আজ- রবিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       বন্যার্তদের জন্য দান নয় ঋণ শোধের আয়োজন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস       দেশের প্রথম ‘স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং’ সম্মেলন       আদালতের ভ্রমণ বর্জন       আবহাওয়া অধিদফতরের এ্যাপে বজ্রপাতের পূর্বাভাস ও করণীয়       WSIS Prizes 2017 এ ভোট দেয়ার ৭ টি দাপ্তরিক নজির       RMP’র মাদক ও জঙ্গী বিরোধী উদ্ভাবন ও অন্যান্য    

স্বীকৃতির সুবাস

স্বীকৃতির সুবাস দেশ জুড়েই বইছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং এটুআই প্রোগ্রামের কাছে সরকারী কর্মকর্তারা চির ঋণী হয়ে থাকবে। শুরুটা হয়েছিল সম্ভবত কেবিনেট ডিভিশন কর্তৃক ডিও লেটার দিয়ে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে। পরবর্তীত জনপ্রশাসন পদক, উন্নয়ন মেলা পদক, ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা পদক, ইনোভেশন সামিট পদক, ইনোভেশন সার্কেল, সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ড এরকম নানা নামে সরকারী কর্মকর্তাদের কাজের স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে। কিন্তু সেগুলো নির্দিষ্ট কোনো এক দপ্তর বা দপ্তর প্রধানের উদ্যোগে নয়। এ লেখার উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত উদ্যোগগুলোকে তুলে আনা।

জানি অনেক দপ্তর আর দপ্তর প্রধানের উদ্যোগের কথা বাদ পড়েছে। এটি আমার জানার সীমাবদ্ধতা। এজন্য কয়েকদিন আগে পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন বাংলাদেশ গ্রুপে ‘স্বীকতির সুবাতাস’ নামে পাশের পোস্টটি দিয়েছিলাম কিন্তু তেমন তথ্য পাইনি। তবে এটুকু বলতে পারি এই পোস্টের কমেন্টে উল্লেখ করলে অবশ্যই মূল লেখার মধ্যে তা জুড়ে দেয়া হবে। আসুন সবাই মিলে স্বীকৃতি প্রদানকারী দপ্তর আর দপ্তর প্রধানদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা করে ফেলি যে তালিকা দেখে বাকীরাও তালিকায় ঢুকে পড়তে উৎসাহী হয়ে পড়বে।

নির্বাচন কমিশন
জামালপুরে জেলা সার্ভার ষ্টেশন উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে নিজ নামে নয় জেলা নির্বাচন অফিসের বয়জ্যেষ্ঠ্য অফিস সহায়ক হায়দর আলীর নামে ফলক উন্মোচন করে স্বীকৃতির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন  নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব জনাব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
সিনিয়র সচিব, আইআরডি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান একটি অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বোর্ডের সকল সহকর্মী এবং তিন ডিপার্টমেন্টের মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাকে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এটুকু স্বীকৃতির গুরুত্ব নেই মনে করা ঠিক হবে না।  এটি একটি নজির যা অন্যরাও অনুসরণ করলে লাভ বই ক্ষতি হবে না।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয় এবছর দুজন কর্মকর্তাকে তাঁদের উদ্ভাবনী কর্মকান্ডের স্ব্যীকৃতি স্বরূপ বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠিয়েছেন। এটি এমন এক স্বীকৃতি যা সব সরকারী কর্মকর্তার চির আরাধ্য।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ
২০১৬ সালে রুটিন দায়িত্বের বাহিরে এসে সৃজনশীল/উদ্ভাবনী কাজের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকান্ড এগিয়ে নিতে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় ৪ জন কর্মকর্তাকে Officers of the Year 2016 নির্বাচিত করা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে উপানুষ্ঠানিক পত্র দিয়ে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। অত্র বিভাগের Photo Display বোর্ডে নির্বাচিত কর্মকর্তাগণের ছবি প্রদর্শন করা আছে। নির্বাচিত কর্মকর্তাগণ হলেন:
১. বেগম তসলিমা কানিজ নাহিদা, উপসচিব (সমন্বয় ও প্রশিক্ষণ) [অবদান: অগ্রগতির ৭ বছর ২০০৯-২০১৫]
২. বেগম সুলতানা ইয়াসমীন, উপসচিব (ডিএফডিপি) [অবদান: বাস র্যা পিড ট্রানজিট (বিআরটি) আইন-২০১৬]
৩. জনাব অপূর্ব কুমার মন্ডল, সি. সহকারী সচিব (বাজেট) [অবদান:বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি ও এসডিজি ২০৩০]
৪. জনাব মোঃ মাহবুব-এ-এলাহী, সহকারী প্রধান (ডিপিপি প্রক্রিয়া শাখা) [অবদান: জিওবির ডিপিপি প্রক্রিয়াকরণ]

সমাজসেবা অধিদপ্তর
সুন্দর শিশু পরিবার, সমাজসেবা পুরস্কার, One UCD One New Trade প্রভৃতি কার্যক্রমের ব্যানারে প্রদেয় সনদপত্রগুলো কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নথিতে সংযোগ করে দেয়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের ডিজি গাজী কবির মহোদয়ের ইনোভেটিভ আইডিয়া। সনদ ছাড়াও সেলফি স্ট্যান্ড, ব্লু-টুথ স্পিকার এসব দিয়ে মাঠ কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করা হয়।

সমবায় অধিদপ্তর
প্রাক্তন ডিজি মোঃ মফিজুল ইসলাম এর উদ্যোগে উদ্ভাবন উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশেষ ভুমিকা রাখায় ৮ জন শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবককে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন, রংপুর বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের উপনিবন্ধক (প্রশাসন) জনাব অজয় কুমার সাহা, নরসিংদীর আঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ জনাব হরিদাস ঠাকুর, খুলনা জেলার সমবায় কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, পঞ্চগড় সদর উপজেলার সমবায় কর্মকর্তা জনাব মো. মামুন কবির, মাগুরা সদর উপজেলার সমবায় কর্মকর্তা জনাব বিরাজ মোহন কুণ্ডু ছাড়াও আরো ৩ জন।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ডিজি জনাব মোঃ সেলিম রেজা ডিও লেটার দিয়ে সকহর্মীদের স্বীকৃতি প্রদান করে উৎসাহিত করার প্রথা চালু করেছেন। বিষয়টি সহকর্মীদের কতোখানি অনুপ্রাণিত করে তা স্বীকৃতি পাওয়া একজনের ফেসবুক ম্ট্যাটাস থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়। ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় পুরস্কৃত হওযার জন্য জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, রংপুরের সহকারী পরিচালক ও যশোর টিটিসির সিনিয়র ইন্সট্রাক্টরকেও পুরস্কৃত করেছেন মহাপরিচালক মহোদয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
ডিজি মহোদয় যেসব কমিউনিটি ক্লিনিক ৪০০ নিরাপদ প্রসব সেবা অতিক্রম করবে তাদের স্বীকৃত দেবেন বলেছিলেন। তিনি পুণরায় প্রতিশ্রুতি রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন।

খাদ্য অধিদপ্তর
খাদ্য অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক মোঃ বদরুল হাসান কর্তৃক জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, নারায়ণগঞ্জ (বর্তমানে খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক), জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, নীলফামারী এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, পটুয়াখারী সদর এই তিন জন কর্মকর্তাকে সেবা সহজীকরণ পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য সনদ প্রদান করে উৎসাহিত করা হয়।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)
বর্তমান কমিশনার জনাব মোঃ মাহাবুবর রহমান পিপিএম যোগদান করেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী অফিসারদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন। প্রতি মাসে বিভিন্ন বিষয়ে ( শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী, শ্রেষ্ঠ ওসি, শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক পুলিশ, সর্বোচ্চ উদ্ধার, কমিউনিটি পুলিশিং প্) শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী পুলিশ সদস্যদের  “ক্রেষ্ট ও সার্টিফিকেট অব এপ্রিশিয়েসন” প্রদান করা হয়। প্রাক্তন আরএমপি কমিশনার জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে সহযোগিতার জন্য ‘দৈনিক যুগান্তর’ এর সাংবাদিক জিয়াউল গনি সেলিমকে সম্মাননা প্রদান করার বিরল নজির স্থাপন করেছিলেন।

কর কমিশনার এর কার্যালয়, সিলেট

সিলেট কর কমিশনার এর কার্যালয় এ মাস শেষে কর কমিশনার Syed Mohammad Abu Daud কর্তৃক Leader of the month ঘোষনা করা হয়

জেলা প্রশাসন, কুষ্টিয়া
সরকারী দপ্তরের মাধ্যমে এদেশে সিটিজেন জার্নালিজমের প্রবর্তক কুষ্টিয়ার সাবেক জেলা প্রশাসক জনাব সৈয়দ বেলাল হোসেন ৫ আগষ্ট ২০১৪ থেকে সোশাল মিডিয়া মাধ্যমে নাগরিক সেবা প্রদান শুরু করেন। বিভিন্ন সোশাল মিডিয়া আড্ডার আয়োজন করে সিটিজেন জার্নালিস্টদের পুরস্কৃত করার প্রথাও তিনিই শুরু করেন। ২০১৫ সালের শুরুতেই মিরপুর উপজেলায় আয়োজিত সোশাল মিডিয়া আড্ডায় জনসচেতনতামূলক পোস্ট প্রদানকারী জনাব মোঃ ফারুক খান ও জনাব মোঃ খাইরুল ইসলামকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এরকম আরো অনেককেই বিভিন্ন সময়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন, বরিশাল
দাপ্তরিক স্বীকৃতির বিষয়টিকে আন্তঃদাপ্তরিক পর্যায়ে উন্নীত করার কৃতিত্বটি বোধহয় জনাব গাজী সাইফ, প্রাক্তন জেলা প্রশাসক, বরিশাল এর। নিজ দপ্তরে মাসের সেরা কর্মচারী থেকে শুরু করে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় পোস্ট প্রদান প্রতিযোগিতায় আনসার ও ভিডিপিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করার পাশাপাশি স্বীকৃতি প্রদানকে তিনি দপ্তর, জেলা এমনকি বিভাগের বাইরে নিয়ে গিয়ে জাতীয় পর্যায়ে উন্নীত করেছেন। এবছর জীবনানন্দ মেলায় তিনি জনাব মোঃ মাহবুব হোসেন, জেলা প্রশাসক, টাঙ্গাইল ও মোঃ আবু জাফর রিপন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ত্রিশাল এবং জাতীয় ক্রিকেটার মেহেদি মিরাজকে বরিশালের কৃতি সন্তান হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে অনন্য এক নজির গড়েছেন। অনন্য নজির গড়ার সদা সক্রিয় অদ্ভুত এক অন্তর্গত অনুপ্রেরণা কাজ করে তাঁর মধ্যে সবসময়।

জেলা প্রশাসন, ঝালকাঠি
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতি মাসে কর্মচারীদের কাজের স্বীকৃতি দেয়ার চর্চা শুরু হয়েছে। অফিসের নবনির্মিত একটি নোটিশবোর্ডে প্রতি মাসের শ্রেষ্ঠ কর্মচারীর ছবিসহ নাম প্রকাশ করা হয়। এতে তারা আরও কাজ করার জন্য উজ্জীবিত হয়। জেলা প্রশাসক এর সভাপতিত্বে জুলাই/২০১৬ মাসের মাসিক ষ্টাফ সভায় মাসের শ্রেষ্ঠ কর্মচারী হিসাবে নির্বাচিত করা হয় পরিচ্ছন্নতা কর্মী বুলু হরিজনকে। সেই থেকে চলছে।

জেলা প্রশাসন, পাবনা
জেলা প্রশাসন, পাবনার উদ্যোগে ২০১৬ সালে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) এর মাধ্যমে জনসাধারণকে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় কয়েকজন উদ্যোক্তাকে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

“নাগরিক সেবায় উদ্ভাবন বিষয়ে দ্রুত নাগরিক সেবা প্রদানে” (১) জনাব সালমা খাতুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), পাবনা (২) জনাব মো: শামছুল আলম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ভাংগুড়া, পাবনা (৩) জনাব মো: তোফায়েল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ফরিদপুর, পাবনা (৪) জনাব মো: কামরুল হাসান সরকার, উপজেলা মৎস্য অফিসার, বেড়া পাবনা এ ৪ (চার) জনকে সম্মাননা স্মারক, ডিও লেটার ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। আর “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে দ্রুত নাগরিক সেবা প্রদান” এর জন্যআরো ৩জনকে সম্মাননা স্মারক, ডিও লেটার ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসন, কুড়িগ্রাম
এবছর দ্বিতীয়বারের মতো কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের জেলা প্রশাসক এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। এবছর পুরস্কৃত হয়েছেন ১৫ জন।

জেলা প্রশাসন, যশোর
জনসেবায় ফেসবুকের ব্যবহারের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ লাঘবে অনবদ্য অবদান রাখায় সেপ্টেম্বর ২০১৬ মাসে স্বীকৃতি পেয়েছেন জনাব মো: কামরুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মনিরামপুর, যশোর। তিনি বিবেচ্য মাসে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রাপ্ত ছয়টি নাগরিক আবেদন দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করেছেন। উল্লেখ্য যে, প্রতিমাসে উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিগত মাসের কর্মকান্ড বিবেচনায় নিয়ে একাধিক স্বীকৃতি প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং এটি সকলের জন্য উম্মুক্ত। শুধুমাত্র সার্টিফিকেটধারী ভালো ছাত্র না হয়ে ভালো মানুষ হবার প্রত্যয়ে বিদ্যালয়ে শৃংখলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, সহমর্মিতা ও সংস্কৃতি চর্চা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছে যারা সেসব শিক্ষার্থীর মধ্যে থেকে প্রতিমাসে “Student of the Month” স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে। তিনজনকে সোশাল মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড অক্টোবর, ২০১৬ প্রদান করা হয়েছে। ফেসবুক-এ প্রাপ্ত জনদুর্ভোগের কথা জানতে পেরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা নিরসনের ব্যবস্থা নেয়ায় জনাব আবু মো: শাহরিয়ার, নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি, যশোর এবং জনগণের দু:খ-দুর্দশাকে দরদী লেখনীর মাধ্যমে ফেসবুকে উপস্থাপনের জন্য জনাব এস, এম, আরিফুজ্জামান ও জনাব মো: আনোয়ার হোসেন এই পুরস্কার পেয়েছেন।

জেলা প্রশাসন, বরগুনা
কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বা শাখা ভিত্তিক মাসিক পারফরমেন্স এর ভিত্তিতে পুরস্কার প্রদানের জন্য ‘‘STAFF OF THE MONTH’’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এতে কর্মচারীগণ কাজে আরো আন্তরিক ও সচেষ্ট হবেন। সাথে কাজের গতিশীলতা ও নাগরিক সেবার মানও বেড়ে যাবে। এ লক্ষ্যে একটি নীতিমালাও তৈরী করা হয়েছে। গত ৩১ আগষ্ট, ২০১৬ তারিখ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্টাফ মিটিং এ জুলাই/২০১৬ এবং আগস্ট/২০১৬ মাসের জন্য যথাক্রমে জনাব দুলাল চন্দ্র দাস, অফিস সহকারী, সাধারণ শাখা এবং জনাব মোঃ রেজাউল করিম পান্না, অফিস সহকারীকে ‘‘স্টাফ অব দি মানথ’’ ঘোষণা করে পুরস্কার ও সনদ প্রদান করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ বশিরুল আলম  ।

জেলা প্রশাসন, জামালপুর
নাগরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির জন্য Clean Jamalpur Green Jamalpur বাস্তবায়নে ৪টি প্রাথমিক ও ৩টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৫টি সরকারি অফিসকে (সরকারি শিশু পরিবার, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স) ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট দিয়ে পুরস্কৃত করেন জেলা প্রশাসক, জামালপুর জনাব মো: শাহাবুদ্দিন খান এবং জামালপুর পৌরসভার মেয়র জনাব মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি। সেই সাথে ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটিকে ৭০০০/- টাকা করে প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসন, খুলনা
জেলা প্রশাসন, খুলনা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রাপ্ত সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে নিরলসভাবে। এই কাজে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ আতিকুল ইসলাম অগ্রনী ভূমিকা রাখায় তাঁকে ‘ফেসবুক এ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। গত ১ ডিসেম্বর, ২০১৬ খ্রিঃ তারিখ তৎকালীন জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান এই এ্যাওয়ার্ড তাঁর হাতে তুলে দেন। বিগত এক বছরের উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবনী কার্যক্রম ও নাগরিক সেবা সংশ্লিষ্টদেরকে উৎসাহিত করতে জেলা প্রশাসন, খুলনা’র পক্ষ থেকে ‘জেলা প্রশাসক পদক’ প্রবর্তন করা হয়েছে।

খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ
খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক জনাব সালাহউদ্দিন আহাম্মদ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, নারায়ণগঞ্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি সফল করায় ৪ জনকে এবং খাদ্যশস্য সংগ্রহে অবদান রাখায় ১০ জনকে স্বীকৃতি প্রদান করেন।

উপজেলা ভূমি অফিস, কুড়িগ্রাম সদর, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম ভূমি সেবা এক্সপ্রেসের আওতায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সকল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের সততার সাথে গ্রাহককে সেবা প্রদানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে ‘সততা পুরষ্কার’। এই পুরষ্কার প্রত্যেক মাসে উপজেলা রাজস্ব সম্মেলনে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বা ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে বিবেচ্য মাসে ন্যূনতম ৫টি নামজারি বা অন্য কোনো সেবা পূর্ণ সততার সঙ্গে প্রদান করার প্রেক্ষিতে প্রদান করা হবে। মার্চ/২০১৭ মাসের রাজস্ব সম্মেলনে কুড়িগ্রাম পৌরসভা এবং বেলগাছা ইউনিয়নের দুজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে এই ‘সততা পুরষ্কার’ প্রদান করা হয়।

উপজেলা ভূমি অফিস, পুঠিয়া
ভাল কাজের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন একটি উত্তম চর্চা। ভুমি অফিসের স্টাফদের অনেক বিড়ম্বনা, গ্লানি, বকাঝকা শুনতে হয়। কিন্তু তারাইতো ভুমি ব্যবস্থাপনার মুল কাজটি করে শত সীমাবদ্ধতা সত্বেও। তাই গত বছর জুলাই মাসের উপজেলা রাজস্ব সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ দিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয় ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা, উপ-সহকারি ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা, অফিস সহায়কসহ অনান্য স্টাফদের। এ বছরও এরকম উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

মেট্রোপলিটন কৃষি অফিস দৌলতপুর, খুলনা
কাজের স্বীকৃতি সকলকে অনুপ্রানীত করে। ছোট করে হলেও আমার মেট্রোপলিটন কৃষি অফিস দৌলতপুর, খুলনা কৃষি পরিবারের সকল সদস্য যারা আমার সকল কাজের সহযোগী তাদের জন্য এ আয়োজন। বিভাগীয় কাজের সাথে সাথে উদ্ভাবনী কাজে যাদের অতিরিক্ত সময় ও শ্রম রয়েছে।উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের সহযোগীতার জন্য ও ধন্যবাদ। ধন্যবাদ আমার সহকর্মীদের।

আমি শুধু অবাক হয়ে ভাবি সরকারী দপ্তরে দপ্তরে স্বীকৃতির সুবাতাস বইয়ে দেয়া এই মানুষগুলোকে স্বীকৃতি দেবে কে? কবে?? কিভাবে???

Categories: উদ্ভাবন