আজ- শনিবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৭ ইং, ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী       ‘পরিবর্তন চাই’ এর চার বছর       নামে কী বা আসে যায়       লৌহজং ‘সামাজিক আন্দোলন’ – আমার সুখ স্মৃতি       `একাত্তরের জননী’র সন্তানেরা       মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       বন্যার্তদের জন্য দান নয় ঋণ শোধের আয়োজন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস    

অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া

ডাঃ অনিমেষ মজুমদারের ফেসবুক লাইফ বেশ কয়েক বছরের কিন্তু অধ্যক্ষ অনিমেষ মজুমদারের মাত্র কয়েক মাস। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলা উচিৎ ছিল। কিন্তু চাকুরী জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও ভার কমাতে না পারা হেতু প্রাপ্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ের কথা ভিতরে লিখে শিরোনামকে অন্তত ভারমুক্ত রাখতে ইচ্ছে হলো।

রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের ভার প্রাপ্ত হয়েছিলাম  ৩১ অক্টোবর, ২০১৬তে। যোগদানের দিনই  ছাত্রীনিবাসে র‌্যাগিং এর অনভিপ্রেত ঘটনার কারণে সমস্যায় পড়ি। বহু চাপ ছিল তদন্ত রিপোর্ট আলোতে না আনার জন্য। সাহসের সাথে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করি। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসাবে রংপুর মেডিকেল কলেজকে বাতিল করা হয়েছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন নিয়ে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসাবে সুষ্ঠভাবে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করি। কিন্তু অধ্যক্ষ অনিমেষের দাপ্তরিক কাজে সোশাল মিডিয়ার ব্যবহার সাহসের সাথে শুরু হয়নি।

ভয়ে ভয়ে শুরু

চার মাসের মাথায় সোশাল মিডিয়ার ভার টের পেলাম ‘পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন বাংলাদেশ’ ফেসবুক গ্রপে রংপুর মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে এমবিবিএসের মেয়েদের রুম বরাদ্দ দেয়া হয় কিন্তু বিডিএসের মেয়েদের দেয়া হয় না এমন একটি পোস্ট এবং সেই পোস্টে নীতি নির্ধারকদের কমেন্ট সূত্রে। বিশেষ করে সচিব মহোদয় যখন জেনেভা থেকে প্রথমে এসএমএস ও পরে ফোন করলেন তখন খানিকটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমি তখনও এই গ্রুপের সদস্য ছিলাম না। পরের দিন সদস্য হয়ে ঐ পোস্টে প্রথম কমেন্ট করলাম। রমেক ডেন্টাল ইউনিটের প্রধান ডাঃ আশিক রায়হানকে দিয়েও কমেন্ট করালাম। সাথে কেউ থাকলে ভয় কমে এই ভরসায়।

তারপর কয়েকদিনের মধ্যে ভাইস প্রিন্সিপালের পরিত্যাক্ত কোয়ার্টারটি সংস্কার করে যখন ডেন্টাল ইউনিটের মেয়েদের সেখানে তুলে দিলাম তখন এই গ্রুপটির প্রতি ভয় দূর হয়ে ভালবাসা তৈরী হলো। সচিব বা ডিজিকে পত্র প্রেরণ করা যায়, রাজধানীতে গিয়ে দেখা করা যায়, জরুরী প্রয়োজরে ফোনও করা যায় কিন্তু সোশাল মিডিয়ায় দিনের মধ্যে কয়েকবার মত বিনিমিয় করা যায়, নির্দেশনা পাওয়া যায় জানা ছিল না। দাপ্তরিক কাজে সোশাল মিডিয়াকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের বিষয়টির সাথে সেই আমার প্রথম পরিচয়।

সোশাল মিডিয়া সংলাপ

ফেসবুকের PSIB (Public Service Innovation Bangladesh) গ্রুপে স্বাস্থ্য বিভাগের আরো কয়েকটি পোস্ট বেশ আলোচিত হওয়ার প্রেক্ষিতে এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক স্যার সিদ্ধান্ত নিলেন। গত ২৩ মার্চ সেই সোশাল মিডিয়া সংলাপে স্বাস্থ্য পরিচালক, পাবলিক হাসপাতালের পরিচালক, পাবলিক মেডিকেল কলেজের অ্যধক্ষ, সিভিল সার্জন এবং সিটিজেন জার্নালিস্টগণ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন। মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে সচিব ও ডিজিকে পাশে নিয়ে সংলাপটি সঞ্চালনা করেন। বিটিভি ও ফেসবুক লাইভে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় সংলাপটি। ফেসবুক লাইভে ৬৫,০০০+ মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই সংলাপে যুক্ত হন এবং প্রশ্ন ও মন্তব্য করেন।

অংশগ্রহণকারী সকলেই একটু শংকিত ছিলেন শুরুতে। না জানি কোন জবাবাদিহিতার মধ্যে পড়তে হয়। কিন্তু গুমোট পরিবেশটি এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক নিমেষেই দূর করে দিলেন এই বলে যে, ‘আমরা আজ জানবো কোথায় কোন ভাল কাজগুলো হয়েছে, ভাল কাজ দিয়ে আমরা মন্দকে দূরিভূত করবো’। আর সচিব মহোদয় বিশেষভাবে আমাকে রমেক ডেন্টাল ইউনিটের সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য ধন্যবাদ দিলেন। এমন ধন্যবাদ চাকুরী জীবনে এই প্রথম।

ডেন্টাল ইউনিটের ওটি বরাদ্দ

প্রথমবারের মতো ডেন্টাল বিভাগকে নিয়মিতভাবে অপারেশন করার জন্য সপ্তাহে একদিন (শনিবার) নিদির্ষ্ট করে দিতে পারলাম এই হাসপাতালে ওটি কমপ্লেক্সে। জনগন এতে সরাসরি উপকৃত হবেন। আশা করি রংপুর মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের ছাত্র ছাত্রীরা ব্যবহারিক শিক্ষা লাভ করবে আরো বেশী করে।

রমেক ডে

আনন্দ উৎসব এর মধ্য দিয়ে গত ৩০ মে, ২০১৭ তারিখ ৪৭তম রংপুর মেডিকেল কলেজ ডে উৎযাপিত হলো। সকল প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে প্রানবন্ত এই আয়োজনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, র‌্যালী এবং কেক কাটার মাধ্যমে দিবসটি কে পালন করা হয়। প্রথমবারের মত ডেন্টাল ইউনিট এই আয়োজনে সামিল হয়। আমি ডেন্টাল ইউনিটে গিয়ে কেক কেটে তাদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করি এবং আয়োজনের মূল স্রোতের সাথে তাদের যুক্ত করি।

ডেন্টাল ইউনিটের শ্রেণীকক্ষ সংকট

রমেক ডেন্টাল ইউনিটের ক্লাস রুম পরিদর্শন করতে যাই। শিক্ষার্থীরা তাদের শ্রেনীকক্ষের তীব্র সংকটের কথা জানালে তাৎক্ষনিক ভাবে ফার্মাকোলজি বিভাগের একটি কক্ষ সাময়িক ভাবে তাদের ক্লাস রুম হিসাবে ব্যাবহারের ব্যাবস্থা করি। এর পর হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পাই তাদের ক্লিনিক্যাল বিভাগ গুলোর জন্য কোন কক্ষ নাই। একটি মাত্র রুম কে ক্লিনিক্যাল রুম হিসাবে ব্যাবহার করে সেখানে ফাইনাল ইয়ার, ইন্টার্ন চিকিৎসক সহ সকলে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। অগুনিত রোগী কিন্তু জায়গা না থাকায় সবাইকে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। এর ফলে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ ও ব্যহত হচ্ছে। একটি এসি না থাকার কারনে ডেন্টাল বিভাগের নিজস্ব ওটি চালু করা যাচ্ছে না। ডেন্টাল ভবনটি পাঁচ তলা  পর্যন্ত ভার্টিক্যাল এক্সটেনশন হলে শ্রেনী কক্ষের সংকট সমাধান হবে এবং ডেন্টাল ইউনিটের দশটি বিভাগ পুর্নাংগ ভাবে চালু করা যাবে যার মাধ্যমে বিডিএস শিক্ষার্থীরা তত্ত্বীয় ও ব্যাবহারিক শিক্ষায় প্রশিক্ষিত হয়ে জনগনকে ভালোভাবে সেবা দিতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।

মহাপরিচালক ডিজিএইচএস উৎসাহিত করলেন এভাবে – ‘‘অধ্যাপক অনিমেশ মজুমদারের প্রোএকটিভ ভূমিকাকে অন্যদের অনুকরণ করা উচিত বলে মনে করি। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সাথে একাডেমিক বিষয়, সমস্যা ও সমাধান নিয়ে নিয়মিত মত বিনিময়ের প্রথা চালু করতে হবে। যে কোন সমস্যাই সমাধান করা যায়। ভবনের উর্ধমুখী সম্প্রসারণের স্বপ্নটিও পূরণ হবে। সকল চিকিৎসা শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হোক’’।

ছাত্রীনিবাসের ফ্যান

রংপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ মহোদয়ের বাসভবনকে সংস্কার করে বিডিএস ছাত্রীদের অস্হায়ী ছাত্রীনিবাস হিসাবে ব্যবস্হা করি এবছরের ফেব্রুয়ারী মাসে। তখন শীতকাল ছিল তাই ফ্যানের অভাব বোঝা যায়নি।। বর্তমানের তীব্র গরমে ফ্যান না থাকায় ওদের কষ্ট হচ্ছিল দেখে বারংবার গনপৃর্ত বিভাগের ইএম শাখাকে তাগিদ দেই। শেষে বলি সত্বর ফ্যান না দিলে আমার রুমের ৬টি ফ্যান খুলে ওদের রুমে দিয়ে দিবো আর ফেসবুকে পোস্ট করবো। ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে ফ্যান খুলেও ফেলি। কিন্তু সেগুলো লাগানোর আগেই ফ্যানের ব্যবস্থা হয়ে যায়। বুঝলাম সরকারী দপ্তরগুলো এখন ফেসবুককে আমলে নিয়ে কাজ করে।

 ইন্টার্ন ব্রিফিং (এমবিবিএস)

রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে সদ্য শেষপর্ব এম বি বি এস পাশ করা নবীন ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে নৈতিকতা, শিষ্টাচার, মানবতা ও ধৈর্যশীল হয়ে আজ থেকে হাসপাতালে চিকিৎসক হিসাবে কাজ করে অসহায় রোগীদের চিকিৎসা দান করার অংগীকার করালাম ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে মিষ্টিমুখও করালাম। রংপুর মেডিকেল কলেজে এরকম অনুষ্ঠান আজই প্রথম। সারাদেশে কোথাও আমি এরকম ব্রিফিং এর কথা শুনিনি। এ সম্পর্কে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মহোদয়ের মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য-

‘‘সব মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষগণ এটি অনুসরণ করতে পারেন। খুব বড় কিছু নয় কিন্তু বিশেষ মুহূর্তের কিছু কথা, একটু উষ্ণ ভালবাসা একটি জীবন পাল্টে দিতে পারে। ইন্টার্ন ডাক্তারগণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বই শুধু পালন করেন না প্রকৃত প্রস্তাবে এই সময়টি তাদের ভবিষ্যত নির্ধারণ করে দেয়

। সুতরাং এই শুভ মুহূর্তে শিক্ষকগণের উপদেশ এবং দিক নির্দেশনা সারাজীবনের পাথেয় হতে পারে অনেকের জন্য’’।

ইন্টার্ন ব্রিফিং (বিডিএস)

বিডিএসের ছাত্র-ছাত্রীরা একটু হীনমন্যতায় ভোগে বা আমরা ভোগাই। তাই এবার সদ্য বিডিএস পাশ করা নবীন চিকিৎসকদের ফুল ও মগ উপহার দিয়ে উৎসাহিত করলাম। “শিক্ষা ও প্রশিক্ষনের জন্য এসো ও সেবার জন্য যাও” এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে আজ থেকে ওরা সেবাদান করবে বলে অংগীকার করলো। নবীন ডেন্টাল চিকিৎসকদের নিয়ে এরকম উৎসাহ ব্যাঞ্জক অনুষ্ঠান এই কলেজে এই প্রথম (সম্ভবত দেশেও প্রথম)। এজন্য ডেন্টাল বিভাগ কৃতজ্ঞতা জানালো আমাকে।

বিদেশী শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ডিন মহোদয়ের প্রতিনিধি হিসাবে রংপুরের প্রাইম মেডিকেল কলেজ ও কমিউনিটি মেডিকেল কলেজের প্রায় পাঁচশো বিদেশী শিক্ষার্থীর সাথে মতবিনিময় করেছি। তাদের সমস্যা ও চাহিদা বুঝতে চেষ্টা করেছি যেন রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের মতো কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনার মুখোমুখি আর হতে না হয়।

বিডিএস ছাত্রীদের ছাত্রীনিবাসে সিট বরাদ্দ

গত ২৭ মে, ২০১৭ তারিখে রংপুর মেডিকেল কলেজে প্রথমবাবের মত বিডিএস ছাত্রীদের শহীদ মাহবুব হোসেন ছাত্রীনিবাসের রুমে সিট বরাদ্দ করা হলো। বিডিএস ৪র্থ (৩য় ব্যাচ) ও ৩য় (৪র্থ ব্যাচ) বর্ষের ছাত্রীদের বরাদ্দ দেয়া হলো। ৩০ জানুয়ারী যে পোস্টের মাধ্যমে এই PSIB ফেসবুক গ্রুপে আমার প্রবেশ সেখানে ওয়াদা করেছিলাম আগামীতে বিডিএসের মেয়েদের জন্য সিট বরাদ্দ দেব। চার মাসের মাথায় সেই ওয়াদা পূরণ করতে পেয়ে নিশ্চয়ই উৎসাহিত হবে।

প্রাইভেট মেডিকেল কলেজকে ওয়ার্কশপে যুক্ত করা

গত ৩১ মে ২ দিনের ‘Awarnes on Research activities’ ওয়ার্কশপে রমেক এর শিক্ষকদের পাশাপাশি রংপুরের ৪টি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের ২জন করে মোট ৮জন শিক্ষককে প্রথমবারের মতো যুক্ত করে ভাল লাগছে। ওয়ার্কশপে DGHS এর পরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) মহোদয় উপস্থিত ছিলেন।

পরিচ্ছন্ন রমেক

সিসি ক্যামেরা বেষ্টিত বৃহত পরীক্ষার হল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লাইব্রেরী আর টব সজ্জিত বারান্দায় রমেক এখন আগের চেয়ে অনেক পরিচ্ছন্ন। এসব তো ভেতরের বিষয়। বাইরের সাম্প্রতিক পরিচ্ছন্নতা আরও গুরুত্বপূর্ণ। চারপাশের যে জঙ্গলের কারণে ছাত্রীনিবাসে একসময় সাপ দেখা যেত তার জায়গায় এখন সব্জী বাগান। ঘুটঘুটে অন্ধকারের জন্য যেসব জায়গায় একসময় ছিনতাই হতো এখন সেখানে আলো ঝলমল পরিবেশ।

সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে মোটিভেশন

রংপুর মেডিকেল কলেজের ‘পন্চম বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীরা সকালের ক্লাস করছে না কারণ তাদের নির্ধারিত লেকচার গ্যালারীতে এসি নষ্ট হয়েছে। কিন্তু কথা হলো এই না করা ক্লাসগুলো ওরা জীবনে আর পাবে না। আমাদের সময় কোনো ক্লাসে এসি ছিলো না। আমি নিজেও স্ট্যান্ড ফ্যান দিয়ে অফিস করছি। গরমে কষ্ট হবে তবু কাজ করে যেতে হবে, ক্লাশ করতে হবে – এই প্রত্যাশার কথা জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেই। ঐ পোস্টে রমেক এর অনেক প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী মন্তব্য করেন যারা এখন প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক। সবমিলিয়ে ক্লাস না করতে চাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের উপর একটি সামাজিক চাপ সৃষ্টি হয়। পরেরদিন প্রায় অর্ধেক ছাত্র-ছাত্রী ক্লাস করতে আসে। সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ এখন যথেষ্টই প্রচলিত। কিন্তু সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে ছাত্র-ছাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ বা মোটিভেশন প্রদান বোধহয় এটিই প্রথম।

শেষের কথা

সরকারী চাকুরী থেকে আমার অবসর গ্রহনের দিন আগামী ২৪ অক্টোবর, ২০১৭। নীতি নির্ধারকদের যদি মনে না হয় আমার চাকুরীকাল বৃদ্ধি করা প্রয়োজন তাহলে আর মাত্র ৫ মাস। সীমিত সামর্থের মধ্যে আমি বাকী সময় যতটুকু সম্ভব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাবো। শুধু চাকুরীর দায়িত্ব মনে করে নয় মানসিক তৃপ্তির জন্যই করে যাবো। চেষ্টা করছি একটি কিডনী ওয়ার্ড চালু করার। সকলের আন্তরিক সহযোগীতা ও দোয়া চাই।

সব শেষে সকল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও হাসপাতালের পরিচালকগণকে অনুরোধ করবো এই ‘পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন বাংলাদেশ’ ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হতে। সোশাল মিডিয়ায় সমস্যা ও সফলতা তুলে ধরতে। নীতি নির্ধারকদের সাথে ফলপ্রসু যোগাযোগ স্থাপনের এমন সুযোগ আর নেই।

লেখকঃ ডাঃ অনিমেষ মজুমদার, অধ্যক্ষ, রংপুর মেডিকেল কলেজ

 

Categories: আপনাদের লেখা