আজ- শুক্রবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  Empathy, Patriotism & Commitment Group: একটু বিশ্লেষণ       বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী       ‘পরিবর্তন চাই’ এর চার বছর       নামে কী বা আসে যায়       লৌহজং ‘সামাজিক আন্দোলন’ – আমার সুখ স্মৃতি       `একাত্তরের জননী’র সন্তানেরা       মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস    

‘পরিবর্তন চাই’ এর বুটক্যাম্পে সিটিজেন জার্নালিজমের প্রবাহ

সামাজিক সংগঠন ‘পরিবর্তন চাই’ এর বুটক্যাম্পে, ডুমনির ‘পথিক বিরতিManik Mahmud 2ঘর’ এ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআ্ই প্রোগ্রামের ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট জনাব মানিক মাহমুদ প্রথমে ঘোষনা দিলেন ‘পরিবর্তন চাই’ এর ৬৪ জেলার কমান্ডারকে ফেসবুকের ‘সিটিজেন জার্নালিজম বাংলাদেশ’ গ্রুপে সদস্য করার। সাথে সাথে ‘পরিবর্তন চাই’ এর চেয়ারম্যান জনাব ফিদা হক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সিটিজেন জার্নালিজম এর বিকাশেও কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন। একেই বলে সোনায় সোহাগা। কে সোনা, কে সোহাগা সেটা অবশ্য জানি না।

‘পরিবর্তন চাই’ এর সাথে সিটিজেন জার্নালিজমের সখ্যতা অবশ্য নতুন নয়। ছবি দেখাদেখি, সিভি বিনিময় গত সেপ্টেম্বর থেকেই চলছিল। এখন পর্য্ন্ত সিটিজেন জার্নালিজমের সর্বোচ্চ প্রদর্শনী বরিশালের জেলখাল পুনরুদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ‘পরিবর্তন চা্ই’ সহ আয়োজক ছিল। টাঙ্গা্ইলের লৌহজং পুনরুদ্ধার অভিযানেও ‘পরিবর্তন চাই’ অংশ নিয়েছে। ভবিষ্যতেও পাবনা, রংপুর, বগুড়া, গাইবান্ধা যে কোনো জেলা প্রশাসনের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক কার্যক্রমে ‘পরিবর্তন চাই’ আগ্রহের সাথে অংশ নেবে।

Quazi M ahmed

গত ৩ বছর ধরে ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম শনিবার ‘পরিবর্তন চাই’ এর ‘দেশটাকে পরিষ্কার করি দিবস’ পালিত হচ্ছে একযোগে সারাদেশে। আর তার প্রস্তুতি হিসাবে ৬৪ জেলা থেকে ২ জন করে প্রতিনিধি নিয়ে ২ দিনের বুটক্যাম্প আয়োজিত হয়। ২০১৫ সালে প্রথম দেশটাকে পরিষ্কার করি দিবসে ৪৩ জেলায় ২০০০০ স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেয়। ২০১৬ সালে দ্বিতীয়বার ৬৪ জেলায় ৭০০০০ আর এবার ২০১৭ সালে একযোগে সারাদেশে লক্ষাধিক স্বেচ্ছাসেবী দেশটাকে পরিষ্কার করি অভিযানে পথে নামে। এদেশের ইতিহাসে পরিচ্ছন্নতার জন্য একসাথে এতো মানুষ কখনো নামেনি। সে যাই হোক এবারের বুটক্যাম্পে সিটিজেন জার্নালিজম প্রবাহিত হবার কারণ আছে। এখানে বরিশাল থেকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন বরিশাল সিটিজেন জার্নালিস্ট গ্রুপের মূখ্য মানুষ দীপু হাফিজুর রহমান। আরও ছিলেন টাঙ্গাইল সিটিজেন জার্নালিস্ট গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার আকিবুর রহমান ইকবাল। সিটিজেন জার্নালিস্ট গ্রুপ, কুষ্টিয়ার নক্ষত্র খায়রুল ইসলামেরও থাকার কথা ছিল কিন্তু কুষ্টিয়ায় ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় সিটিজেন জার্নালিস্টদের প্রথম প্যাভিলিয়নের গুরুদায়িত্ব ফেলে তিনি আসতে পারেননি। ইতোমধ্যে পাবনা, বরগুনা, কালিহাAbdul Hye Shikderতিসহ আরও কয়েকটি স্থানে সিটিজেন জার্নালিজম শাখা প্রশাখা ছড়াতে শুরু করেছে। এসব স্থানে দাওয়াত না পৌঁছাতে পারার ব্যার্থতা তাদের নয়, এ ব্যর্থতা ‘পরিবর্তন চাই’ এর। তবুও সিটিজেন জার্নালিজম এমন একটি নদী যা ৬৪ জেলার ভিতর দিয়েই প্রবাহিত হবে বলে মূখ্য সংগঠক মানিক মাহমুদ স্বপ্ন দেখেন। আর এই ক্যাম্পে ৬৪ জেলারই প্রতিনিধি এক সামিয়ানার নিচে উপস্থিত। ট্রাকের ডালায় লেখা থাকে সমগ্র বাংলাদেশ ৫ টন। লেখা না থাকলেও এখানে এক সামিয়ানার নিচে সমগ্র বাংলাদেশ ৬৪X২= ১২৮ টন হয়ে বসে আছে। কাজেই এই মাহফিলে ‘পরিবর্তন চাই’ এর সাথে সিটিজেন জার্নালিজমের কাবিননামা রচিত হবারই কথা। হয়েছেও।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়কের উৎসাহে, এটুআই এর ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট মানিক মাহমুদের শ্রমে, ঘামে আর বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের সক্রিয় অংশগ্রহনে দীর্ঘ দিনের জং ধরা জনপ্রশাসনকে জনবান্ধব করার সমManik Mahmud 1য়োপযোগী হাতিয়ার হিসাবে সিটিজেন জার্নালিজম প্রশাসনিক পরিচ্ছন্নতার কথা বলে। আর ‘পরিবর্তন চাই’ পথের আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি মনের আবর্জনা পরিষ্কারের জন্যই পথে নেমেছে। পথের শুরুটা একটু আলাদা মনে হলেও পথের শেষটা দুপক্ষেরই প্রায় এক।

পথ এক হলে পথিকদের মাঝে দূরত্ব থাকার কথা নয়। আর পত্র-পত্রিকার চেয়ে সোশাল মিডিয়ার ক্রমাগত শক্তিশালী হয়ে উঠার গল্প মানিক মাহমুদ যেভাবে একটির পর একটি বাস্তব উদাহরণ দিয়ে দেখিয়ে দিলেন তা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতেই হলো। ইন্টারন্যাশনাল মোটিভেশনাল স্পিকার কাজী এম আহমেদ এবং কবি আব্দুল হাই শিকদারের সেশন দুটিও সবাই উপভোগ করেছিল কিন্তু সিটিজেন জার্নালিজম শ্রোতাদের পুরোপুরি ভাসিয়ে নিয়ে গেল। সেশন শেষ হওয়া মাত্র সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ল ফেসবুকের ‘Citizen Journalism Bangladesh’ গ্রুপে জয়েন করতে। শীর্ণ ধারায় হলেও প্রবাহিত হতে শুরু করলো নদীমাতৃক বাংলাদেশের সর্বব্যাপী সিটিজেন জার্নালিজম নদী।

Categories: ইভেন্ট