আজ- শুক্রবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  Empathy, Patriotism & Commitment Group: একটু বিশ্লেষণ       বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী       ‘পরিবর্তন চাই’ এর চার বছর       নামে কী বা আসে যায়       লৌহজং ‘সামাজিক আন্দোলন’ – আমার সুখ স্মৃতি       `একাত্তরের জননী’র সন্তানেরা       মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস    

রমেক চমকঃ সমস্যা ৫ বছরের, সমাধান ৫ ঘন্টায়

রংপুর মেডিpostকেল কলেজ (রমেক) এর বিডিএস ছাত্রীদের মানবেতর হোস্টেল জীবন বিষয়ক পোস্টটি ফেসবুকের ‘পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন বাংলাদেশ’ গ্রুপে এ্যাপ্রুভড হয় ৩০ জানুয়ারী, ২০১৭ বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৪টায়। পোস্টটি এ্যাপ্রুভ করেই গ্রুপের এ্যাডমিন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিবসহ আরও ৫ জনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মহোদয় তখন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের ১৪০তম নির্বাহী সভায় অংশ নিচ্ছেন। দুদেশের সময়ের পার্থক্য ৫ ঘন্টা হলে ওখানে তখন সকাল সাড়ে ১১টা বাজে। কয়েক মিনিটের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব জনাব মোঃ সিরাজুল ইসলাম প্রথম মন্তব্য প্রদান করেন যে তিনি দেশে ফিরেই বিষয়টি দেখবেন। এর ২ ঘন্টা পরে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৬টায় (সুইজারল্যান্ড সময় দুপুর ১টা) এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক জনাব আবুল কালাম আজাদ ধন্যবাদের সুরে মন্তব্য করেন যে, বিষয়টি সচিবের নজরে আসায় দ্রুত সমাধান পাওয়া যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। বিষয়টি সেদিনের জন্য এখানেই শেষ হতে পারতো। তাই হয় সাধারণত।

list

কিন্তু সচিব মহোদয় ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের সভার ফাঁকে সম্ভবত টি ব্রেকে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় (সুইজারল্যান্ডে দুপুর সাড়ে ৩টা) মন্তব্য করেন যে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করবেন। যদি না পারেন তাহলে দেশে ফিরে ব্যবস্থা নেবেন। এর ১ ঘন্টা পরে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায় (সুইজারল্যান্ডে বিকাল সাড়ে ৪টা) তিনি জানান রমেক অধ্যক্ষের সাথে তাঁর কথাহয়েছে এবং তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। অধ্যক্ষ তাঁকে জানিয়েছেন ২ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান করা হবে। সচিব মহোদয় বিষয়টি সামনে আনার জন্য ধন্যবাদও দেন।

এখানে ই-পার্টিসিপেশনের সবগুলো ধাপ ই-ইনফরমেশন, ই-কনসালটেশন, এবং ই-ডিসিশন উপস্থিত। এই দৃষ্টান্তটি শুধু ই-পার্টিসিপেশনের নয় সিটিজেন জার্নালিজমেরও প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এজন্য রাজশাহীর ডেন্টাল সার্জন ড. মাহফুজুর রহমান এর ধন্যবাদ প্রাপ্য। সেই সাথে এটি সোশাল মিডিয়া ফেসবুকের পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন বাংলাদেশ গ্রুপের সক্ষমতা ও কার্যকারিতারও একanother postটি উজ্জ্বল নজির।

এই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মহোদয়ের মাস দেড়েক আগের একটি পোস্টের কথা মনে পড়ল (https://www.facebook.com/groups/publicserviceinnovationblog/permalink/637264146475476/?match=c2lyYXp1bCBraGFu)। কোনো সচিবের নিজের ডিপার্টমেন্ট নিয়ে এমন পোস্ট দেয়া দেখিনি। শুনিওনি। যারা দেখেছেন তাঁরা জানালে বাক্যটি সংশোধণ করে লিখবো।

comments

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মহোদয় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের ১৪০তম নির্বাহী সভায় যোগদান করে দেশে ফিরে এসে ব্যবস্থা নিলেও মানুষ অখুশী হতো না। এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়কও হতেন না। কিন্তু  সচিব মহোদয় কয়েক ঘন্টার মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহন করে এবং সোশাল মিডিয়ায় ঘন্টায় ঘন্টায় আপডেট দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন তিনি একজন প্রকৃত ই-সচিব। জনপ্রশাসনে পরে করলেও চলে এমন কাজ আগেভাগে করে ফেলার নামই সম্ভবত জনসেবা। সেদিক থেকে এই ই-সচিবকে জন-সচিব বা সেবা-সচিবও বলা যায়। ঘটনা এখানেও শেষ হতে পারতো। নীতি নির্ধারকদের পর্বে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকারী নির্বাহী পর্ব না থাকলে ভাত খেয়ে পানি না খেয়ে থাকার মতো অস্বস্তি লেগে থাকতো। রাত পেরিয়ে ভোর হতেই সেই অস্বস্তি দূর করলেন রমেক অধ্যক্ষ ড. অনিমেষ মজুমদার ও ডেন্টাল ইউনিটের প্রধান ড. আশিক রায়হান। আমরা সোশাল মিডিয়াতেই জানতে পারলাম আপাতত স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী তিনটা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

১। নতুন ভর্তি হওয়া মেয়েদের জন্য ভাইস প্রিন্সিপালের অব্যবহৃত বাসভবন বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।

২। পুরাতনদের জন্য ফাইনাল প্রফের রেজাল্ট হওয়ার সাথে সাথে পাশ করাদের রুম খালি করে বিডিএস মেয়েদের বরাদ্দ দেয়া হবে।

৩। দ্রুত একটি ছেলেদের ও একটি মেয়েদের হল নির্মাণ করা হবে।

এ পর্যায়ে জেলা প্রশাসক, রংপুর এডিসিকে (শিক্ষা ও আইসিটি) সরেজমিনে পরিদর্শন করিয়ে জানালেন উপাধ্যক্ষের বাসভবনটিকে অস্থায়ী ছাত্রী নিবাস করার জন্য পিডব্লিউডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে ভবন সংস্কারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের কাজও শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (স্বাস্থ্য শিক্ষা) মহোদয়ের মন্তব্য পাওয়া গেলে ভাল হতো যেহেতু তিনি এই বিষয়টির সাথে সরাসরি যুক্ত। তবে রমেক অধ্যক্ষকে ধন্যবাদ প্রথমবারের মতো ডেন্টাল বিভাগকে নিয়মিতভাবে অপারেশন করার জন্য ওটি কমপ্লেক্সে সপ্তাহে একদিন নিদির্ষ্ট করে দেয়ার জন্য16425332_1813851018864690_456799060_n। এতে জনগণ যেমন উপকৃত হবে তেমনি ডেন্টাল ইউনিটের ছাত্র ছাত্রীরাও ভালভাবে ব্যবহারিক শিক্ষা লাভ করবে। সপ্তাহ খানেক পরে রমেক এর প্রযুক্তি বান্ধব অধ্যক্ষ মহোদয় সংস্কার করে অস্থায়ী ছাত্রী নিবাসের ছবিসহ পোস্ট দিয়ে জানান – ’’শেষ হলো অস্থায়ী ছাত্রী নিবাসের কাজ। সামর্থ্য সীমিত তবুও আমরা আশাবাদী’’।

দ্রুত রান তোলার মতো স্বল্প মেয়াদী সমাধান হয়ে যাবার সাথে সাথে দক্ষ ক্যাপ্টেনের মতো এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক মধ্য মেয়াদী সমাধানের দিকে দৃষ্টি দিতে বললেন। মন্ত্রি পরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব জনাব এনএম জিয়াউল আলম ভা্ইস ক্যাপ্টেনের মতো ক্যাপ্টেনের আকাঙ্খার বাস্তবায়নকে উসকে দিলেন। একদিন বাদেই স্বাস্থ্য সচিব জানালেন স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে দ্রুত একটি সভা অায়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ঘটনা এখানেই শেষ হতে পারতো কারণ জনআকাঙ্খা এখনো এতো দূর পৌঁছেনি যে এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক আবার লিখবেন সভার সিদ্ধান্ত কবে জানা যাবে।  চার দিন পরে সচিব মহোদয় আউট অফ দি বক্স  চিন্তা করে সভার এজেন্ডা ও সিদ্ধান্ত সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করে অনবদ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন –

১। ডেন্টাল ইউনিটগুলোকে মেডিকেল কলেজের অবিচ্ছেদ্ধ অংশ হিসেবে দেখা হয়না বিধায় বাজেট বরাদ্দের সুবিধার্থে অর্থনৈতিক কোড সৃজনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পত্র দেয়া হবে।
২। স্বল্প মেয়াদে ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসন সমস্যা রমেক এর ন্যায় সংশ্লিষ্ট সকলের সহায়তায় স্থানীয়ভাবে সমাধান করতে হবে।
৩। আবাসিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয়ের অপারেশন প্ল্যানের অধীনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হো্স্টেল নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।
৪। যেখানে ক্লাস রূম কিংবা ক্লিনিকেল প্রাক্টিসের জন্য স্থানাভাব আছে সেখানে নতুন করে ভবন নির্মাণ বা সম্প্রসারণ করা হবে।
৫। সলিমুল্লাহ্ মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের একাডেমিক ও হোস্টেল ভবন নির্মাণের মতো জায়গা নেই মর্মে জানানো হয়েছে বিধায় পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
৭। গোপালগঞ্জে শেখ লুৎফর রহমান ডেন্টাল কলেজের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
৮। দীর্ঘ মেয়াদে সমস্যা সমাধানের লক্ষে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি ছোট কমিটি কাজ করবে।

আবাসন সমস্যা কমবেশী সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই আছে। সেটি সবাই ভাগাভাগি করে মোকাবেলা করবে এমনটাই হবার কথা। কিন্তু বিডিএস স্টুডেন্ট হবার কারণে বাড়তি ঝামেলা পোহাচ্ছে আর এমবিবিএস স্টুডেন্ট হবার কারণে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে জাতীয় খবর শুনতে ভাল লাগে না। তবে সমস্যার স্বল্প মেয়াদী সমাধান আমাদের আশাবাদী করে। এখন মধ্যমেয়াদী সমাধানের জন্য অপেক্ষা। আর দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য প্রার্থনা।

মোঃ আতিকুর রহমান, সহকারী পরিচালক, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, বগুড়া।

Categories: কার্যক্রম