আজ- শুক্রবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  Empathy, Patriotism & Commitment Group: একটু বিশ্লেষণ       বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী       ‘পরিবর্তন চাই’ এর চার বছর       নামে কী বা আসে যায়       লৌহজং ‘সামাজিক আন্দোলন’ – আমার সুখ স্মৃতি       `একাত্তরের জননী’র সন্তানেরা       মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস    

কালিহাতি এখন পরিষ্কার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতীক

15327496_1790563804535364_3601591904014541224_n৫ ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯.৩১ মিনিটে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার ৭টি কলেজ, ২টি স্কুল এন্ড কলেজ, ৫৩টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৩টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৯টি মাদরাসা, ১৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬০টি আনন্দ স্কুল, এবং ৮৬টি কিন্ডারগার্টেনসহ মোট ৪০৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্কাউট, সিটিজেন জার্নালিস্ট, সুশিল সমাজ, সাধারণ মানুষ, এবং সাংবাদিকসহ লক্ষাধিক মানুষকে সাথে নিয়ে ইউএনও জনাব মোঃ আবু নাসার উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কর্মসূচি দ্বিতীয়বারের মতো পালিত হয়েছে। শুধু শিক্ষার্থীই উপস্থিত ছিল প্রায় ৯২০০০ এবং শিক্ষক ছিলেন ২৩৩৩ জন।

এবার বড় পরিসরে হবার কারণ আছে। এবছর ২৪ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা রিসোর্টে ঢাকা বিভাগের ৬টি জেলার ইনোভেশন সার্কেল অনুষ্ঠিত হয়। এই ইনোভেশন সার্কেলে সোশাল মিডিয়া ও সিটিজেন জার্নালিস্ট গ্রুপ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা লাভ করে ইউএনও মহোদয় ৩ দিন পরেই ‘কালিহাতী সিটিজেন জার্নালিস্ট গ্রুপ’ তৈরী করেন। গ্রুপটি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। এই গ্রুপে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। এছাড়াও অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ‘উপজেলা প্রশাসন, কালিহাতি’ এবং Abu Nasar Uddin ও Uno Kalihati আইডিতে সর্বস্তরের মানুষকে অবহিত করে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পত্র প্রেরণ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে সভাও করা হয়।

‘নাসার’ নামটা ব্যতিক্রমী। মনেহয় যেন ‘ই’ কার লিখতে গিয়ে ভুল করে ‘আ’ কার লেখা হয়েছে। নামের মতো মানুষটাও ব্যতিক্রমী। টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার এই ইউএনও মহোদয় হাত বা মুখ মুছে টিস্যু ফেলার যায়গা না পেলে পকেটে রেখে দেন। স্ত্রী কাপড় ধোয়ার মাঝে পকেট থেকে ভেজা টিস্যু বের করতে করতে রাগ করেন। পরিচ্ছন্নতার এমন অভ্যাস থেকেই হয়তো প্রতিষ্ঠান পরিষ্কারের পরিকল্পনা।

তিনি নিজে অবশ্য বলেন ইউএনও হিসাবে যোগদানের পরপরই কয়েকটি স্কুল ভিজিট করে দেখলেন শেণিকক্ষ, বারান্দা, প্রাঙ্গন সবকিছুই ভীষণ অপরিষ্কার। এরপর ‘আমার বিদ্যালয় আমার অহংকার, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা আমার অঙ্গীকার’ স্লোগানকে সামনে রেখে কালিহাতী উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষার্থীসহ এলাকার সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করেন ২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর। শুধু পরিষ্কার করা নয় ৩৫টি প্রতিষ্ঠানে একটি করে ময়লা ফেলার বিনও দিয়েছেন। এবছর ৫০টি বিন দেয়া হবে। বিজয়ের মাসের শুরুতে সব ময়লা দূর করার জন্য এই তারিখ নির্ধারণ। যদিও এবছর অনিবার্য কারণে কর্মসূচিটি ৫ ডিসেম্বর পালিত হয়েছে।

একদিন ঘটা করে পরিষ্কার করাটা বড় কথা নয়। এই কর্মসুচীর ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার মানসিকতা গড়ে উঠছে। এটিই আসল কথা। বিদ্যালয় যে পরিষ্কার করতে এবং পরিষ্কার রাখতে হয় এই বোধটিই শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিলো না। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিদ্যালয়সহ আশপাশ এবং নিজেকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে খানিকটা সচেতন হয়েছে বলে বেশ কয়েকজন অভিভাবক সামনাসামনি এবং সিটিজেন জার্নালিস্ট গ্রুপে মন্তব্য করেছেন। বাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশসহ নিজেকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সুন্দর মনের অধিকারী হবে বলে আশা করা যায়। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে এই খবর। কর্মসূচী বাস্তবায়নের পরও কালিহাতি সিটিজেন জার্নালিস্ট গ্রুপ, উপজেলা প্রশাসন, কালিহাতি পেজ এবং Abu Nasar Uddin ও Uno Kalihati আইডিতে অসংখ্য মতামত পাওয়া গেছে এবং যাচ্ছে।

লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো প্রথম কর্মসূচির কথা প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু দ্বিতীয় কর্মসূচি খুব একটা দেখা যায় না। এখানে প্রথমবার সোশাল মিডিয়া ব্যবহৃত হয়নি, সিটিজেন জার্নালিস্টরাও জড়িত ছিলেন না। এই দুই সংযোজন কর্মসূচির কলেবর বৃদ্ধিতে দারুণভাবে ভূমিকা রেখেছে। আগামী ডিসেম্বরে তৃতীয় কর্মসূচির কথা মাথায় রেখে কিছু পরিকল্পনা এখনই করা হয়েছে, যেমন –

১। এসেম্বলীতে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা।
২। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া।
৩। কাব/স্কাউট/রোভার মিটিং এ আলোচনা করে তাদের এই কাজে ব্যবহার করা।
৪। উদ্ভুদ্ধকরণ নাটিকা তৈরী করে স্কুল/কলেজ ও জনবহুল স্থানে প্রদর্শণ করা।
৫। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য পুরস্কৃত করা।
৬। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পোস্টার লাগানোর জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা।
৭। সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে একটি সামাজিক আন্দোলন সূচিত করে ক্লীন কালিহাতি গড়ে তোলা।
৮। প্রতিটি ক্লাসের পরিচ্ছন্নতা দেখার জন্য ক্লাস ক্যাপ্টেন অথবা স্কাউট/রোভারদের দায়িত্ব প্রদান করা।
৯। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন করা।
১০। প্রতিবছর ১ ডিসেম্বর পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা। সম্ভব হলে সপ্তাহব্যাপী পালন করা।
১১। জনমত গঠনের লক্ষে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা।
১২। শিগগির সিটিজেন জার্নালিস্ট গ্রুপ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সক্রিয় সদস্যদের নিয়ে সভা করে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা।

স্কুল জীবনে স্কাউট হিসাবে সারিয়াকান্দি মথুরাপাড়া বি.কে. উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ পরিষ্কার করেছেন, কলেজ জীবনে রোভার হিসাবে পরিষ্কার করেছেন কলেজ ক্যাম্পাস, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার পাশের কচুরিপানাভরা দূর্গন্ধময় পুকুর, আর এখন কর্ম জীবনে ইউএনও হিসাবে পরিষ্কার করছেন উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা যে ঈমানের অঙ্গ-এটা এখন কালিহাতির যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেলেই টের পাওয়া যায়।

Categories: কার্যক্রম