আজ- শনিবার, ৮ই মে, ২০২১ ইং, ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  Empathy, Patriotism & Commitment Group: একটু বিশ্লেষণ       বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী       ‘পরিবর্তন চাই’ এর চার বছর       নামে কী বা আসে যায়       লৌহজং ‘সামাজিক আন্দোলন’ – আমার সুখ স্মৃতি       `একাত্তরের জননী’র সন্তানেরা       মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস    

শুধু পেপারলেস নয়; ট্রান্সপারেন্টও

ঘাটাইল উপজেলার ঘাটাইল ইউনিয়নের একটি গ্রাম কুলিয়া। সেই গ্রামে ৫০৮ ডেসিমেল খাস জমির উপর একটি পুকুর। কে, কবে এটি খনন করেছে সে ইতিহাস কেউ বলতে পারে না। পুরুষানুক্রমে এটা গ্রামবাসী ব্যবহার করে আসছিল। এখন এই জমির মালিক সরকার। কিন্তু হঠাৎ করে সেটি চলে যাচ্ছে এক ব্যক্তির অধীনে। তিনি জোর করে মাছ ধরছেন পুকুর থেকে। জনৈক আবদুস ছাত্তার খান ফেসবুকে লেখেন একটি সরকারি সম্পত্তি এভাবে বেহাত হতে পারে না। এই পোস্টটিই পাল্টে দিল দৃশ্যপট।

ছা্ত্তার সাহেবের পোস্টটি ‘পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন বাংলাদেশ’ গ্রুপে (https://www.facebook.com/groups/publicserviceinnovationblog/) সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই শেয়ার করেন একজন। জেলা প্রশাসক, টাঙ্গাইল দ্রুতই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ঘাটাইলকে বিস্তারিত প্রতিবে13439238_1364851176882761_1582501024661952333_nদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। ইউএনও, ঘাটাইল তদন্ত করে জানান হাল রেকর্ড অনুযায়ী কুলিয়া নামক পুকুরের তফশিল নিম্নরূপঃ

খতিয়ান- ১

দাগ নং- ৬৯৫

শ্রেণী- পুকুর

পরিমাণ- ৫.০৮ একর

ইউএনও, ঘাটাইল আরও জানান উপরোক্ত তফশিলভূক্ত ভূমি বাংলাদেশ সরকার পক্ষে জেলা প্রশাসক, টাঙ্গাইল এর নামে হাল রেকর্ডে শুদ্ধরূপে রেকর্ডভুক্ত হয়। ইহা রেজিস্টার-৬ (সায়রাত রেজিস্টার) এর অন্তর্ভুক্ত এবং দীর্ঘদিন যাবৎ সরকার পুকুরটি প্রকৃত মৎস্যজীবিদের নিকট ইজারা প্রদান করে আসছে। উল্লেখ্য যে, স্থানীয় মাহফুজ আরিফ নামক একজন ব্যক্তি পুকুরের মালিকানা দাবী করে বিভিন্ন আদালতে মামলা/আপিল দায়ের করেন। কিন্তু প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার সকল প্রকার মামলা/আপিলে জয়ী হয় এমনকি হাল রেকর্ডও সরকারের নামে শুদ্ধভাবে প্রকাশিত হয়। তিনি আরো জানান ইতোপূর্বে ড্রেজার দিয়ে পুকুরের মাটি অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হলে ড্রেজারটি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়। এবারও ধৃত কিছু মাছ আটক করে নিলামে বিক্রয় করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক টাঙ্গাইল জানান, বর্তমানে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপীলেট ডিভিশনে পুকুরটির মালিকানা স্বত্ব নিয়ে ৩৪৪৪/২০১৬ সিভিল রিভিশন (সরকার বাদী) চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান ফেসবুকের আলোচনাকে আমলে নিয়ে সিভিল রিভিশন এর আলোকে বিবাদীগণসহ যেকোন পক্ষের অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে মাইকিং ও ঢোল সহরতসহ প্রচারণা করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে গ্রাম পুলিশও নিয়োগ করা হয়েছে।

ফেসবুকে না জানালে নিশ্চয়ই প্রভাবশালী ব্যক্তি সহজেই কুলিয়ার সব মাছ নিয়ে যেত। এরকমই তো হয়। কেউ হয়তো প্রশাসনকে লিখতো বা জানাতো। হয়তোবা কাজের গতি কম হতো। কিন্তু ফেসবুক মাধ্যমকে কাজে লাগানোর কারণে প্রতিকারের এমন একটি নতুন প্লাটফর্ম তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। সরকারি কাজে ফেসবুককে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেই এটি সম্ভব হচ্ছে। আশা করছি সফল উদাহরণের সংখ্যা যতো বাড়বে প্লাটফর্মটিও ততো বড় হবে। শক্তিশালী হবে।

14962687_1364850853549460_544771760367122969_nটাঙ্গাইলের এই ঘটনাটি ফেসবুকের ইতিবাচক ব্যবহারের একটি দৃষ্টান্ত। এখানে দেখা গেল সরকারী পুকুরের মাছ একজন ধরে নিচ্ছেন দেখে সাধারণ একজন ব্যক্তি ফেসবুকে লিখছেন, সেটা পড়ে জেলা প্রশাসক ইউএনওকে নির্দেশ দিচ্ছেন, ইউএনও তদন্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগে চলমান সিভিল রিভিশন এর আলোকে মাইকিং ও ঢোল সহরত সহযোগে  বিবাদীগণসহ যেকোনো পক্ষের অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করছেন এবং পুরো বিষয়টি হচ্ছে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবার সামনে, ফেসবুকে। ফেসবুক জবাবদিহিতার একটি নতুন মাধ্যম হয়ে উঠছে। প্রভাবশালীরাও আর রেহাই পাচ্ছেন না। প্রশাসনও অধিকতর সাহসী হয়ে কাজ করতে পারছে। সংবাদপত্রের চেয়েও শক্তিশালী ও কার্যকর হয়ে উঠছে ফেসবুক। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মাঠপ্রশাসনের পক্ষ থেকে ফেসবুকেই নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। কোনো রাখঢাক বা অস্পষ্টতা নেই। নির্দেশনার ফলাফলও পাওয়া যাচ্ছে একের পর এক কমেন্টে।

জনগণ > ডিসি > ইউএনও > ইউনিয়ন পরিষদ > ইউএনও > ডিসি > জনগণ

দাপ্তরিক নথি যেভাবে এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে যায় প্রায় সেরকমই। সরকারী কাজটি এখানে শুধু পেপারলেসই নয়; ট্রান্সপারেন্টও।

এই সমাধান প্রক্রিয়ায় নীতি নির্ধারকরাও লিখেছেন যেমন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব লিখেছেন ‘জরুরী এই সমস্যা সমাধান হওয়া দরকার’। নীতি নির্ধারকরা এভাবে মন্তব্য করলে বা নির্দেশ দিলে মাঠ প্রশাসনের কর্তারা বাড়তি সাহস পাবেন সন্দেহ নেই। ফেসবুককে যাঁরা সেলফিবাজির আস্তানা বলে অবজ্ঞা করতে ভালবাসেন জানি তাঁরা এই ঘটনাকে ব্যতিক্রম বলবেন। কিন্তু এরকম ব্যতিক্রমের সংখ্যা যদি বাড়তে থাকে তাহলে? বারবার ব্যতিক্রম বলা সম্ভব হবে না বোধহয়।

 

Categories: কার্যক্রম