আজ- শনিবার, ৮ই মে, ২০২১ ইং, ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  Empathy, Patriotism & Commitment Group: একটু বিশ্লেষণ       বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী       ‘পরিবর্তন চাই’ এর চার বছর       নামে কী বা আসে যায়       লৌহজং ‘সামাজিক আন্দোলন’ – আমার সুখ স্মৃতি       `একাত্তরের জননী’র সন্তানেরা       মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস    

ওয়ার্কশপের গল্প

এটুআই এর প্রথম ট্রেইনিং করেছিলাম ‘ইনোভেশন ইন পাবলিক সার্ভিস’ (উজ্জিবিত করা হয়েছিল কিছু করতে – নতুন কিছু করুন)। এরপর ‘ইনোভেশন প্রজেক্ট ডিজাইন’ (ডিজাইন করুন ভাল করে)। তারপর ‘ম্যানেজিং টেকনোলোজি ফর ই-গভর্নমেন্ট’ (টেকনোলোজির সুবিধা নিন)।এবার ৮-৯ মে, ২০১৬ কৃষিবীদ ইন্সটিটিউটে হলো ‘ডকুমেন্টেশন এ্যান্ড ডিসেমিনেশন অফ ইনোভেশন’- নিজের ঢোল নিজে পিটান। তবে সেই ঢোল পিটানো যেন শিল্পসম্মত হয়, যেন বিরক্তির উদ্রেক না করে উল্টো আগ্রহ সৃষ্টি করে, এটাই ছিল সর্বশেষ ওয়ার্কশপের মূল বিষয়। পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের কথা যদি ধরি, বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের একাধিক প্রেজেন্টেশন বানাতে হয় এটা জানতাম না। মাদার ডকুমেন্ট বলতে উপকরণ-১৩র বাইরে সচিত্র পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন (শুধু চিত্রই বা বলি কেন, ভিডিও, অডিও, পেপার কাটিং – সব) তৈরীর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ধারনাই ছিল না। কোন কাজ করলে তার ডকুমেন্টশন যে এতটা জরুরী আগে ভাবিনি। কিন্তু ভাবা উচিৎ ছিল। জগদীশ চন্দ্র বসু তো এই ডকুমেন্টেশনের অভাবেই রেডিও আবিষ্কারের কৃতিত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন বলে ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি।

ইনফোগ্রাফিক্সের মাধ্যমে এক পাতায় বা একটি পোস্টারে পুরো কাজ তুলে ধরা দারুন মজার। এক মিনিটে প্রজেক্ট উপস্থাপন অনুশীলন করানো হলো যা একেবারে আনকোরা ছিল অন্ততঃ আমার কাছে।উদ্ভাবনের গল্প লিখলাম আমরা, এক পাতার। সেই গল্প কতোভাবে লেখা যেতে পারে তার উপর সানাউল হক স্যার দারুন একটি হ্যান্ডআউট দিলেন। দুদিন প্রায় পুরোটা সময় স্যার দাঁড়িয়েই ছিলেন যা আমাদের অনেকের জন্যই কঠিন হবে। স্যার ব্যাখ্যাও দিলেন কাজ যখন শুধু কাজ থাকেনা, উপভোগের, আনন্দের বিষয় হয়ে যায় তখন দুদিন কেন চারদিনও দাঁড়িয়ে থাকা যায়। স্যারকে একটু ভয়ই পেতাম, এবার বুঝলাম মানুষটা নারকেলের মতো। মানিক স্যার সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতে ওঠার আন্তর্জাতিক হাতছানি দিলেন। শুধু মিজান স্যার আর তাঁর ঠাকুরের ঘন্টাকে মিস করেছি। অশোক ও মির্জা ভাইয়ের রসাত্মক উপস্থাপনও শিক্ষণীয় ও উপভোগ্য ছিল। তবে অনিমেষ আর মাহবুব ভাই প্রথম দিনের চাঁদের মতো দেখা দিয়েই মিলিয়ে গেছেন। সব মিলিয়ে বিষয়বস্তুর আধুনিকতায় ও বৈচিত্রে নিজেকে সরকারী নয় কর্পোরেট কর্মকর্তা মনে হচ্ছিলো।

জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের একটি বড় কাজ হলো প্রবাস গমণেচ্ছুক কর্মীদের মাঝে সচেতনতা তৈরী করা। এই কাজে ভিডিও ক্লিপ তৈরী, ভিডিও এডিটিং, পোস্টার তৈরী, ইনফোগ্রাফিক্স বেশ কাজে লাগবে। এই প্রশিক্ষণের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিজেরাই ভিডিও ক্লিপ তৈরী করে জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে প্রচার করা যাবে বলে আশা করছি। আমি তো মনে করছি সেবা গ্রহীতাদের গুগল ফর্মের মাধ্যমে ডাটাবেজ করতে শুরু করবো। হার্ডডিস্ক ক্র্যাশ করে অফিসের সব ফাইল হারিয়ে গেছে দুবার; হায়, তখন যদি গুগল ড্রাইভ সম্পর্কে জানতাম!

এক পাতার ইনফোগ্রাফিক্স, এক মিনিটের গল্প, ৫, ১৫,৩০ মিনিটের প্রেজেন্টেশন, ভিডিও ক্লিপ, পেপার কাটিং, মাদার ডকুমেন্ট, ফটো সাফারি, উদ্ভাবনের গল্প এরকম নানা অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে থাকতে হবে অবস্থা বুঝে ব্যবহার করার জন্য। গলফ প্লেয়ারদের হ্যাভারস্যাকে যেমন নানা রকম স্টিক থাকে, জোরে মারার, আস্তে মারার, টোকা দেবার – অনেকটা সেরকম।

দুদিনের শর্ট কোর্সে সবকিছু খুব ভাল ভাবে আত্মস্থ করতে পারিনি বটে তবে প্রয়োজনীয় ধারণা পেয়েছি- কতোভাবে নিজের প্রজেক্টের ডকুমেন্টেশন ও ডিসেমিনেশন করা যায়। প্রজেক্টের শোকেসিং শেখানোর এই ওয়ার্কশপটি নিজেই প্রজেক্ট ডকুমেন্টেশন ও ডিসেমিনেশনের একটি শোকেসিং ছিল। এ শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে দেশের উদ্ভাবনী সেবার মানোন্নয়ন করা যেতে পারে। এমন একটি প্রয়োজনীয় ও প্রাণবন্ত ওয়ার্কশপ আয়োজনের জন্য এটুআই ও ক্যাবিনেট ডিভিশনকে অনেক ধন্যবাদ।

Categories: কার্যক্রম