আজ- শনিবার, ৮ই মে, ২০২১ ইং, ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  Empathy, Patriotism & Commitment Group: একটু বিশ্লেষণ       বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী       ‘পরিবর্তন চাই’ এর চার বছর       নামে কী বা আসে যায়       লৌহজং ‘সামাজিক আন্দোলন’ – আমার সুখ স্মৃতি       `একাত্তরের জননী’র সন্তানেরা       মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস    

ফেসবুক থেকে ফেস টু ফেস

সমাজসেবা অধিদপ্তরের ডিজি স্যারের সাথে দেখা হলো। আমার নাম আর অফিসের নাম বলতেই তিনি বললেন – আজ সকালেই আপনার গুগল ম্যাপসের লেখাটা পড়লাম। ‘ইনোভেশন ইন পাবলিক সার্ভিস’ গ্রুপে লেখার এটাই মহিমা। ডিডি লেভেলের অপরিচিত কর্মকর্তাদের সাথে পরিচয়ের মুহুর্তে এই মহিমা আগেও বুঝেছি। ডিজি পর্যায়ে বুঝলাম আজই প্রথম।

ফেসবুকের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য ডিজি গাজী কবির স্যারের কারণে সমাজসেবা অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই সরকারীভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাঁর সাথে পরিচিত হবার আগ্রহের পিছনে এটা বড় কারণ ছিল। ঘটনাচক্রে তখনই বিয়ানীবাজারের উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ বশিরুল ইসলাম হারাইয়াছি-হারাইয়াছে বিজ্ঞপ্তিমূলক ওয়েবসাইটের আইডিয়া উপস্থাপনের সময়। ‘নিজ ঠিকানায় ফেরা’ আইডিয়াটি ডিজি, ডাইরেক্টরদের সাথে বসে অবহিত হবার সুযোগ আমারও হলো। আইডিয়াটি ভাল। এখানে হারিয়ে যাওয়া মানুষের সন্ধান চাওয়ার যেমন সুযোগ থাকবে তেমনি হারানো মানুষ পাওয়ার খরবও থাকবে। এক প্ল্যাটফর্মে দেশের সব হারিয়ে যাওয়া এবং হারিয়ে পাওয়া মানুষের তথ্য থাকবে। এই দুই ডেটাবেজের মধ্যে যেটি মিলে যাবে সেটি ঐ ওয়েবসাইট শো করবে। সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা সমাজসেবা অফিসাররা আপাততঃ এই দুই ডেটাবেজে তথ্য ইনপুট দিতে পারবে। কেউ হারিয়ে গেলে বা কাউকে খুঁজে পেলে এখন আমরা থানা, হসপিটাল, মর্গ এসব জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করি। ‘ফেরা’ চালু হলে থানায় জিডি করেই মানুষ সমাজসেবা অফিসে যাবে, ‘ফেরা’ ওয়েবসাইটে ঘন ঘন ঘোরাফেরা করবে। এই ডেটাবেজের কারণে প্রথম হারানো বা এর আগেও হারিয়েছে কিনা সেটাও বোঝা যাবে। কোন বয়সের কতোজন মানুষ হারিয়েছে বা খুঁজে পাওয়া গেছে এসবের দারুন এক তথ্য ভান্ডার হতে পারে এটি। হারিয়ে যাওয়া মানুষের প্রকৃতি ও হারানোর কারণ অনুসন্ধানে ‘ফেরা’ নতুন নতুন গবেষণার সুযোগ এনে দেবে বলে আমার ধারণা। তবে কিছু একটা করলাম ভাবে না করে দক্ষ প্রতিষ্ঠান দিয়ে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট ও ডেটাবেজের কাজটি করাতে হবে যেন এটি ইউজার ফ্রেন্ডলি, ইন্টারএ্যাকটিভ এবং আপটুডেট থাকে।

সমাজসেবা অধিদপ্তর এই উদ্ভাবনী আইডিয়ার মাধ্যমে পুরাতন সেবার আধুনিকায়ণ নয় নতুন একটি সেবার দ্বার খুলতে যাচ্ছে। ডিজি স্যার দ্রুতই নামের ‘নিজ ঠিকানায়’ অংশটুকু কেটে শুধু ‘ফেরা’ করতে বললেন আর প্রয়োজনীয় অর্থের অনুমোদন দিয়ে দিলেন। জিডি ছাড়াই হারানো বিজ্ঞপ্তি ওয়েবসাইটে প্রকাশের অনুমোদন অবশ্য বারংবার অনুরোধেও দিলেন না বিদ্যমান আইনের সাথে সাংঘর্ষিক বলে। বুঝলাম সিদ্ধান্ত প্রদানে সমাজসেবা অধিদপ্তর শুধু ফেসবুক নয় ফেস টু ফেস পর্যায়েও অনুসরণীয়।

Categories: উদ্ভাবক