আজ- রবিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       বন্যার্তদের জন্য দান নয় ঋণ শোধের আয়োজন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস       দেশের প্রথম ‘স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং’ সম্মেলন       আদালতের ভ্রমণ বর্জন       আবহাওয়া অধিদফতরের এ্যাপে বজ্রপাতের পূর্বাভাস ও করণীয়       WSIS Prizes 2017 এ ভোট দেয়ার ৭ টি দাপ্তরিক নজির       RMP’র মাদক ও জঙ্গী বিরোধী উদ্ভাবন ও অন্যান্য    

বাগেরহাট কাঁপানো বারো দিন

এটুআই এর ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট জনাব মানিক মাহমুদ ফেসবুকে ৩ শব্দের (এর সমাধান দরকার) একটি পোস্ট দেন ৮ এপ্রিল, ২০১৭ রাতে ‘প্রথম আলো’র একটি রিপোর্ট শেয়ার করে। সেখান থেকেই ভৈরব নদ রক্ষা ও পরিচ্ছন্ন বাগেরহাট নির্মাণের তারিখ নির্ধারিত হলো ২০ এপ্রিল। এই ৮ থেকে ২০ এর মাঝের ১২ দিন আসলে বাগেরহাট কাঁপানো বারো দিন যা ঐ শহরের মানুষ গত ৫০ বছরেও দেখেনি।

এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক মহোদয়ের একটি পরামর্শ কতো শক্তিশালী হতে পারে তার একটি নমুনা না বলে পারছি না। তিনি ফেসবুকে কমেন্ট করলেন – ‘বাগেরহাটের পরিকল্পনা হবে একটি সামাজিক আন্দোলনের পরিকল্পনা। শুধু পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা হবে না। বাগেরহাটের ব্যাপকসংখ্যক মানুষকে সম্পৃক্ত করে এই পরিকল্পনা হতে হবে’। প্রায় সাথে সাথে ভোজবাজির মতো বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের Citizen’s voice of Bagerhat ফেসবুক গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ৫০০ থেকে ৫০০০ হয়ে গেল। আর এই কাজটি মূলত সম্ভব করেছেন এডিএম মো. মোমিনুর রশীদ (মূল অনুষ্ঠানের দিন তাঁর অনুপস্থিতি অনেকের কাছে অনুভূত হয়েছে), এ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার নাজিম উদ্দিন, এবং সরদার ইনজামামুল হক (সিটিজেনস ভয়েস অফ বাগেরহাট গ্রুপের ক্রিয়েটর এ্যাডমিন)।

বাগেরহাটে মাইকিং করে মানুষকে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও মেয়র  মহোদয় সভা করেছেন, উদ্ধার কার্যক্রম তদারকী করেছেন, মানুষকে বুঝিয়েছেন। কয়েকদিনে হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনা সরানো হয়েছে। ১৮ এপ্রিলের মধ্যেই উদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতার প্রাথমিক কাজ প্রায় শেষ করে ফেলা হয়েছে।  এ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার শাহরিয়ার বললেন ‘হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনা আপসারণের ফলে এই শহরের সাধারণ জনগণ অবৈধ স্থাপনার বদলে নদী দেখবে, ঝামেলাহীনভাবে হাঁটতে পারবে, বিলবোর্ডের বদলে উন্মুক্ত আকাশ দেখবে। এত বড় একটা উচ্ছেদ অভিযানে জনসাধারণের অকুণ্ঠ সমর্থন এবং সহযোগিতা পাওয়া গেছে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনেকেই নিজেদের স্থাপনা, জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছেন’। ভিআইপি মোড়ের সব অবৈধ স্থাপনা গায়েব কিন্তু একটি কাঠগোলা (খড়ির দোকান) কেন থেকে গেল বোঝা গেল না।

বাগেরহাট শহরের ভৈরব নদ দূষণ ও দখলমুক্ত করতে এবং পরিচ্ছন্ন বাগেরহাট নির্মাণে সামাজিক সমাবেশ করেছে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। এই সমাবেশে বাগেরহাটের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রায় সকল সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী-পরিবেশবাদী সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ ভৈরব নদ রক্ষার শপথ নেন। আর গণস্বাক্ষর, পরিচ্ছন্নতা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

এই সমাবেশে জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বাগেরহাট-৪ আসনের সাংসদ মোজাম্মেল হোসেন, বাগেরহাট-২ আসনের সাংসদ মীর শওকাত আলী বাদশা, পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান, ডিডিএলজি মোঃ শফিকুল ইসলাম, এডিসি জেনারেল মো. মামুন উল হাসান, এটুআই এর ফ্যাসিলিটেটর মোঃ আতিকুর রহমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সরদার সেলিম আহমেদ, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি শেখ লিয়াকত হোসেন লিটন, প্রেসক্লাবের  সভাপতি আহাদ হায়দার, পরিবর্তন চাই এর সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম ভূ্ইয়া, উন্নয়নকর্মী রিজিয়া পারভীনসহ সামাজিক বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশবাদী, পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সিটিজেন জার্নালিস্টরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার গুরুদায়িত্বটি সুচারুভাবে পালন করেন এডিসি জেনারেল জনাব মামুন উল হাসান

অনুপ্রেরণা
বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান অকপটে স্বীকার করেন এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মূল অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছেন জেলা প্রশাসক জনাব তপন কুমার বিশ্বাস এর কাছ থেকে। আর জেলা প্রশাসক মহোদয় বললেন প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্টটি মূল বিষয় নয়। এমন রিপোর্ট পত্রিকায় অনেকই হয়। তিনি প্রাথমিক অনুপ্রেরণা পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক জনাব আবুল কালাম আজাদ স্যারের কাছ থেকে। আর পরবর্তীতে এটুআই এর ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট জনাব মানিক মাহমুদ নানাভাবে পরামর্শ দিয়ে তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো বাগেরহাটের ডিসি কিংবা মেয়র কেউ নির্দেশনা শব্দটি ব্যবহার করেননি, ব্যবহার করেছেন অনুপ্রেরণা শব্দটি।

পৌরসভার সংশ্লিষ্টতা
বরিশালের জেলখাল ও টাঙ্গাইলের লৌহজং পুনরুদ্ধারে সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার উপস্থিতি ছিল কিন্তু সংশ্লিষ্টতার মাত্রা বাগেরহাটের মতো ছিল না। ১০ এপ্রিল বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক জনাব তপন বিশ্বাস ফেসবুকে লিখলেন – ‘মেয়র, বাগেরহাট পৌরসভার সাথে কার্যকর আলোচনা হয়েছে’। এরকম কার্যকর আলোচনার কথা অনেকই শোনা যায় । কিন্তু বাগেরহাটে পরদিন থেকেই মেয়র ও মেয়রের বুলডোজারকে ভৈরব তীর চষে বেড়াতে দেখা গেল। একজন সিটিজেন জার্নালিস্টের পোস্ট দেখানোর লোভ সংবরণ করতে পারছি না। এই কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের।

সোসাইটির পাশাপাশি সোশাল মিডিয়ার লাইক
বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র এই ইভেন্ট সম্পর্কে তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বললেন- ‘দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সোসাইটির লাইক পেয়েছি অনেক কিন্তু সোশাল মিডিয়ার লাইক পাওয়া আমার জীবনে এক নতুন অধ্যায়। কয়েকদিন আগে সোশাল মিডিয়ায় এ্যাকটিভ হতে না হতেই অনেক মানুষ বলছে ফেসবুকে আমার কার্যক্রম দেখে তারা আনন্দিত। রাতে বাসায় ফিরলে মেয়ে বলে বাবা তোমার পোস্টে এক হাজারের বেশী লাইক পড়েছে। আত্মীয়স্বজনরাও বলছে। সোশাল মিডিয়ায় লাইক পাওয়ার অনুভূতিটা অনেকটা ভোট পাওয়ার মতো। ভোট তো ৪ বছর পর পর পাই, এ যেন প্রতিদিন ভোট পাওয়ার মতো বিষয়। জেলা প্রশাসক, বাগেরহাটের কাছে আমি কৃতজ্ঞ কারণ তার পরামর্শেই ভৈরব নদের তীর ও বাগেরহাট নগরী পরিষ্কারের কাজে হাত দিয়েছিলাম আর সেসব কাজের কথা সোশাল মিডিয়ায় তুলে ধরতে শুরু করেছিলাম’।

সিটিজেন জার্নালিস্ট টিম
বরিশালের জেলখাল অভিযানের সময় বরিশালের বাইরে সিটিজেন জার্নালিস্ট টিমই ছিল না। টাঙ্গাইলের লৌহজং পুনরুদ্ধারে উৎসবমূখর পরিবেশে বরিশাল সিটিজেন জার্নালিস্ট টিম অংশ নিয়েছিল। এক জেলার সিটিজেন জার্নালিস্ট টিমের অন্য জেলায় গিয়ে সহযোগিতা করার সেটিই প্রথম দৃষ্টান্ত। এখানে  বরিশাল থেকে ১৫ ও বরগুনা থেকে ৪ সদস্যের সিটিজেন জার্নালিস্ট টিম অংশ নিয়ে সিটিজেন জার্নালিজমের প্রবাহকে আরো বেগবান করলেন। তবে বরিশাল সিটিজেন জার্নালিস্ট টিমের দীপু হাফিজুর রহমান আর টাঙ্গাইল সিটিজেন জার্নালিস্ট টিমের বাগেরহাটে উপস্থিতি সিটিজেন জার্নালিজমকে আরো উজ্জ্বল করতো। গেস্ট সিটিজেন জার্নালিস্ট টিমের (বরিশাল ও বরগুনা) দুজন সমাবেশে বক্তব্য রাখলেন কিন্তু হোস্ট সিটিজেন জার্নালিস্ট টিমের (বাগেরহাট) কেউ কিছু বললেন না।

‘পরিবর্তন চাই’ এর ধারাবহিক অংশগ্রহণ
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পরিবর্তন চাই’ বরিশাল জেলখাল অভিযানে সহ আয়োজক হিসাবে ও টাঙ্গাইল লৌহজং পুনরুদ্ধারে সহায়তাকারী হিসাবে অংশ নিয়ে বাগেরহাটেও ভৈরব পুনরুদ্ধারে শামিল হয়েছে। সংগঠনের চেয়ারম্যান ফিদা হক বলেন ‘পরিবেশ সংরক্ষণ বা উন্নয়ন বিষয়ক কার্যক্রম সে বরগুনা, পাবনা বা গাইবান্ধা যেখানেই হোক ‘পরিবর্তন চাই’ অবশ্যই অংশ নেবে’।

আপনি কি সিটিজেন জার্নালিস্ট?
ভৈরব নদী রক্ষা আর পরিচ্ছন্ন বাগেরহাট নির্মাণের তিন তারকা জেলা প্রশাসক, মেয়র আর সিটিজেন জার্নালিস্ট। বরিশাল ও বরগুনা থেকে সিটিজেন জার্নালিস্টদের টিম এসেছিল। বাগেরহাটের সিটিজেন জার্নালিস্ট টিম তো ছিলোই। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পরিবর্তন চাই’ ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী এবং বাগেরহাটের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন যারা সবাই সিটিজেন জার্নালিস্ট এবং ‘সিটিজেন জার্নালিজম বাংলাদেশ’ গ্রুপের সাথ যুক্ত। সব মিলিয়ে ২০ এপ্রিল বাগেরহাটে ‘সিটিজেন জার্নালিস্ট’ শব্দটি সবচেয়ে বেশী উচ্চারিত হয়েছে। অপরিচিত কারো সাথে হাত মিলিয়ে মানুষ প্রথম প্রশ্নটি করেছে – ‘আপনি কি সিটিজেন জার্নালিস্ট?’ উত্তর হ্যাঁ বোধক হলে দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল – ‘কোন জেলার?’

লক্ষ্যণীয় বিষয়
১। জেলা প্রশাসন কর্তৃক পৌরসভাকে প্রত্যক্ষভাবে মাঠে নামানোর বিষয়টি দৃষ্টান্তমূলক। বরিশালের জেলখাল ও টাঙ্গাইলের লৌহজং পুনরুদ্ধারে সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভার উপস্থিতি ছিল কিন্তু সংশ্লিষ্টতার মাত্রা বাগেরহাটের মতো ছিল না।
২। সোশাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক ও এটুআই এর ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট স্পোশালিস্ট এর অনুপ্রেরণা ও পরামর্শ দ্রুততম সময়ের মধ্যে লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করেছে।
৩। বাগেরহাট ২ ও ৪ এর মাননীয় এমপিদ্বয়ের উপস্থিতি ও মেয়রের সক্রিয় অংশগ্রহণে জনপ্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্টতা দারুণভাবে ফুটে উঠেছে।
৪। বরিশালে বলা হয়েছিল ‘জনগণের জেল খাল, আমাদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান’। বরিশালে ‘উদ্ধার’ পরিচ্ছন্নতার আড়ালে ছিল। টাঙ্গাইলে ‘উদ্ধার’ স্পষ্ঠভাবে উচ্চারিত হয়েছে ‘লৌহজং নদী পুনরুদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম’। বাগেরহাটে ‘উদ্ধার’ ছিল রক্ষার আড়ালে – ‘ভৈরব নদী রক্ষা ও পরিচ্ছন্ন বাগেরহাট নির্মাণ’।
৫। জেলা প্রশাসক জনাব তপন কুমার বিশ্বাস মনে করেন নদী দূষণের সাথে নগরী দূষণও সম্পর্কিত তাই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুধু নদীর তীরে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো নগরী জুড়ে বিস্তৃত হয়েছে। আর ইভেন্টের নামকরণ করা হয়েছে – ‘ভৈরব নদী রক্ষা ও পরিচ্ছন্ন বাগেরহাট নির্মাণ’।
৬। দখলমুক্ত ভৈরব তীরে আগামী বৃক্ষরোপণ মৌসুমে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ঘোষণার পাশাপাশি কিছু প্রতীকী বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
৭। প্রায ৫ হাজার মানুষের গণশপথ গ্রহন ছিল একটি অভিনব সংযোজন।
৮। গণস্বাক্ষর কার্যক্রমটি ইভেন্টকে বর্ণিল করেছে।
৯। এক জেলার সফল শিক্ষা থেকে অন্য জেলার শিক্ষা গ্রহণ ।
১০। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পরিবর্তন চাই’ বরিশাল ও টাঙ্গাইলের পরে বাগেরহাটেও অংশ নিয়ে ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে।
১১। একাধিক সিটিজেন জার্নালিস্ট টিমের জেলার বাইরে গিয়ে ভূমিকা রাখার ঘটনা এটিই প্রথম।
১২। অপরিচিত কারো সাথে হাত মিলিয়ে মানুষ প্রথম প্রশ্নটি করেছে – ‘আপনি কি সিটিজেন জার্নালিস্ট?’
১৩। ভৈরব রক্ষার সুদূরপ্রসারী প্রভাব মংলা-ঘাসিয়াখালী চ্যানেলে গিয়ে পড়বে বলে ডিডিএলজি মোঃ শফিকুল ইসলাম মনে করেন। আশপাশের খালগুলোতে অবৈধ বাঁধ দেয়া মুনাফালোভীরা সাবধান হবে বলে আশা করা যায়।
১৪। উদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতার প্রাথমিক কাজ প্রায় শেষ করে ফেলা হয়েছে ১৮ এপ্রিলের মধ্যেই।

পরবর্তী করণীয়

বাগেরহাট-২ আসনের মাননীয়  এমপি জনাব মীর শওকাত আলী বাদশা বলেন –‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ও জেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক মনিটরিং না থাকলে আমাদের নদী দূষণ ও নদী দখল মানসিকতা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে‘।
১। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী কমিটি করা প্রয়োজন, যে কমিটি পরবর্তী কাজগুলো বাস্তবায়ন করবে এবং অর্জিত সফলতাগুলো ধরে রাখবে।

২। দড়াটানা সেতু থেকে মুনিগঞ্জ সেতু পর্যন্ত ভৈরব নদের পশ্চিম তীর ব্লক দিয়ে বাঁধিয়ে দৃষ্টিনন্দন, পরিবেশবান্ধব পার্ক নির্মাণ করা যায়। ঘাটগুলোতে ব্লক দিয়ে ধাপে ধাপে সিঁড়ি করা যেতে পারে। প্রোটেকশন ব্লকের পূর্ব ও পশ্চিম সীমানা পাইপ দিয়ে ঘেরা, মাঝে ওয়াকওয়ে, কিছু দূর পর পর বসার বেঞ্চ, পাশে ডাস্টবিন আর কিছু পাবলিক টয়লেট হলে তো সোনায় সোহাগা।

৩। পার্ক, ওয়াকওয়ে করতে সময় লাগলে সীমানা পিলার স্থাপন করা যায় আপাতত।
৪। অন্তত বাঁশের বেড়া দিলেও পুণরায় অবৈধ দখল শুরু হওয়া বন্ধ হতে পারে।
৫। দড়াটানা আর মুনিগঞ্জ ব্রিজের মাঝের দুই কিলোমিটার অংশে প্রায় ২২/২৩ টি বালুঘাট আছে। বালুঘাটের সংখ্যা ২/৩টিতে সীমাবদ্ধ করে দেয়া দরকার।

৬। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য বাগেরহাট পৌরসভার নিজস্ব কোনো জায়গা নেই। আপাতত জেলখানার পাশে নীচু জায়গাটি অস্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য পাঁচ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা দরকার।

গত বছর সেপ্টেম্বরে বরিশালে জেলখাল উদ্ধার অভিযান হয়েছিল। গত বছরেরই নভেম্বরে টাঙ্গাইলে শুরু হয়েছিল লৌহজং পুনরুদ্ধার কার্যক্রম। মনে হচ্ছিলো পাবনার ইছামতি কিংবা রংপুরের শ্যামা সুন্দর পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে ২০১৬তেই অর্থাৎ খেলার প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক হয়ে যাবে। হ্যাটট্রিক হতে পারতো গাইবান্ধার ঘাঘট বা বগুড়ার করতোয়ার মাধ্যমেও। সে যাই হোক ৩ গোলে তৃপ্ত থাকার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এই খেলা ৬৪ গোলের যার ৬১টি এখনও বাকী। সেই না হওয়া ৬১র পাশাপাশি হয়ে যাওয়া ৩কে ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

আশার বিষয় হলো ‘বাগেরহাট কাঁপানো বারো দিন’ এর মধ্যে বাংলাদেশ কাঁপানোর বীজ আছে। উপযুক্ত আলো, জল পেলে এই বীজের অঙ্কুরোদ্গম হবেই। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে।

Categories: উদ্ভাবন