আজ- শুক্রবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  Empathy, Patriotism & Commitment Group: একটু বিশ্লেষণ       বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী       ‘পরিবর্তন চাই’ এর চার বছর       নামে কী বা আসে যায়       লৌহজং ‘সামাজিক আন্দোলন’ – আমার সুখ স্মৃতি       `একাত্তরের জননী’র সন্তানেরা       মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস    

ফটোকপি সমাচার

জামালপুরে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে হানিফ নামে এক চিজ ছিল। তাকে একটি চিঠি দিয়ে যদি বলেছি ২ কপি ফটোকপি করে আনো। সে ২ ঘন্টা পর এসে মূল কপি আর ফটোকপি মিলিয়ে ২ কপি বুঝিয়ে দিয়েছে।

বগুড়া অফিসের আলীম হয়তো সময় মতো ২ কপি করে এনেছে কিন্তু ফিরে এসে কিছু বলবে না। অনেক সময় পরে যখন মনে পড়েছে, ডেকেছি, তখন বলেছে – আমি তো সেই কখন করে এনেছি স্যার।

ফরিদপুরের নজরুলের সাধারণত দেড় ঘন্টা লাগে। আপনি দুপুরের আগেই পাঠান আর দুপুরের পরেই পাঠান সে বাচ্চাকে স্কুল থেকে নিয়ে বাসায় রেখে আসতে গিয়ে দেরী করবে। বাচ্চার স্কুল সবসময় ওকে ফটোকপি করতে পাঠালেই ছুটি হয়।

হান্নানের ফটোকপি টাইম আড়াই ঘন্টা। এক ঘন্টা পরে খোঁজ নিলে শুনবেন সে নামাজ পড়ছিলো অথবা অফিসের অন্য কাজ করছিলো। এরপর অফিসের অন্য কেউ তাকে কোনো কাজের কথা বলবে। এজন্য আরও আধ ঘন্টা যাবে। তারপর ফটোকপি করতে যাওয়া আসা মিলিয়ে ঘন্টাখানেক তো লাগবেই।

সিরাজগঞ্জের গফুর আরেক কাঠি সরেস। সে ফটোকপি করতে বের হলে কাছের দোকানগুলো সব বন্ধ হয়ে যায়। বেচারাকে তখন রিক্সা বা অটোতে করে দেড় মাইল দূর থেকে যাওয়া আসা বাবদ কুড়ি টাকা খরচ করে পাঁচ টাকার ফটোকপি করিয়ে আনতে হয়। টাকা কিছু বেশী খরচ হলেও গফুর অন্য সবার চেয়ে তাড়াতাড়ি ফেরে। প্রায় কখনোই এক ঘন্টা পার করে না।

রাজশাহীর রহিমকে ফটোকপি করতে পাঠানোর চেয়ে প্রেস থেকে ছাপিয়ে আনতে সময় কম লাগে। দুপুরের আগে পাঠালে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সে বাসায় খেতে যাবে আর দুপুরের পরে পাঠালে দোকানের লোক বাসায় খেতে গেছে বলে সে ওখানে বসে অপেক্ষা করবে।

মৌলভীবাজারের সুখেনকে ফটোকপি করতে পাঠানোর আধ ঘন্টা পরে খোঁজ নিলে দেখা যাবে সে অফিসেই আছে। জিজ্ঞেস করলে বলবে – গেছিলাম স্যার, বিদ্যুৎ ছিলো না তাই শুধু শুধু বসে না থেকে চলে এসেছি, এখন আবার যাচ্ছি। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই তার ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যাবে এবং এক ঘন্টা পর ফিরে এসে বলবে অনেক ভিড় ছিলো। তাই লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করিয়ে আনতে হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ে কর্মরত অনেক কর্মকর্তার অভিজ্ঞতা অনেকটা এরকমই মনে হয়। অফিসে ফোন আছে, ট্যাব আছে, কম্পিউটার আছে, প্রজেক্টর আছে, ফটোকপিয়ার থাকলে সমস্যা দেখি না। সরকারী চাকুরিজীবী এক বন্ধু অবশ্য সমস্যা দেখে। বলে অফিসের সবাই নাকি ব্যক্তিগত কাজেই ফটোকপিয়ার বেশী ব্যবহার করবে। প্রিন্টার নিয়ে এরকম আশংকা বছর দশেক আগে শুনেছিলাম। সে আশংকা এখন আর আমাদের উদ্বেলিত করে না। কাজেই ফটোকপিয়ারের আশংকাও উদ্বিগ্ন হবার মতো হবে না ভাবছি। বোকাদের বন্ধুরা সাধারণত বুদ্ধিমান হয়। আমার দ্বিতীয় বুদ্ধিমান বন্ধু বললো স্ক্যান করে প্রিন্ট করলেই তো আর ফটোকপিয়ার লাগে না। সম্ভবত টাইম এ্যান্ড টাইড ওয়েট ফর হিম। তাই সময় তার কাছে কোনো সমস্যা নয়। আমার তৃতীয় বন্ধু আরও বুদ্ধিমান। সে বললো ক্যানন ২৭০০ প্রিন্টার কিনে নিলেই অার ফটোকপিয়ার লাগবে না। অথচ এই পদ্ধতিতে ২০ কপি করতে যদি ১০০ টাকা খরচ হয় তাহলে ফটোকপিয়ার দিয়ে খরচ পড়বে মাত্র কুড়ি টাকা। একটি অফিসে মাসে যদি ৫০০ পৃষ্ঠা ফটোকপি করতে হয় তাহলে-


———– সময়      খরচ         যাওয়া-আসা
পূর্বের    ৭৫ ঘন্টা    ১০০০ টাকা*    ৫০ বার       *  প্রতি পৃষ্ঠা দেড় টাকা হিসাবে ও যাতায়াত ভাড়া বাবদ
পরের    ৫ ঘন্টা     ৪০০ টাকা**    ৫ বার***    **  কাগজ, কালি ও বিদ্যুৎ খরচ
পার্থক্য  ৭০ ঘন্টা    ৬০০ টাকা      ৪৫ বার      ***  কাগজ কেনা, কালি কেনা, টেকনিশিয়ান ডাকা প্রভৃতি


সরকারী অফিসে ফটোকপি করাতে গিয়ে TCV এর T ও V যে হারে ব্যয় হয় তাতেই ফটোকপিয়ার মেশিনের দাম উঠে আসবে বলে আমার ধারণা। সেজন্য আমার বিনীত দাবী প্রতিটি অফিসে ফটোকপিয়ার মেশিন থাকা দরকার। জানি ই-ফাইলিং, ই-নথি আর পেপারলেস অফিসের কথা বলবেন অনেকে। কিন্তু আমার ধারণা পেপারলেস অফিস হতে এখনও যে সময় লাগবে তা অফিস প্রতি একটি করে ফটোকপিয়ারের প্রয়োজনেকে বাতিল করবে না। অনেক অফিসে ফটোকপিয়ার আছেই। কিছু অফিসে নেই। সেই কিছু অফিসগুলোতে অন্তঃত একটি ফটোকপিয়ারের ব্যবস্থা করা দরকার। অফিসে অফিসে ফটোকপিয়ার থাকলে TCV এর C এর উপর তেমন প্রভাব না পড়লেও T ও V যে হারে কমবে তাতেই a2i উৎসাহী হয়ে কিছু একটা করার জন্য তৎপর হবে বলে ভাবতে ভাল লাগছে। হলে আরও ভাল লাগবে।

Categories: আইডিয়া