আজ- শনিবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৭ ইং, ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী       ‘পরিবর্তন চাই’ এর চার বছর       নামে কী বা আসে যায়       লৌহজং ‘সামাজিক আন্দোলন’ – আমার সুখ স্মৃতি       `একাত্তরের জননী’র সন্তানেরা       মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       বন্যার্তদের জন্য দান নয় ঋণ শোধের আয়োজন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস    

দেশের প্রথম ‘স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং’ সম্মেলন

গত ২১ মে, ২০১৭ রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হলো দেশের প্রথম স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং সম্মেলন। রাজশাহী মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কায়ছার রহমান চৌধুরী অডিটরিয়ামে কমিউনিটি পুলিশিং এর আরেক ধাপ অগ্রগতি স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হলো যা সারা দেশেই বিশেষ করে মাদক ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে অনুকরণীয় হতে পারে।

কমিউনিটি পুলিশিং কি এই প্রশ্নের উত্তরে আব্রাহাম লিংকনের অমর উক্তির (democracy of the people, for the people, by the people) সাধে মিলিয়ে বলা যেতে পারে Policing of the community, for the community, by the community। জনগণের সাথে পুলিশের সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই কমিউনিটি পুলিশিং এর জন্ম খোদ যৃক্তরাষ্ট্রে। অনেক উন্নত দেশেই কমিউনিটি পুলিশিং আছে যেখানে ‘জনতাই পুলিশ, পুলিশ্ই জনতা’। এই কমিউনিটি পুলিশিং দেশের অন্যান্য স্থানের মতো রাজশাহীতেও ছিলো কিন্তু স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং ও তার সম্মেলন আরএমপির বর্তমান কমিশনার জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম এর নিজস্ব উদ্ভাবন। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ব্যক্তিদের মধ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি সীমাবদ্ধ ছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এর সাথে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে প্রাথমিকভাবে রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট, সরকারী মহিলা কলেজ এবং নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজে গঠন করা হয়েছে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি। সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের বাইরে রাজশাহী সার্ভে ইন্সটিটিউট, মহিলা কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নার্সিং ইন্সটিটিউট এমনকি মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরাও অংশ নিয়েছে।পর্যায়ক্রমে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়। ইতোমধ্যে নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, শাহমখদুম মেডিকেল কলেজ, বারিন্দ মেডিকেল কলেজসহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ ও মাদকবিরোধী সমাবেশের আয়োজন বেশ ফলপ্রসু হয়েছে। আগামীতে নিশ্চয়ই মেডিকেল কলেজ, সিটি কলেজ, বরেন্দ্র কলেজ, শাহ মখদুম কলেজ প্রভৃতি প্রতিষ্টানেও এই কার্যক্রম বিস্তৃত, ব্যাপকভাবে আলোচিত এবং প্রশংসিত হবে।

ছাত্র সমাজ একটি দেশের প্রাণ, ভবিষ্যত। তারা যদি অন্ধকারের পথে যেতে থাকে তাহলে দেশের ভবিষ্যতও অন্ধকারাচ্ছন্ন হতে বাধ্য। রাজশাহী সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মাদক এখানে তুলনমূলকভাবে সহজলভ্য। জঙ্গীবাদী তৎপরতাও এখানে বেশী চোখে পড়ে। জঙ্গীবাদ ও মাদক এই দুই অভিশাপ থেকে উত্তরণের একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসাবে ‘স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং’ ব্যাপক আশাবাদ সৃষ্টি করেছে।

শিক্ষানগরী রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরাও জঙ্গীবাদের মতো দেশ বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িয়েছে। জিহাদের নামে কেউ কেউ হিজরত মনে করে গোপনে দেশ ত্যাগও করেছে। শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মাদকের মতো জীবন বিধ্বংসী নেশায় জড়িত। অনেকেই নানা সামাজিক অপরাধে জড়াচ্ছে। এসব মেধাবী শিক্ষার্থীদের ধ্বংসের পথ থেকে টেনে আলোর পথে আনতেই রাজশাহীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং’ কার্যক্রমের শুরু। আশা করা যায় এর মাধ্যমে ছাত্র সমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং তাদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা কমবে।

ইতোমধ্যে স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট “Peace building Youth: Preventing violent Extremism” সেমিনার আয়োজন করেছে। রাজশাহী কলেজ ও সরকারী মহিলা কলেজ ইউনিট ব্লাড ডোনার্স ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছে।

জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম আশা প্রকাশ করে বলেন ছাত্র-ছাত্রীদের পুলিশি কাজে অংশগ্রহণ অপরাধ দমনে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সেতুবন্ধন তৈরীই স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং এর মূল লক্ষ্য। এই সেতুবন্ধনের ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটবে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যে কোন আগাম অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য অপরাধ দমনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরো বলেন ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কারের ফলে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা যেন জঙ্গীবাদে জড়িয়ে না পড়ে। ধর্মের অপব্যাখ্যায় ‘শহীদ’ হতে চাওয়ার ভ্রান্ত ধারণায় অন্ধকারে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তাই কোনো ছাত্র ক্লাসে অনুপস্থিত থাকছে কি না, পড়াশোনায় অমনোযোগী হচ্ছে কিনা, পুরনো বন্ধুদের কাছ থেকে সরে যাচ্ছে কিনা, নতুন নতুন বন্ধু তৈরী হচ্ছে কিনা, ধর্মীয় বিষয়ে উগ্র কথাবার্তা বলছে কিনা সেগুলো খেয়াল রাখতে হবে।

শুধু জঙ্গীবাদই নয় ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে আরো যেসব অপরাধ প্রবণতা দেখা যায় যেমন, মাদক সেবন, ইভ টিজিং, মাস্তানী, মারামারি, গোলযোগ সৃষ্টি প্রভৃতি দমনে দেশের প্রথম স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং সম্মেলন মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশা করা যায়। ফার্লংফলকও হতে পারে।

লেখক: মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব, প্রফেসর, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Categories: উদ্ভাবন