আজ- শনিবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৭ ইং, ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী       ‘পরিবর্তন চাই’ এর চার বছর       নামে কী বা আসে যায়       লৌহজং ‘সামাজিক আন্দোলন’ – আমার সুখ স্মৃতি       `একাত্তরের জননী’র সন্তানেরা       মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       বন্যার্তদের জন্য দান নয় ঋণ শোধের আয়োজন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস    

রূপকথার রাজার ঘন্টা নয় রূপকল্পের এসডিজি মূখ্য সমন্বয়কের ঘন্টা

শুরুতে একটু অস্বস্তি আসলেই ছিল। এখনও পুরোপুরি মধ্যম আয়ের দেশ হতে না পারা কোটি কোটি মানুষের ছোট্ট একটি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন যথেষ্ট কঠিন কাজ। আর সরাসরি জীবন-মৃত্যু জড়িত থাকার কারণে অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ অসংযত হয়ে পড়তেই পারে।

রূপকথার গল্পেও দেখা যায় সূর্যর চেয়ে বালু গরম। রাজপ্রাসাদের প্রহরীরা প্রজাদের অভিযোগ জানাতে ঢুকতে দেয় না। রাজা তাই সভাকক্ষে ঘন্টা বাঁধলেন আর ঘন্টার দড়ি ঝুলিয়ে দিলেন প্রাসাদের বাইরে। দড়িতে টান পড়ে ঘন্টা বাজলে রাজা বুঝবেন কোনো প্রজা কিছু বলতে চায়। রুপকল্পের বাংলাদেশে আমরা দেখলাম এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক সেরকম ঘন্টা বাঁধলেন সোশাল মিডিয়া সংলাপের বাতাবরণে। তবে ঘন্টার দড়িটা শুধু তাঁর দপ্তরের বাইরে নয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক, পাবলিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, হসপিটালগুলোর পরিচালক, সিভিল সার্জন, সিটিজেন জার্নালিস্ট সবার সামনেই। দড়িতে টান দিয়ে কথা বলতে পারেন যে কেউ। মডারেটর হিসাবে শুরুতেই বললেন আজ আমরা কথা বলবো কিভাবে আরো জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা দেয়া যায় সেই প্রসঙ্গে। তাঁর একপাশে তখন স্বাস্থ্য সচিব, অন্যপাশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি। তিনজন প্রযুক্তি বান্ধব নীতি নির্ধারক পর্যায়ের কর্মকর্তাকে এভাবে একসাথে দেখতে পাওয়াটা বিরল এক ঘটনা মনে হয়েছে।

ডিজি মহোদয় স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান অবস্থা কয়েকটি স্লাইডের মাধ্যমে উপস্থাপন করলেন। স্বাস্থ্যখাতের সাধারণ সমস্যা ও অভিযোগগুলোর বিষয়েও দৃষ্টিপাত করলেন। এরপর সচিব মহোদয় ফেসবুকের ‘পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন বাংলাদেশ’ গ্রুপের গত ২/৩ মাসের কয়েকটি পোস্টের কথা উল্লেখ করে বুঝিয়ে দিলেন আজকের ‘মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা: জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সোশাল মিডিয়া সংলাপ’ এর পটভূমি যা সোশাল মিডিয়ার শক্তি ও অপরিহার্যতাকে স্পষ্ট করলো। বিশেষ করে বললেন রংপুর মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের ছাত্রীদের আবাসন বিষয়ক পোস্টটির কথা। তাঁর মতে পোস্টেটিতে যে ভাষা প্রয়োগ করা হয় এবং ছবি যুক্ত করা হয় তা যে কোনো বিবেকবান মানুষকে নাড়া দেবে। তাঁকেও দিয়েছে। এজন্য তিনি অধ্যক্ষ অনিমেষ মজুমদারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ দিলেন কারণ নির্দেশ দেবার চেয়ে নির্দেশ প্রতিপালন করা বেশী কঠিন। অনিমেষ মজুমদার দ্রুততম সময়ে সেটি করতে পেরেছেন। সচিব মহোদয় সোশাল মিডিয়ার গুরুত্ব শুধু চোখে নয় চোখের মণির মধ্যে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন এভাবে যে, সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি জেনেছেন রাজশাহীতে ডেন্টাল ইউনিটের জন্য উদ্বোধনকৃত ভবন প্রায় অব্যবহৃত হয়ে পড়ে আছে। বরগুনার আমতলির দু্ই সহোদরের কথা বললেন যারা ‘ডুশেনি মাসকুলার ডিসট্রফি’ রোগে ভুগছে। অনুকরণীয় সরল সততায় এটিও বললেন যে এই রোগটির নাম ঐ পোস্টের পরেই তিনি জেনেছেন।

এমন সোশাল মিডিয়া সংলাপ এর আগেও প্রায় ১০টি হয়েছে। ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই আরো হবে। এই সোশাল মিডিয়া সংলাপে স্বাস্থ্য পরিচালক, পাবলিক হাসপাতালে পরিচালক, সিভিল সার্জন, সিটিজেন জার্নালিস্টগণ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন। মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে সংলাপটি সঞ্চালনা করেন। বিটিভি ও ফেসবুক লাইভে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় সংলাপটি। ফেসবুক লাইভ ও গুগল ফর্মের মাধ্যমে ৬৫,০০০ এর বেশি মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই সংলাপে যুক্ত হয় এবং প্রশ্ন ও মন্তব্য করে।

গুমোট পরিবেশটি এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক নিমেষেই দূর করে দিলেন এই বলে যে, ‘আমরা আজ জানবো কোথায় কোন ভাল কাজগুলো হয়েছে। ভাল কাজ দিয়ে আমরা মন্দকে দূরিভূত করবো’।

প্রথমেই জানলাম আমরা যশোরের চৌগাছা মডেল সম্পর্কে। সিভিল সার্জন মহোদয় জানালেন ২০১৭ এর মধ্যে যশোরের সবগুলো উপজেলায় এই মডেল বাস্তবায়ন করতে পারবেন। দেশসেরা শহীদ সোহরাওয়ার্দি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জানলাম। জানলাম এই হাসপাতালে সম্প্রতি পিতাকে হারিয়েছেন এমন একজন ব্যক্তি মুগ্ধ মন্তব্য করেছেন ‘দেশের সব হাসপাতালগুলো সোহরাওয়ার্দি হাসপাতালের মতো হতে পারে না?’ কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন একটু কঠোর হস্তে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন জেনে এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক মহোদয় প্রণিধানযোগ্য মন্তব্য করলেন। বললেন কয়েকদিন আগে একটি সরকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের টয়লেটের দরোজায় নাম, ছবিসহ মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে লেখা আছে ‘আমি অমুক, আমি এই টয়লেটটি পরিষ্কার রাখি’। এটি যেমন স্বীকৃতিমূলক তেমনি কখনো অপরিষ্কার থাকলে ফোন করে সহজেই তাকে জানানোও সম্ভব যে পরিষ্কার করা দরকার। আর বললেন আমরা পানিশমেন্ট নয় মোটিভেশনের মাধ্যমে কাজ করলে ভাল করবো।

দালাল নির্মূলে বিষয়ে বরিশালের স্বাস্থ্য পরিচালক মহোদয় তাঁর কর্মকান্ড জানালেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক জানালেন ভিজিটর হ্রাস করার জন্য সপ্তাহে ৪ দিন ভিজিটরদের মোটিভেশনাল ব্রিফিং দেয়ার কথা। পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন প্রতিদিন ১০জন করে পরিচ্ছন্নতা কর্মী সরবরাহ করছে এটিও জানালেন। এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক মহোদয় বললেন আমরা প্রতি মাসের শ্রেষ্ঠ পরিচ্ছন্নতা কর্মী নির্ধারণ করতে পারি কিনা যা ভালভাবে কাজ করতে সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেশ ভাল কাজ হচ্ছে জানা গেল। কোনো অভিযোগ থাকলে ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তাঁর নম্বর দৃশ্যমান জায়গায় বোর্ডে প্রদর্শন করা হচ্ছে জানানোর সাথে সাথে এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক মহোদয় কৌতুক করে বললেন বাসে লেখা থাকে অভিযোগ থাকলে ড্রাইভারকে জানান আবার লেখা থাকে গাড়ি চলাকালীন সময়ে ড্রাইভারের সাথে কথা বলবেন না। কাজেই ডাক্তার এর নম্বর দিয়ে লাভ নেই, নম্বর দিতে হবে অন্য কারো যার কাজই হবে অভিযোগ শোনা। সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দৃষ্টিনন্দন কিছু কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানা গেল। সেই সাথে মশা নিরোধক নেট লাগানোর উদ্যোগ ও দালাল নিয়ন্ত্রণের কথাও বললেন মাত্র ১৯ দিন আগে যোগদান করা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব। এরপর ফ্লোর পেলেন একেবারে দক্ষিণের জেলা কক্সবাজারের সিভিল সার্জন। তিনি জানালেন হাসপাতালের সামনের অবৈধ দোকানপাটগুলো সরিয়ে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করে তোলা হয়েছে। জোর দিয়েই বললেন এখন আর অবৈধ দোকানপাট নেই। গত বছর থেকে সীমিত সম্পদ দিয়ে ৬ বেডের আইসিইউ চালু করা হয়েছে। এ পর্যায়ে এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক জানতে চান সব হাসপাতালেই সেবাদাতা কম কিন্তু সেবাগ্রহীতা বেশী এই বিষয়টি কিভাবে মোকাবেলা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নাস্তা পরিবেশন করা হচ্ছে দেখে রসিক মডারেটর সবাইকেই নাস্তা পরিবেশন করতে বললেন – ‘কেউ খাবে কেউ খাবে না তা হবে না’। মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন জানালেন সিভিল সোসাইটির সহযোগিতায় অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিযুক্ত করা হয়েছে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য। এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক অনুরোধ করলেন আউটডোরে সিরিয়াল মেইনটেইন করার ক্ষেত্রে ডিজিটাল নাম্বারিং মেশিন স্থাপন করা যায় কিনা। জামালপুরের সিভিল সার্জন এবং মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ তাঁদের অভিজ্ঞতা জানালেন।

রাজশাহী থেকে প্রথমে মোঃ আতিকুর রহমান বললেন মেডিকেল হসপিটালগুলোতে ব্যবহৃত দামী ইকু্ইপমেন্টগুলোর জন্য ইউনিক আইডি জেনারেট করা যায় কিনা যা মনিটরিং করার জন্য কাজে লাগবে এবং  সিটিজেন জার্নালিস্ট ড. মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব বললেন ইন্টার্ন ডক্টরদের জন্য সাইকোলজিক্যাল ট্রেইনিং এর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ডিজি মহোদয় প্রস্তাবটি গভীরভাবে বিবেচনায় নিয়ে জানালেন তিনি সপ্তাহে দুদিন সব সিভিল সার্জনদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে এই আহবানটি জানান। মেডিকেল কলেজগুলো সংযুক্ত নয় বিধায় আজ এই সুযোগে সবাইকে আহবান জানালেন তাঁরা যেন বিশেষ করে ইন্টার্নদের বিশেষভাবে ব্রিফ করেন।

কুমিল্লা ও গোপালগঞ্জ থেকে দুজন সিটিজেন জার্নালিস্ট কথা বললেন। এসময় অনলাইনে একজন প্রশ্ন করলেন গোপালগঞ্জ হাসপাতালের টয়লেটে গেলে ভাল মানুষ অসুস্থ হয় তাহলে রোগীর অবস্থা কি হয়? এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক মহোদয় বললেন আসুন আমরা একটি কাজ দিয়ে শুরু করি – হাসপাতালের টয়লেটগুলো প্রতি ঘন্টায় পরিষ্কার করার উদ্যোগ গ্রহন করি। এ পর্যায়ে কয়েকটি ভে্ন্যু থেকে একসাথে কথা বলার চেষ্টায় একটু হট্টগোলের মতো হলো। প্রযুক্তি বান্ধব ও সপ্তাহে দুদিন করে ভিডিও কনফারেন্সিং করা ডিজি মহোদয় মাইক্রোফোন অফ রাখতে, হাত তুলতে এবং মডারেটর যাকে বলতে বলবেন তাকে কথা বলতে বললেন। তখন রাজশাহী থেকে সিটিজেন জার্নালিস্ট সাইফুল বললেন সবগুলো মেডিকেল কলেজ হাসপতালের ফেসবুক পেজ থাকলে জনসাধারণের সাথে সম্পর্কটি আরো নিবিড় হতে পারে। রংপুর থেকে কিছু সমস্যা তুলে ধরার চেষ্টা দেখে এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক মহোদয় শুধু বললেন সমস্যা আমরা অন্যদিন শুনবো। আজ শুধু গুড প্র্যাকটিস।

পটুয়াখালি ও বগুড়া থেকেও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শোনা গেল। নোয়াখালি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ জানালেন কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম থেকে শিক্ষক এনে তিনি কলেজ পরিচালনা করছেন। কলেজ গেটে লেখা আছে এটি একটি শতভাগ ধূমপানমুক্ত কলেজ। কলেজের কোথাও একটি পোস্টারও লাগানো নেই। জানা গেল কক্সবাজার মেডিকেল কলেজও ধূমপানমুক্ত। ফরিদপুর হাসপাতালের শতবর্ষ পূর্তি হয়েছে এই বছর। বরিশাল থেকে ড. শিরিন সাবিহা তন্বী একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বললেন – সিটিজেন জার্নালিস্টরা যেন চিকিৎসকদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বা অশালীনভাবে পোস্ট না দেন। এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন দিয়ে বললেন অবশ্যই, কারণ ডাক্তাররাও মানুষ, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই কথা বলতে হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কয়েকটি টিম করে দেয়া হয়েছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের পরিচালক জানালেন ৪টি ভিজিলেন্স টিম প্রতিদিন সকালে তাঁর কাছে রিপোর্ট করে। ১২টি পয়েন্টে ১২টি ওয়্যারলেস সেট স্থাপন করা হয়েছে।

সমাপনী বক্তব্যে এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক মহোদয় আগামীতে স্বাস্থ্যখাতের জনবল নিয়ে বিষয়ভিত্তিক সংলাপের আভাস দিয়ে রাখলেন। আর সচিব ও ডিজি মহোদয় বললেন আমরা একটু ভীত ছিলাম যে অনেক নেতিবাচক বিষয় নিয়ে হয়তো আলোচনা হবে। কিন্তু ইতিবাচক আলোচনার সুবাতাস নিয়ে ফিরছি। আসলেই তাই। দেখা গেল সবাই মনে করছেন আরেকটু বেশী সময় হলে ভাল হত। কি প্রানবন্ত পরিবেশ, সবার চোখ মুখ নতুন আলোয় উজ্জীবিত। ইতিবাচক ম্যাজিকে সবার মাঝে একটা আকাংখা তৈরী হয়েছে। যারা দেখলেন তাঁরা সবাই ভেবেছেন রংপুর, সোহরওয়ার্দী, ময়মনসিংহ, রাজশাহী যা পারছে সেটা তারাও পারবেন। অনেকগুলো আইডিয়া পাওয়া গেছে, সবই ইনোভেটিভ, সবগুলোই সক্ষমতার ভিতরে। দারুন এক ম্যাজিক সংলাপ কারণ বোঝাই গেল না কখন সবার মাঝে ইনোভেশনের বীজ বপিত হয়ে গেল। সম্ভবত এটিই ছিল এযাবৎ আয়োজিত সবচেয়ে স্বতঃস্ফুর্ত ও সফল সোশাল মিডিয়া সংলাপ।

সংলাপের মাঝেই মনে হলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সিটিজেন জার্নালিস্টদের উপস্থিত রাখতে বলার পরেও সিটিজেন জার্নালিজমের স্বর্গ বরিশালে কোনো সিটিজেন জার্নালিস্ট কেন নেই। পাবনাতেও একই অবস্থা। আর সংলাপ শেষে দুজন চিকিৎসকের প্রতিক্রিয়ার পার্থক্য মনের মধ্যে কাঁটার মতো বিঁধে রইলো।

Categories: ইভেন্ট