আজ- মঙ্গলবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী       ‘পরিবর্তন চাই’ এর চার বছর       নামে কী বা আসে যায়       লৌহজং ‘সামাজিক আন্দোলন’ – আমার সুখ স্মৃতি       `একাত্তরের জননী’র সন্তানেরা       মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       বন্যার্তদের জন্য দান নয় ঋণ শোধের আয়োজন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস    

নামে কী বা আসে যায়

জন প্রশাসনে সিটিজেন জার্নালিস্টদের সবচেয়ে আপন মানুষ এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক মহোদয় গত ২২ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখ কোনো কোনো জেলায় ‘ সিটিজেন জার্নালিস্ট’ নামটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় তা নিরসনের জন্য নতুন নাম প্রস্তাবের আহবান জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। এই লেখার সূত্রপাত সেখান থেকেই।

এখানে দুটো বিষয় আছে। প্রথমটি হলো গ্রুপের নাম এবং দ্বিতীয়টি হলো গ্রুপে যারা কাজ করবে তাদের নাম বা পরিচয়।

গ্রুপের নামঃ
জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গত কয়েক বছর ধরে বেশ কয়েকটি জেলায় সিটিজেন জার্নালিজমের চর্চা চলছে।  ফেসবুকে বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের problem and prospect (২৭টি), citizen’s voice (৮টি), Citijen Journalist Group (৭টি), Citizen Journalism (৪টি), Express (১টি), নাগরিক ভাবনা (২টি) নামের বিভিন্ন গ্রুপে এবং জেলা প্রশাসন (২৯টি), DC Office (২০টি) নামের বিভিন্ন পেজে  নাগরিকরা এখন নানা সমস্যা তুলে ধরতে পারছেন। সমাধানও পাচ্ছেন।  জেলায় জেলায় এমনকি উপজেলায়ও সিটিজেন জার্নালিস্ট টিম গঠিত হচ্ছে। এভাবে জেলখাল, লৌহজং নদী, ভৈরব নদ, ইছামতি নদী প্রভৃতি পুনরুদ্ধারের মতো বড় বড় কাজে হাত দেয়া হয়েছে। এক জেলার সিটিজেন জার্নালিস্টরা অন্য জেলায় গিয়েও অবদান রাখতে শুরু করেছেন।

যেহেতু Journalist ও Journalism শব্দটি নিয়ে আপত্তি কাজেই গ্রুপের নাম হিসাবে ইংরেজীতে (সাথে বাংলাও থাকতে পারে) Citizen’s Voice of …….. (District name) রাখা যেতে পারে। তবে গ্রুপগুলোর নাম একরকম হওয়া বাঞ্ছনীয়। শুনেছি ৫ হাজারের বেশী সদস্য হয়ে গেলে গ্রুপের নাম আর পরিবর্তন করা যায় না তাহলে টাঙ্গাইল সিটিজেন জার্নালিস্ট গ্রুপ এর কি উপায় হবে বুঝতে পারছি না কারণ তাদের সদস্য সংখ্যা ইতোমধ্যে ৩৯০০০+। সিটিজেন জার্নালিস্টদের জাতীয় গ্রুপ Citizen Journalism Bangladesh যার সদস্য সংখ্যা ইতোমধ্যে ১১০০০+ তার বিষয়েও আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তখন এই জনপ্রিয় ও কার্যকর গ্রুপটি বন্ধ করে দিয়ে Citizen’s Voice Bangladesh  নামে একটি নতুন গ্রুপ ওপেন করতে হবে। ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর জন্য সিটিজেন জার্নালিস্টদের সিটিজেন ভলান্টিয়ার বা অন্য কিছু বলা হলে গ্রুপের নামের সাথে Journalist ও Journalism শব্দগুলো রাখা ঠিক হবে না। আর রাখলে গ্রুপের এ্যাকটিভ সদস্যরা নিজেদের সিটিজেন জার্নালিস্টই ভাববে।

গ্রুপের সদস্যদের নাম/পরিচয়ঃ
সারা পৃথিবীতে সিটিজেন জার্নালিস্ট নামটি প্রচলিত ও বিপুলভাবে জনপ্রিয়। আমার জানা মতে বরিশালে সিটিজেন জার্নালিস্টদের আইডি কার্ড বিতরণের পর কিছু কিছু জার্নালিস্ট আপত্তি জানান। সম্ভবত সেজন্যই এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক মহোদয় বিতর্ক ও সংঘাত এড়াতে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন। যমুনা টিভির ‘মাই রিপোর্ট’ প্রোগ্রামে সিটিজেন জার্নালিস্টদের ‘নাগরিক সাংবাদিক’ বলা নিয়ে কোনো আপত্তির কথা শুনিনি। সরকারী প্রাইমারি স্কুলের  ‘ক্ষুদে ডাক্তার’ কার্যক্রম নিয়ে ডাক্তারদের আপত্তির কথা শোনা যায়নি। তবে সিটিজেন জার্নালিস্টদের ‘সিটিজেন ভলান্টিয়ার’ বা অন্য কিছু বলা হলে সমস্যার সমাধান হয় তাহলে তা করাই উচিৎ। কিন্তু জার্নালিস্ট বা সাংবাদিকদের যেজন্য এদেশে সাংঘাতিক বলা হয় এবং তাদের কেউ কেউ যে ধরণের কাজে জড়িত থাকেন তাতে সমস্যার সমাধান নাম পরিবর্তনে হবে বলে আশা করা কঠিন। আর নাম পরিবর্তনে সমস্যার সমাধান না হলে পরবর্তিতে কি পরিবর্তন করা হবে সেটিও আগে থেকে ভেবে রাখা দরকার।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিটিজেন জার্নালিস্টদের আইডি কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা থাকলে যে নামেই তা দেয়া হোক না কেন কার্ড সর্বস্ব জার্নালিস্টদের আপত্তি থাকবেই। আর আইডি কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা না থাকলে  ‘সিটিজেন ভলান্টিয়ার’ বা ‘সিটিজেন রিপোর্টার’ যে নামই দেয়া হোক না কেন মুখে ‘সিটিজেন জার্নালিস্ট’ হিসাবে কেউ পরিচয় দিলে তা আটকানো কঠিন। এক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। মুখে মুখে ম্যাট্রিক, ইন্টারমিডিয়েট, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল নামগুলো যেমন এখনও ব্যবহৃত হয়।

সিটিজেন জার্নালিস্ট এর বদলে ‘সিটিজেন ভলান্টিয়ার‘ নামটির বিষয়ে বেশী প্রস্তাব আসছে। কিন্তু ‘সিটিজেন ভলান্টিয়ার’ নামের মাধ্যমে সিটিজেন জার্নালিস্টদের কাজের প্রকৃতিটি ঠিক ফুটে ওঠেনা। আমি নাম পরিবর্তনের পক্ষে নই কিন্তু যদি তা করতেই হয় তাহলে ‘সিটিজেন রিপোর্টার’ নামটি প্রস্তাব করছি।

তবে এখানে যে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচ্য হওয়া উচিৎ তা হলো কয়টি জেলায় কতোজন জার্নালিস্ট আপত্তি বা বিরোধিতা করেছেন। দুই একটি জেলায় ৭/৮ জন জার্নালিস্টের বিরোধিতার কারণে বিশ্বব্যপী সমাদৃত নামটি পরিবর্তন করার আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা নীতি নির্ধারকগণ নিশ্চয়ই বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

Categories: সিটিজেন জার্নালিজম