আজ- শনিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  Empathy, Patriotism & Commitment Group: একটু বিশ্লেষণ       বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী       ‘পরিবর্তন চাই’ এর চার বছর       নামে কী বা আসে যায়       লৌহজং ‘সামাজিক আন্দোলন’ – আমার সুখ স্মৃতি       `একাত্তরের জননী’র সন্তানেরা       মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস    

গুরুত্বপূর্ণ গুরুদাসপুর

হলি আর্টিজানের ঘটনার মতো ধাক্কা খেয়েছে মানুষ নাটোর জেলার গুরুদাসপুরের নাজিরপুর বহুমুgurudaspur-04-12-16-1-e1480854448227খী উচ্চ বিদ্যালয় এর ছাত্রীদের ছাত্রী বিশ্রামাগারে মাদকসেবনের ঘটনায়। হলি আর্টিজানের ঘটনার আগে মনে করা হতো জঙ্গী তৈরী হয় মাদ্রাসায়। গুরুদাসপুরের ঘটনার আগে তেমনি মনে করা হতো শহরের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অতি আধুনিক কিছু মেয়েরাই নেশা করে। গুরুদাসপুর থেকে প্রথম শোনা গেল মাদকাসক্তি মেয়েদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে বয়ঃসন্ধিকালেই এবং তা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও।

স্বাভাবিকভাবেই কেবিনেট সচিব, মূখ্য সচিব, এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক, সংস্কার ও সমন্বয় সচিব – এরকম নীতি নির্ধারক পর্যায়ের ব্যক্তিগণ উদ্বিগ্ন হয়েছেন। জেলা প্রশাসক, নাটোর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, গুরুদাসপুর, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, গুরুদাসপুর, সহকারী পরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নাটোর, সকলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছেন যার যার অবস্থান থেকে। এটুআই এর তরফ থেকেও তদন্ত করা হয়েছে।

খবরটি প্রথম প্রকাশিত হয় অনলাইন নিউজপেপার দৈনিক জাগরণ এ ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখ – নাটোর জেলার গুরুদাসপুরের নাজিরপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এর ছাত্রী বিশ্রামাগারে প্রায় ২ ডজন ছাত্রী ইয়াবা সেবন করছে ২/৩ বছর থেকে। কিন্তু ফেসবুকের ‘পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন বাংলাদেশ’ গ্রুপে বিষয়টি শেয়ারড হবার সাথে সাথে পুরো প্রশাসন নড়ে ওঠে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করতে চেষ্টা করে। পরে একজন নির্দিষ্ট মাদকাসক্ত ছাত্রীর উপর সকল দায় চাপে। ভাবা হয় ঐ ছাত্রীর বাড়িতে নেশা করার বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকরা স্কুলের কমনরুমে ঢুকিয়ে প্রচার করেছে। জেলা প্রশাসক, নাটোর ও ইউএনও, গুরুদাসপুরকে জানানো হয় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে স্থান না পাওয়ার কারণে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটিকে বিব্রত করার জন্য এভাবে সংবাদ পরিবেশন করা হতে পারে। ‘ভিলেজ পলিটিক্স’ খুবই উপাদেয় ইস্যু এমনিতেই।

কিন্তু একজন নয় অন্তত তিন জন ছাত্রী এই অপকর্মের সাথে জড়িত বলে মনে করার কারণ আছে। দুজন ছাত্রীর পরিবার সরাসরি মাদক ব্যাবসার সাথেই জড়িত। মাদক ব্যাবসার সাথে জড়িত পরিবারের সন্তানেরা মাদকের ক্যারিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হতে হতে ইউজার হতেই পারে। ছাত্রী দুজন অভিযোগ স্বীকার করেছে এমন অডিও রেকর্ড পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের সাথে জড়িত একজনেরও ঘটনার সত্যতা নিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক অডিও রেকর্ড আছে। ছাত্রীদের নাম ও অডিও ফাইলগুলো ইচ্ছে করেই প্রকাশ করা হলো না উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সক্রিয়তায় সন্তুষ্ট হয়ে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, অভিযুক্ত একটি মেয়েকে তিনি ভর্তি নিতে চাননি কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক চাপে প্রধান শিক্ষক ভর্তি করাতে বাধ্য হন। চাপ শুধু ভর্তি করিয়েই ক্ষান্ত হয়ে পরবর্তী অনিয়ম দেখেও না দেখতে প্রযুক্ত না হয়ে থাকলে অবশ্য ভাল। 15577483_1767433293473326_2011071651_n

ছাত্রীদের কমনরুমটি ছোট। একটি ডাবল খাট আর একটি চেয়ার ছাড়া আর কোনো আসবাব নেই। উপজেলার ৩১টি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে এখানেই ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা সর্বাধিক। প্রায় ১২ শত। পাঁচ শতাধিক ছাত্রীর জন্য বরাদ্দকৃত কমনরুমটিতে ইয়াবা সেবন করা কঠিন। কেউ না কেউ যে কোনো সময় এসে পড়তে পারে লাগোয়া টয়লেটে যাবার জন্য। এজন্যই হয়তো টিফিন পিরিয়ডে নয় ক্লাস চলাকালীন সময়ে অপকর্মটি করা হয় বলে শোনা যায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফরিদ উদ্দিন বলেন সন্ধ্যার পরে বখাটে ছেলেরা ছাদে মাদক সেবন করতো। আলোচিত ও অভিযুক্ত ছাত্রীদের ঘুমের ঔষধের মাধ্যমে হাতেখড়ি বলেও শোনা যায়।

প্রশংসনীয় বিষয় হলো শাহিনা খাতুন, জেলা প্রশাসক, নাটোর মহোদয় প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পেয়েও থেমে যাননি। গুরুত্বের সাথে নিয়ে বারবার তদন্ত করিয়েছেন কারণ নাটোর মাদকপ্রবণ এলাকা। তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমানকে বলেছেন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করার জন্য আলোচনা সভার ব্যাবস্থা করতে। এডি, নারকোটিক্সকে পাঠিয়েছেন মাদকের কুফল সম্পর্কে ভিডিও প্রদর্শন করতে। মোছাঃ ইয়াসমিন আক্তার, ইউএনও, গুরুদাসপুর বিদ্যালয়টিতে একাধিকবার গিয়েছেন পরিদর্শন, তদন্ত, সচেতন, সাবধান করতে। জেলা প্রশাসক মহোদয় নিজেও গিয়েছেন। ঘটনার যেটুকু সত্যতা পেয়েছেন ব্যবস্থা নিয়েছেন। অভিযুক্ত ছাত্রীকে টিসি দিয়ে বিষবৃক্ষ কেটে ফেলা যায় কিন্তু মূল উৎপাটন করা হয় না। মূলোৎপাটন করার জন্য তিনি মাদকাসক্ত ছাত্রীর চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন সভা, সেমিনার, মতবিনিময় করা হচ্ছে। যে কোনো সংস্থার প্রোগ্রামের শেষে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে যাতে এটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে মাদকের বিরূদ্ধে সকল অভিভাবককে সচেতন করার লক্ষ্যে সভা ও সমাবেশ করা হচ্ছে। পুলিশ বিভাগকেও আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদক বিরোধী কমিটি আছে। এই প্রায় অথর্ব কমিটিগুলোর কার্যক্রম তেমন চোখে পড়ে না। জেলা প্রশাসন, নাটোর কমিটিগুলো চাঙ্গা করার উদ্যোগ গ্রহন করেছে। এবিষয়ে মনিটরিং কার্যক্রম শক্তিশালী করার জন্য জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের প্রধানদের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। বরিশাল, টাঙ্গাইল, ঝালকাঠি, পাবনা, বরগুনা, গাইবান্ধা প্রভৃতি জেলা প্রশাসনের মতো সিটিজেন জার্নালিজমকে উৎসাহিত করেও ভাল ফল পাওয়া সম্ভব বলে অনেকে মনে করেন। শুধু সচেতনতার অভাবই নয় সহজলGOC appভ্যতাও মাদক ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি করে। সুতরাং জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাদক যাতে করে সহজলভ্য না হয় সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সোশ্যাল মিডিয়া নীতি নির্ধারকদের কেবল সমস্যা সমাধানে উৎসাহিত করছে তাই নয়। এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করতেও উৎসাহিত করছে। একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহি সরকার গঠনে এবং এসডিজির লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

গুরুদাসপুরের মানুষ মাস জুড়ে সরকারী কর্মকর্তাদের এমন ধারাবাহিক কার্যক্রম কখনো দেখেনি। তবুও খারাপ ঘটনায় আলোচিত হবার কষ্টে গুরুত্বপূর্ণ হতে চায় না গুরুদাসপুর।

Categories: কার্যক্রম