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে জানাতে বলেন। ফেসবুকেও তিনি এভাবে ২৪ ঘন্টা, ১৮ ঘন্টা, ১২ ঘন্টা, ৬ ঘন্টা, দুপুরের মধ্য, আজকের মধ্যে ধরণের নির্দেশ দেন। তাছাড়া ই-ফাইলিং চালু হবার আগেও তাঁর টেবিলে ফাইল জমে থাকতে দেখা গেছে বলে শোনা যায় না। ফিজিক্যাল ফাইলের দ্রুত নিষ্পত্তিকেও লোক দেখানো কাজ বলার মতো সমালোচকও নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। খুঁজলে।

সাহস ও অনুপ্রেরণার উৎস
সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভাতা দেবার বিধিবদ্ধ নিয়মকানুন আছে। দিন বা ঘন্টা বেঁধে ডিজি মহোদয় যেসব নির্দেশনা দেন সেগুলোর মধ্যে প্রথাগত নিয়মের ব্যত্যয় হতেই পারে। এই অনুপ্রেরণার এই সাহসের উৎস জানতে চাইলে তিনি বলেন – ‘আইন মানুষের জন্য। ব্যক্তিগত লোভ-লালসা নয় মানুষের জন্য দ্রুত কাজ করতে গিয়ে আইনভঙ্গের অপরাধে শাস্তি পেতে হলে আমি খুশীই হবো। আমি মনে করি সততাই এক্ষেত্রে সত্যিকার রক্ষাকবচ। মোজা পরে জুতো পরার নিয়ম কিন্তু দ্রুততার স্বার্থে মোজা ভেজা থাকলে বা খুঁজে না পেলে মোজা ছাড়াই জুতো পরার মানুষ আমি’।d-2

ই-গণশুনানি
কিছুদিন আগে দুর্নীতি দমন কমিশন কয়েকটি বিভাগের গণশুনানির ব্যবস্থা করে শুনানিতে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে পাঠিয়ে বেশ আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। এর পরপরই আমরা দেখলাম বিআরটিএ নিজেরাই গণশুনানির উদ্যোগ নিয়েছে। বিএমইটিতেও প্রতি মাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হচ্ছে হয়তো আরও কিছু বিভাগে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ই-ডিজি এখানেও ব্যতিক্রমী – তিনি সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার সেবাগ্রহীতাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সিং করে গণশুনানি করলেন। এর মধ্য দিয়ে আরও একটি মাইলফলক স্থাপিত হল।

প্রণোদনা15934361_10206077256729695_457107270_n
প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সোশ্যাল মিডিয়া ধ্বণাত্মক প্রতিযোগিতার প্রণোদনাও দেয়া হয় উদার হাতে। সুন্দর শিশু পরিবার, সমাজসেবা পুরস্কার, One UCD One New Trade প্রভৃতি কার্যক্রমের ব্যানারে প্রদেয় সনদপত্রগুলো কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নথিতে সংযোগ করে দেয়াও eDG মহোদয়ের ইনোভেটিভ আইডিয়া। সনদপত্র ছাড়াও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করতে সেলফি স্ট্যান্ড, ব্লু-টুথ স্পিকার এসব উপহার দেয়া হয়। আলী আহসান, ডিডি, ফরিদপুর বলেন ‘স্যার যখন কারও প্রশংসা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কমেন্ট করেন সেটি ঐ কর্মকর্তার জন্য প্রণোদনা আর বাকী সব কর্মকর্তার জন্য অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করে’।

15879251_10206076609993527_1484086753_nঅব্যবহিত আগামী
সমাজসেবা অধিদপ্তরে আগামী ১১ জানুয়ারী, ২০১৭ বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের শো-কেসিং অনুষ্ঠিত হবে। বৃহৎ ও ক্ষুদ্র পরিসরে চলমান উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো কোনোটি প্রাতিষ্ঠানিক, কোনোটি আবার ব্যক্তিক। এই অধিদপ্তরের কার্যক্রমে নূতন মাত্রা সংযোজনের যে ধারা চলছে, সেবা কার্যক্রমে ডিজিটাইজেশনের সংযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ধ্বণাত্মক প্রতিযোগিতা, ই-ফাইলিং, এমআইএস, সিএমএস (ডিআইএস তো সেই কবেই সফল পূর্ণতা পেয়েছে), এগুলোর সাথে যুক্ত হবে আরো কিছু নিউ জেনারেশন আইডিয়া। সামনে হয়তো নতুন কোনো মাইলফলক, গৌরবের নতুন হাতছানি, সেবা কার্যক্রমকে মাটি ও মানুষের নিবিড় নৈকট্যে পৌঁছে দেয়ার সুবর্ণ বন্দরে সমাজসেবার তরী ভিড়বেই।

জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়তে ই-সার্ভিস, ই ফাইলিং, ই-পার্টিসিপেশন সফল করে ই-গভর্ণমেন্টের সৈকতে পৌঁছাতে এরকম অনেক ই-ডিজি দরকার।

Categories: উদ্ভাবন