আজ- বৃহস্পতিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী       ‘পরিবর্তন চাই’ এর চার বছর       নামে কী বা আসে যায়       লৌহজং ‘সামাজিক আন্দোলন’ – আমার সুখ স্মৃতি       `একাত্তরের জননী’র সন্তানেরা       মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস       দেশের প্রথম ‘স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং’ সম্মেলন    

বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী

বৃক্ষ রোপণের এই ৮টি যজ্ঞ সরকারী কর্মকর্তাদের নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের অংশ নয়। বাড়তি কিছু করার সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে উৎসারিত। অন্তত ৪ টি ক্ষেত্রে সোশাল মিডিয়াকে সহায়ক শক্তি হিসাবে সার্থকভাবে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত তাঁদের আধুনিকতা ও প্রথা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার প্রশংসনীয় মানসিকতার ইঙ্গিত বহন করে। সোশাল মিডিয়ায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সরকারী কর্মকর্তাদের বৃক্ষ রোপণের গত দুই বছরের উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্তগুলো একত্রিত করা হয়েছে এখানে।

ইউএনও, তারাগঞ্জ, রংপুর এর ‘সবুজ তারাগঞ্জ গড়ি’ (মোছা: জিলুফা সুলতানা)
১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬। ভোর ৬ টা। আড়াই লক্ষ চারা রোপণের লক্ষ্যে তালিকাভূক্ত ত্রিশ হাজার মানুষ তারাগঞ্জের প্রায় ২৩০ কি: মি: দৈর্ঘ্যের ১৫৩টি রাস্তায় নেমে এসেছিলো একযোগে। এই সম্মেলনে অংশ নেয়া প্রতি ৫০ জনের জন্য একজন হিসেবে প্রায় ৭০০ জন শিক্ষক তত্ত্বাবধানকারী হিসেবে এবং উপজেলার সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ রাস্তা ভিত্তিক ট্যাগ অফিসার হিসাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সকাল ৭টা বাজার অপেক্ষা করতে থাকেন। জাতির সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দসহ স্কাউটস ও মোবাইল মেডিকেল টিমসমূহ নিজ নিজ অবস্থানে প্রস্তুত। ঘড়ির কাঁটায় যখন সকাল ৭টা… শুরু হয় সেই মাহেন্দ্রক্ষণ… সকল রাস্তায় একযোগে বাঁশি বাজিয়ে, ড্রাম বাজিয়ে শুরু হয় বৃক্ষ রোপণের সবুজ যাত্রা । এক ঘন্টায় ১৫৩টি রাস্তার দুই ধারে রোপিত হয় ৪০ প্রজাতির আড়াই লাখ ফুল, ফল ও ওষধি বৃক্ষ- যা ঘুরে দেখতেও লেগে যায় প্রায় ১০ ঘন্টা।

ইউএনও জনাব মোছাঃ জিলুফা সুলতানা বলেন, গিনেসবুক নাম লেখানো বা বিশ্বরেকর্ডের জন্য নয়, সবুজ ছায়াময় তারাগঞ্জ গড়তেই এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পরিকল্পনা। ইউনিয়ন পরিষদের এলজিএসপির আর্থিক সহযোগিতা ও বিভাগীয় কমিশনারের সহায়তায় বনায়ন থেকে এক লাখ আর বাকী দেড় লাখ চারা বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করা হয়। এ উপলক্ষে পাঁচটি ইউনিয়নের ৪৫টি ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি, ইমাম,শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দলের নেতা, কৃষক-কৃষাণী নিয়ে ৪০টির বেশি সভা করা হয়। ১৫ দিন আগেই রাস্তার দুই ধারে গর্ত খোঁড়ার কাজ শেষ করা হয়। আগের সারা রাত জুড়ে রাস্তার গর্তগুলোর পাশে রাখা হয় চারা গাছ ও বাঁশের খুঁটি।

সম্ভবত এটিই এক দিনে বা এক ঘন্টায় লক্ষ লক্ষ বৃক্ষ রোপণের প্রথম ঘটনা যা পরবর্তীতে অন্যদের আরো বড় বড় দৃষ্টান্ত স্থাপনে অনুপ্রাণিত করে।

ইউএনও, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ এর সবুজ ত্রিশাল (জনাব মো: আবুজাফর রিপন)
৪ মাসের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় ১ অক্টোবর, ২০১৬ এর ফাইনাল শো ডাউনের প্রস্তুতি চালাতেই ১,২০,০০০ চারা বিতরণ করা হয়। আর অক্টোবরের ১ তারিখে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ১ লাখ ৮৫ হাজার চারা বিতরণের পর ৩ লক্ষাধিক চারা বিতরণের লক্ষ্য পূরণ হয়। এজন্য অবশ্য ছুটতে হয়েছে ৪ মাস । কখনো ফেসবুকে লিখে, কখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে সভা করে, কখনো মাইকিং করে  ২৯০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা  নিশ্চিত করা হয়।

‘সবুজ ত্রিশাল’ আন্দোলনটি সফল করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। ৪ মাস ধরে যে প্রতিষ্ঠানেই চারা বিতরণ করা হযেছে, সাথে সাথে ফেসবুকে পোষ্ট দেয়া হয়েছে। একজনের ওয়াল থেকে অন্যজনের ওয়ালে শেয়ার করা হয়েছে। এতে একদিকে কাজটি প্রশংসিত হয়েছে, অসংখ্য কমেন্ট পাওয়া গেছে, অন্যদিকে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। কিন্তু মূল ঘটনা সেটি নয়। লাগানো ৩ লক্ষাধিক গাছ ‘মানুষ’ করার জন্য ‘তোমার গাছটি কেমন আছে’ নামে একটি হেলথ কার্ড প্রদান করা হয় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে। যে দেশে মানুষের হেলথ কার্ড নেই সে দেশে গাছের হেলথ কার্ড আইডিয়াটি যথেষ্ট ইনোভেটিভ। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে মাসিক প্রতিবেদন ফরম। সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য চালু করা হয়েছে একটি হটলাইন নম্বর। কার্যক্রমটি ফেসবুকে তুলে ধরার পর নীতি নির্ধারকদের তরফ থেকেও ফেসবুকে খোঁজ নেয়া, পরামর্শ দেয়া হয়েছে যেমন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সচিব মহোদয় পরামর্শ দিয়েছেন শ্রেষ্ঠ পরিচর্যাকারীকে পুরস্কৃত করা ও ‘বৃক্ষ পরিচর্যা সপ্তাহ’ পালন করা। গাছের হেলথ কার্ড নামটিও কেবিনেট ডিভিশনের সংস্কার ও সমন্বয় সচিব মহোদয়ের দেয়া।

সাবেক ডিসি, বরিশাল এর ফুল সরণি (গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান)
গত ১৫ জুলাই, ২০১৭, বরিশাল ভোলা মহাসড়কে হিরন পয়েন্ট থেকে চরকাউয়া জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ৪.৮ কিলোমিটার রাস্তার দুধারে ৪৮টি গ্রুপের ৩টি ব্লকে কৃষ্ণচূড়া, ৩০০০+ সোনালু, জারুল আর কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগিয়ে শৈল্পিক বৃক্ষরোপণের সূচনা করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক জনাব গাজী সাইফ। বরিশাল ফুল সরণি বিনির্মাণ অভিযানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন জনাব মোঃ শহিদুজ্জামান, মাননীয় বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল। সংখ্যার বিচারে বাকী ছয় তারকার লক্ষ লক্ষ বৃক্ষরোপণের তুলনায় তেমন কিছু নয় কিন্তু এমন শৈল্পিক বৃক্ষরোপণ সম্ভবত এটিই প্রথম। ৪.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের নামটিও সুন্দর ‘ফুল সরণি’। গাছগুলো টিকে থাকলে লাল, হলুদ, বেগুনী রঙের ফুলে ছাওয়া এই ফুল সরণি একদিন এদেশের একটি দর্শনীয় সড়ক হবে নিঃসন্দেহে। পরিবেশ বান্ধব বরিশাল তথা পরিবেশ বান্ধব বাংলাদেশের সৌরভ উপভোগ করতে পারবেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম।

ডিসি, চুয়াডাঙ্গা এর “সবুজ চুয়াডাঙ্গা, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ” (জিয়াউদ্দীন আহমেদ)
না এটি নেহাতই কোন স্লোগান নয়, না এটি গ্রীনেজ বুকে রেকর্ডের খাতায় নিজেদের নাম লেখানোর প্রতিযোগিতাও নয়, নয় কোন কল্পকাহিনীও। এটি হলো স্বতঃস্ফূর্ত, স্বপ্রণোদিত একটি ভাবনার বাস্তবায়ন যেখানে অধিনায়কত্ব করেছেন জেলা প্রশাসক, চুয়াডাঙ্গা জনাব জিয়াউদ্দীন আহমেদ আর টিম মেম্বার হিসাবে ছিলো চুয়াডাঙ্গার সর্বস্তরের লাখো মানুষ। মাত্র এক ঘন্টায় ৫ লক্ষ ২৫ হাজার ফলজ, বনজ, ওষধি উদ্ভিদ সাথে ২ লক্ষ ২৫ হাজার তালবীজ (সব মিলিয়ে সাড়ে সাত লাখ) রোপণ একটি অবনদ্য উদ্যোগ।

আম, পেয়ারা লেবু, কুল, নারিকেল, তাল, হরতকি, বহেরা, সেগুন, জাম, জামরুল, কদবেল ইত্যাদি গাছ সপ্তাহজুড়ে বিতরণ করা হয় চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন শহর গ্রামাঞ্চলের মানুষ, স্কুল কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক ছাত্র,ছাত্রী, কৃষান, কৃষাণী ও বাছাইকৃত জনসাধারনের মাঝে। তাদেরকে শেখানো হয়েছে গাছ লাগানো ও যত্নের কৌশল।

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখ “সবুজ চুয়াডাঙ্গা, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ” শ্লোগানে গৃহীত ঐতিহাসিক এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এখন পর্যন্ত সংখ্যার বিচারে সর্বোচ্চ।

ইউএনও, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম এর ১ ঘণ্টায় ৭ লাখ বৃক্ষ রোপণ (মোঃ রফিকুল ইসলাম)
“সবুজ ও পরিচ্ছন্ন রাজারহাট গড়ি” এই স্লোগানে গত ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখ কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৪০ হাজার শিক্ষার্থী আর লক্ষাধিক সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে ১ ঘন্টায় উপজেলার ৭ ইউনিয়নে ৬৩ প্রজাতির ফলদ, বনজ, ওষধি বৃক্ষের ৭ লাখ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

এই কর্মসূচী উদ্বোধন করে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ বলেন, একটি উপজেলায়  ১ ঘন্টায় ৭ লাখ গাছের চারা লাগানো দেশের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ ফেরদৌস খান। ইউএনও, রাজারহাট জনাব মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ের প্রত্যেক ইউনিয়নে ১ লাখ করে গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন ব্যক্তির উদ্যোগে পাশ্ববর্তী জেলা থেকে ৫ লাখ গাছের চারা সংগ্রহ করা হয়। আর ২ লাখ চারা স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা হয়। এই কর্মসূচি সফল করতে ৯ মাস বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। প্রায় ২৫ হাজার বাঁশ স্বেচ্ছায় দান করেছেন উপজেলাবাসী, যা দিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ খুঁটি তৈরি করা হয় ।

স্বাভাবিক নিয়মে এই পরিমাণ বৃক্ষরোপণ করতে প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকার প্রয়োজন। কিন্তু উপজেলাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রম এবং সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সহযোগিতায় মাত্র এক ঘণ্টায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে সেই কাজ সম্পন্ন হয়।

ইউএনও, দেলদুয়ার, টাঙ্গাইল এর “সবাই মিলে লাগাই বৃক্ষ, একদিনে আড়াই লক্ষ”, (মোঃ শাহাদত হোসেন কবির)
এসি ল্যান্ড, পবা হিসাবে জনবান্ধব ভূমি অফিস “মাটির মায়া” র জন্য দেশব্যাপী সুপরিচিত ছিলেন আগেই। বর্তমানে দেলদুয়ার উপজেলার ইউএনও জনাব মোঃ শাহাদত হোসেন কবির এর এবারের উদ্যোগ “সবাই মিলে লাগাই বৃক্ষ একদিনে আড়াই লক্ষ”। ৯ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখ উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারনের গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে দেলদুয়ার এখন সবুজের দুয়ার। এই উপজেলায় প্রায় আড়াই লাখ লোকের বাস। এ সংখ্যা ধরে মাথাপিছু একটি করে গাছ লাগানো হয়েছে। রংপুরের তারাগঞ্জ ও ময়মনসিংহের ত্রিশালে বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি তাঁদের এই কর্মসূচি হাতে নিতে প্রেরণা জুগিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সক্রিয় ব্যক্তিরা বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে যথেষ্ট প্রচারণা করেছেন।  জনপ্রতিনিধি, স্কুল, কলেজ, হাট, বাজার—এসব জায়গায় লিফলেট বিতরণ ও মাইকযোগে প্রচারণা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে। বিভিন্ন সড়কের পাশে ফলদ উদ্ভিদের সঙ্গে শোভাবর্ধনকারী গাছ নিম, জারুল, সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, শিমুল ও মহুয়া গাছের চারা সরকারিভাবে লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া নিজ নিজ বাড়িতেও চারা রোপণ করেছে সাধারণ মানুষ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল বাতেন। যখন সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দেয়, তখন সংখ্যার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে প্রকৃতিকে সবুজে রাঙিয়ে তোলার জন্য মানুষের অদম্য আকাঙ্ক্ষা ও উদ্যম। আড়াই লক্ষ কেন, আরো বড় লক্ষ্য তখন অর্জন করা সম্ভব। সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এতে অংশগ্রহণ করেছে, তাতে লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে সংখ্যাটিও আরো বড় আকার ধারণ করতে পারে।

ইউএনও, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল এর ৪ লাখ তাল বীজ ও চারা রোপণ (ইসরাত সাদমীন)
‘লাগাই তাল বৃক্ষ প্রেয়সী মির্জাপুরে, বজ্রপাতে মরণ ভীতি হারিয়ে যাক চির তরে’ এই কাব্যিক শ্লোগান নিয়ে একযোগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চার লাখ তালগাছ ও তালবীজ রোপণ করা হয় গত ১৭ অক্টোবর, ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ ইউএনও জনাব ইসরাত সাদমীনের উদ্যোগে। পরিবেশের বিপর্যয় রক্ষা ও বজ্রপাতে মানুষের প্রাণহানি কমাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে বেশি করে তালগাছের চারা ও বীজ রোপণের নির্দেশনা দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা কয়েক হাজার তালবীজ রোপণ করলেই প্রতিপালিত হলো বলে ধরে নেয়া যায় কিন্তু মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একযোগে চার লাখ তালগাছের চারা ও বীজ রোপন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়। এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন এমপি। এসময় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জনাব খান মো. নূরুল আমিনও উপস্থিত ছিলেন।

বৃক্ষ রোপণের পাশাপাশি পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরী। ত্রিশালে গাছের হেলথ কার্ড বিতরণের মাধ্যমে সেদিকেও নজর দেয়া শুরু হয়েছে। আশা করা যায় সবুজ বাংলাদেশ আরো সবুজ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি বজ্রপাতে মৃত্যু প্রতিরোধেও সফল হোক প্রিয় স্বদেশ।

এসি ল্যান্ড, অভয়নগর, যশোর, এর তাল বিপ্লবঃ লক্ষ্য আড়াই লক্ষ্য (মনদীপ ঘরাই)
বরাদ্দ ছিল আড়াই হাজার তালবীজ রোপণের। এসি ল্যান্ড জনাব মনদীপ ঘরাই এর মনে হলো একটা শূণ্য বাড়িয়ে পঁচিশ হাজার তালগাছ একদিনে রোপন করা যেতেই পারে। পরে বজ্রপাত প্রতিরোধে পুরো উপজেলায় দৃশ্যমান কিছু করে টেকসই সমাধানেএর জন্য চোখ বন্ধ করে দিলেন আরেকটা শূণ্য বাড়িয়ে। একদিনে আড়াই লাখ!!!!

এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ পোষ্ট দেয়া হয় ফেসবুকে। সাড়া পাওয়া যায় দারুণ। বিশ্বাস জন্মায় ফেসবুকের মাধ্যমে অভয়নগরেও সামাজিক আন্দোলন হবে। এরপর দিন-রাত ভুলে জনসংযোগ। বিন্দু বিন্দু করে এগিয়ে চলে বৃত্ত গড়ার গল্প।

সংগ্রহ যখন দুই দিনে পয়ত্রিশ হাজার তখন ফেসবুক পোস্টে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক শ্রদ্ধেয় আবুল কালাম আজাদ স্যার। উৎসাহ ও সাহস কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এরপর স্কুল থেকে স্কুলে ছুটে বেড়ানো। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোই বদলে দিয়েছে দৃশ্যপট। ১১৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই সংগ্রহ করেছে ১ লক্ষ তিন হাজার তালের বীজ।

ফেসবুক ক্যাম্পেইন আর ৮ দিনের দৌড়ঝাঁপে ১৬ সেপ্টেম্বর রোপিত হল ৩ লাখ ২১ হাজার ৪৯৪ টি তালের বীজ। একদিনে। একযোগে। বাকি ১ লাখ তালের বীজ রোপণের জন্য বিতরণ করা হলো, যাতে ঘরের আঙ্গিনাও বাদ না যায়। এই ঘটনায় একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত প্রোফাইলে নির্দেশনামূলক কমেন্ট করে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক যেভাবে উজ্জীবিত করেছেন তা নজিরবিহীন।

 

Categories: উদ্ভাবন