আজ- শনিবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৭ ইং, ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী       ‘পরিবর্তন চাই’ এর চার বছর       নামে কী বা আসে যায়       লৌহজং ‘সামাজিক আন্দোলন’ – আমার সুখ স্মৃতি       `একাত্তরের জননী’র সন্তানেরা       মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       বন্যার্তদের জন্য দান নয় ঋণ শোধের আয়োজন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস    

ডেথ নোট

আপনার মতো গোলগাল একজন মানুষের ওয়াজিব পূরণ করছি জেনে ভাল লাগছে। আমরা গোলগাল পছন্দ করি। গত বছর আমার মাকে জান দিতে হয়েছে চিমসা শুকনা এক লোকের জন্য।

মৃত্যুর আগে শুধু অনুরোধ ছোট বাচ্চাদের সামনে ওয়াজিব পালনের কাজটি করবেন না। ওদের উপর বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে। সিটি কর্পোরেশন যদি জায়গা ঠিক করে দেয় তাহলে সেখানে গিয়ে করবেন। নিজের বাড়িতে, আঙ্গিনায় বা গ্যারেজে করতে হলেও একটু আড়াল তৈরী করে করবেন, প্লিজ। প্রকাশ্যে করলে যে বাড়তি সোয়াব আছে তা কিন্তু নয়। এমন কথাও বলতে শুনেছি – ‘না না বাচ্চারা থাকুক, ওদের ঈমান শক্ত হবে’। আপনিও কি মনে করেন ছুরি, রক্ত, কাটাকাটি দেখলে ঈমান শক্ত হয়? তাহলে তো কসাই আর ডাক্তারদের ঈমান সবচেয়ে বেশী শক্ত হবার কথা।

টিভিতে সিক্স মিলিয়ন ডলান ম্যান দেখে শিশু ছাদ থেকে লাফ দেয় এটা আপনারা বোঝেন। স্টার জলসায় কূটনামী দেখে মেয়েরা কূটনামী শিখছে এটাও বোঝেন। হলি আর্টিজানে হাতে বন্দুক থাকতে চাকু দিয়ে জিম্মিদের জবাই করার কারণ কি হতে পারে এটা বোঝার চেষ্টা করে দেখুন প্লিজ। হয়তো আরও কারণ আছে কিন্তু প্রকাশ্যে জবেহ করা যে একটি কারণ হতে পারে সেটাও একটু আমলে নিন।

বেঁচে থাকার জন্য আপনাদের অনেক কিছুই করতে হয়। এর মানে তো এই নয় যে সবকিছু প্রকাশ্যে করতে হবে। প্রকাশ্যে এবং শিশুদের সামনে কোরবানী না করাই তো ভাল। ডেকোরেটরের থেকে সাইড পর্দা ভাড়া করে একটু আড়াল তৈরী করার চেষ্টা করতে পারেন। সবাই যদি এটুকু আড়ালের চেষ্টা করেন দেখা যাবে একসময় এটাই নিয়ম হয়ে দাঁড়াবে। শুধু দেখতে ভাল লাগার জন্য আপনারা কতো কিছু করেন! খাবার সাজিয়ে পরিবেশন করেন, পোষাকে নক্সা করেন, ঘরে পর্দা ঝুলান, আরও কতো কি! শুধু দেখতে খারাপ লাগে বলে আপনারা কতো কিছু করেন না! অন্যের সামনে খিলাল করেন না, দাঁত ব্রাশ করেন না, নাকের লোম তোলেন না। অথচ সেই আপনারা….

শিশুদের মানসিক গঠনই শুধু নয় পরিবেশ দূষণের দিক থেকেও এটি গ্রহণযোগ্য নয়। কুরবানী ওয়াজিব, আর নামাজ ফরয। নামায তো আপনারা উঠানে গিয়ে পড়েন না। ওযু তো আপনারা ড্রইংরুমে বসে করেন না। বাসর রাত তো আপনারা আতরাফুল মখলুকাতদের মতো হাটে মাঠে পালন করেন না। যে কোনো কাজ স্থান বুঝেই করেন। গ্রামের মানুষেরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাড়ি বাড়ি না করে সমাজে অনেকে মিলে এক জায়গায় কুরবানী করে। আপনারা শহরের মানুষগুলোই যেন কেমন! এরমধ্যে ঢাকার মানুষগুলো সেরা। শহরের নাম ঢাকা বলেই বোধহয় এদের কোনো কিছুতে রাখঢাক নেই।

আপনারা ফাঁসি প্রকাশ্যে দেন না। অপরাধিকে শাস্তি পেতে দেখলে অপরাধ প্রবণতা খানিকটা কমতো। তাও কেন করেন না? যান পবিত্র নগরী মক্কায় গিয়ে ৬৪ তলা ফ্ল্যাট থেকে নেমে হারাম শরিফের বাইরে রাস্তার উপর কুরবানী দিয়ে আসেন। দেখেন পারেন কিনা।

আমার মা বাংলাদেশী আর বাবা অস্ট্রেলিয়ান। বাবার মুখে শুনেছি অস্ট্রেলিয়ায় মুসলমানের সংখ্যা ৫ লাখের মতো। কোনো ধর্ম পালনে সেখানে বাধা নেই তবে কিছু নিয়ম কানুন আছে। যেমন আজান দিতে মাইক ব্যাবহার করা যাবে না, প্রকাশ্যে কোরবানীও দেয়া যাবে না। শুধু কোরবানী না প্রকাশ্যে যে কোন পশু হত্যা ঐ দেশে সম্পূর্ণ নিসিদ্ধ তা সে হাঁস মুরগী গরু ছাগল যাই হোক না কেন। সেখানে স্লটার হাউস বা আধুনিক কসাইখানা গুলোতে ধর্ম মতে কোরবানী দেবার ব্যাবস্থা আছে। এখানে বিভিন্ন এলাকার মুসলমানেরা ছোট ছোট গ্রুপ করে স্লটার হাউসে কোরবানী দেয়। সেখান থেকে কেটে তৈরি করা মাংস বাড়ি বাড়ি পৌছে দেয়া হয় কিংবা এলাকা ভিত্তিক কেন্দ্রে গিয়ে নিয়ে আসতে হয়। কারো কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।

কোনো পরিবর্তন রাতারাতি করা কঠিন। দেশের কিছু কিছু আশরাফুল মখলুকাত এটা শুরু করলে এর পক্ষে ধীরে ধীরে জনমত সৃষ্টি হবে এবং একদিন আইনও তৈরি হবে।

Categories: আইডিয়া