আজ- রবিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       বন্যার্তদের জন্য দান নয় ঋণ শোধের আয়োজন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস       দেশের প্রথম ‘স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং’ সম্মেলন       আদালতের ভ্রমণ বর্জন       আবহাওয়া অধিদফতরের এ্যাপে বজ্রপাতের পূর্বাভাস ও করণীয়       WSIS Prizes 2017 এ ভোট দেয়ার ৭ টি দাপ্তরিক নজির       RMP’র মাদক ও জঙ্গী বিরোধী উদ্ভাবন ও অন্যান্য    

পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন

জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো পাবনায় যোগদানের পর থেকে প্রায় এক বছর ধরে শহরের ভিতর দিয়ে এঁকেবেকে বয়ে যাওয়া ইছামতি নদী পুনরুদ্ধারে ঘর গোছানো কাজ চলছে। গত প্রায় ৩০ বছর ধরে পানির স্বল্পতা, দখলের দাপট আর আবর্জনার অত্যাচারে নদীটি প্রায় নর্দমায় পরিণত হয়েছে। বরিশালে জেলখাল, টাঙ্গাইলে লৌহজং এবং বাগেরহাটে ভৈরব পুনরুদ্ধারে সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কাজেই পাবনা কেন পিছিয়ে থাকবে?

গত ২২ অাগষ্ট, ২০১৭ তারিখ জেলা প্রশাসকের ডাকে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে ইছামতি নদীর পাড়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে ইছামতি নদী উদ্ধারে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়। সকাল ১০ টায় পাবনা শহরের খেয়া ঘাট ব্রিজের উপর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা অবৈধ স্থাপনা এবং অপরিকল্পিত ব্রিজগুলো অপসারণ করে নদী খননের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে পানি প্রবাহের জোর দাবী জানান। এরপর ইছামতি নদী বাঁচাও শ্লোগানকে সামনে রেখে নৌ-র‌্যালিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, চেম্বার অফ কমার্স, বিসিক, জেলা তথ্য অফিস, উপজেলা মৎস্য অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস, রোটারী ক্লাব অব পাবনা, প্রেসক্লাব, পাবনা সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, ক্রাইম রিপোর্টার্স ফাউন্ডেশন পাবনা . গ্রীণ সিটি , পাবনা সংবাদপত্র পরিষদ, কৃষকলীগ, লারনার্স অর্গানাইজেশন , খয়ের স্মৃতি স্কুল এন্ড কলেজ , ইমাম গাযযালী স্কুল এন্ড কলেজ, শহীদ আহমেদ রফিক উচ্চ বিদ্যালয়, পাইওনিয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, বাঁচতে চাই, স্বাধীনতা ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, প্রত্যাশা, পড়শী, লতিফ রিয়েল এস্টেট লিঃ, ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং সিটিজেন জার্নালিস্টদের সমন্বয়ে নৌ-র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, এনজিও প্রতিনিধিগণ, মানবাধিকার কর্মী , সুশিল সমাজের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, পরিবেশ কর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহন করেন। দখলদারদের রক্তচক্ষু ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে ইছামতি উদ্ধার অভিযান এবার শুরু হলো বলে পাবনাবাসী মনে করছে। জেলা প্রশাসন, সিটিজেন জার্নালিস্ট, ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলন কমিটিসহ অংশগ্রহনকারী সকল ব্যক্তি, সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠানকে অভিনন্দন। এমপি মহোদয়কে যুক্ত করাটাও ভাল হয়েছে।

মূলত ইছামতি পুনরুদ্ধারে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সিটিজেন জার্নালিস্টদের জন্য Citizen’s Voice, Pabna নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয়। গ্রুপটি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধান, হতদরিদ্রদের সহায়তা প্রদান, অসুস্থদের চিকিৎসা ও বিভিন্ন ভাতা প্রদান করে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা খাতুন এর নিয়মিত দেখভালের মাধ্যমে। এজন্য জেলা প্রশাসক মহোদয় কর্তৃক তিনি পুরস্কৃতও হয়েছেন।  সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, পাবনা জনাব মাকসুদা সিদ্দিকার নিরন্তর উৎসাহ প্রদানের কথা না বললে অন্যায় হবে। ৫৭০০০+ সদস্যের এই গ্রুপটি এখন দেশের তৃতীয় বৃহত্তম সিটিজেন জার্নালিস্ট গ্রুপ।

একসময় নদীকে ঘিরে নগরী গড়ে উঠতো। এখন নগরী নদীকে উদ্ধার করতে ছুটছে। বাঁচার তাগিদে। পরিবেশ রক্ষার তাগিদে। এই কাজটি শাসনের লাঠি দিয়ে না করে সচেতনতার বাঁশি বাজিয়ে করলে টেকসই হয়। বরিশালে পোস্টার, লিফলেট বিলি করে, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলে, ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আহবান জানিয়ে স্বার্থকভাবে সম্পন্ন করে পুরো দেশের সামনে অনবদ্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান। এরপর টাঙ্গাইলের তখনকার জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ মাহবুব হোসেন মানববন্ধন, গান রচনা, চিত্র প্রদর্শনী, লিফলেট বিতরণ করে জনগণকে লৌহজং পুনরুদ্ধারে সম্পৃক্ত করেন। বাগেরহাটের ভৈরব পুনরুদ্ধারে জেলা প্রশাসক জনাব তপন বিশ্বাস জনসচেতনতামূলক অন্যান্য কাজের পাশাপাশি পৌরসভাকে দারুণভাবে সম্পৃক্ত করে বেশ দ্রুততার সাথে মূল কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পাবনার জেলা প্রশাসক জনাব রেখা রানী বালো এবার আমাদের জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে নতুন একটি উদ্ভাবনী মাত্রা যোগ করলেন গত ২২ আগষ্ট ইছামতি নদীতে নৌ-র‌্যালি করে।

পাবনা শহরের মধ্যে ইছামতির দৈর্ঘ্য ৭ কিলোমিটারের মতো কিন্তু নৌ-র‌্যালি ২ কিলোমিটারে আটকে গেল। এমন নীচু ব্রিজ যে তার নীচ দিয়ে নৌকায় চড়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ৩০ বছর পর হঠাৎ বন্যায় স্লুইস গেট খুলে দেয়ায় ইছামতিতে পানি প্রবাহিত হতে শুরু করলে পাবনাবাসীর মাঝে ইছামতির বুকে নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন তৈরী করা, অবৈধ দখলদারদের উপর মানসিক চাপ তৈরী করা এবং অপরিকল্পিত নীচু ব্রিজগুলো অপসারণে জনমত তৈরী করার তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে হঠাৎ করেই জেলা প্রশাসক মহোদয় এই অভিনব নৌ-র‌্যালির আয়োজন করেন। সমস্যা আরো আছে। আতাইকুলা বাঁধের এপাড়ের ইছামতি রুগ্ন কিন্তু ওপাড়ের ইছামতি স্বাস্থ্যবতী। শরীরের এক অংশ রুগ্ন আর অন্য অংশের স্বাস্থ্য ভাল হলে তাকে যেমন স্বাস্থ্য না বলে বিকৃতি বলা হয় ইছামতির অবস্থাও তেমন।

নৌ-র‌্যালি তো হলো। এবার নদীতে ড্রেজিং, দূষণ রোধ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ এর কাজ করতে হবে। ইতোমধ্যে ড্রেজিং এর বিষয়ে পৌরসভা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে বসা হয়েছে। এরপর দূষণ রোধে উঠে দাঁড়াতে হবে। তারপর অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য চলতে শুরু করতে হবে।

Categories: উদ্ভাবন