আজ- সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  Empathy, Patriotism & Commitment Group: একটু বিশ্লেষণ       বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী       ‘পরিবর্তন চাই’ এর চার বছর       নামে কী বা আসে যায়       লৌহজং ‘সামাজিক আন্দোলন’ – আমার সুখ স্মৃতি       `একাত্তরের জননী’র সন্তানেরা       মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস    

‘পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন বাংলাদেশ’ গ্রুপঃ একটু বিশ্লেষণ

Inno 2 Fake IDs Juicy IDs OK IDs

এই মুহুর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে কার্যকর ফেসবুক গ্রুপগুলোর মধ্যে ‘ইনোভেশন ইন পাবলিক সার্ভিস বাংলাদেশ’ অন্যতম। প্রায় সাড়ে আট হাজার এর সদস্য সংখ্যা। যদিও এ্যাকটিভ সদস্য বোধহয় ৫০০ এর বেশী হবে না। এ্যাকটিভ সদস্য বৃদ্ধির জন্য আমার একটি প্রস্তাব আছে। সরকারী সকল কর্মকর্তাকে (ইনোভেশনের প্রশিক্ষণ পাননি এমন অনেক কর্মকর্তাগণ এই গ্রুপ পেজটির কথা জানেন না বিধায়) এই গ্রুপ পেজটি ভিজিট করার তাগাদা দিয়ে নিম্নোক্ত ধরণের এসএমএস (শুধু ইমেইল করে ভাল ফল আসবে না আশঙ্কায়) করলে ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে বলে আমার ধারনা।

Please visit and post or at least put like and comment regularly since you are a government officer.
https://www.facebook.com/groups/publicserviceinnovationblog/

কিন্তু গ্রুপের সদস্য বৃদ্ধির তরিকা আমার এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য গ্রুপটির প্রকৃতি বিশ্লেষণ। এই লেখাটি যখন লিখছি তখন গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ৮৪০০ জন (যখন প্রকাশিত হলো তখন ৮৪৩৭ জন)। এর মধ্যে প্রায় ১০০০ মহিলা এবং বাকী প্রায় ৭০০০ পুরুষ। অর্থাৎ প্রতি সাত ভাইয়ের আছে মাত্র এক চম্পা বোন। সরকারী কর্মকর্তার মধ্যেও নারী পুরুষের অনুপাত এরকম ৭:১ কিনা সেটা অবশ্য আমার জানা নেই।

এই গ্রুপে সম্রাট আছেন একজন Somrat Ashok কিন্তু রাজা, বাদশাহ নেই। তবে একজন ক্রীতদাস আছেন, শান্তনু ক্রীতদাশ। রাজ্য বিহীন রাজকণ্যা আছেন একজন। চাঁদনী রাতের স্বপ্নচারী, ইউরেনাস সালাহউদ্দিন, মুগ্ধ মধ্যরাত এমনকি সূর্য সন্তানও আছেন। এখানে প্রায় ১৫০টি আইডি বাংলায়। বাকীগুলে ইংরেজীতে। সবচেয়ে মজার আইডিটি হলো – Al আল Amin আমিন – যেখানে বাংলা ও ইংরেজীর অদ্ভুত সহাবস্থান দেখা যায়।

সদস্যদের মধ্যে তিনজন মন্ত্রী, কয়েকজন সচিব, ৪০ জন অতিরিক্ত সচিব, ১৫ জন ডিজি, ৬৯ জন যুগ্ম সচিব, ডিভিশনাল কমিশনাররা সবাই, ১১০ জন উপ সচিব, ৫৩ জন ডিসি, প্রায় একশত এডিসি, প্রায় দুইশত ইউএনও, ১৫৭ জন সিনিয়র এসিসট্যান্ট সেক্রেটারী, ৪৬৯ জন এসিসট্যান্ট কমিশনার, প্রায় একশত এসি ল্যান্ড, ৩২১ জন প্রকৌশলী, ১৭৩ জন এসিসট্যান্ট প্রফেসর, ১১০ জন লেকচারার, ৪০ জন প্রফেসর, ৯৮ জন কৃষি কর্মকর্তা, ৯৭ জন ব্যাংকার, ৯০ জন প্রোগ্রামার, ৫৩ জন এএসপি, ২৭ জন কনসালট্যান্ট, ২৫ জন চিকিৎসক, ১৫ জন সিস্টেম এনালিস্ট, ১১ জন সাব রেজিস্ট্রার, ৫ জন লাইব্রেরীয়ানসহ আরও অনেকে আছেন।

সরকারী বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমাজসেবার ১৮৩ জন, মৎস্য বিভাগের ১৬৮, সমবায়ের ১৩২, যুব উন্নয়নের ৭৩, পশু সম্পদের ৭২, প্রাথমিকের ৭০, খাদ্য বিভাগের ৫৯, বিআরডিবির ৫৬, মাধ্যমিকের ৪১, পাসপোর্টের ৪৬, কৃষি সম্প্রসারণের ৬৮, পরিবার পরিকল্পনার ৪৭, নির্বাচন কমিশনের ৪৬, হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষার ৩৮, স্থানীয় সরকারের ২৯, ইউএনডিপির ১৮, এটুআই এর ২৬, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের ২৫, জনশক্তি ব্যুরোর ২১, মহিলা বিষয়কের ২০, কর বিভাগের ১৯, তথ্য বিভাগের ১৪, আনসার ভিডিপির ১৩, প্রকল্প বাস্তবায়নের ১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৮, পল্লী বিদ্যুতের ৭, বিসিসি’র ৬, বিসিকের ৪ জন, টিটিসির ৩জনসহ আরও অনেকে এই গ্রুপের সদস্য।

এই গ্রুপের ৬ জন এডমিন আছেন, মানিক মাহমুদ, সানাউল হক, সম্রাট অশোক, মির্জা রাকিবুল হাসান, শহীদ নাজিম, এবং খন্দকার আনওয়ারুল ইসলাম মিলু। ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর জনাব মানিক মাহমুদ এই গ্রুপটি ওপেন করেন। এবং এখন পর্যন্ত তিনিই সবচেয়ে বড় কন্ট্রিবিউটর। তিনি একাই ২৯২৫ জনকে এই গ্রুপে এ্যাড করেছেন। তাঁর ধারে কাছেও কেউ নেই। সবচেয়ে ধারে আছেন সম্রাট অশোক যাঁর স্কোর ৯২০ এবং কাছে আছেন মির্জা রাকিবুল হাসান ৮৯৬ নিয়ে। চতুর্থ অবস্থানে থাকা মিজানুর রহমান স্যার সদস্য যোগ করেছেন ৩৬৩ জন। এছাড়াও শহীদ নাজিম ৩২৫, ওয়ারেস আনসারী লিমন ২৬৬, আয়েশা হক ২২৯, আসিফ আনওয়ার পথিক ১৯০, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ১৭৭, জাহেদ পারভেজ ১৬৮, আতিকুল কবির ১৩২, কেএএম মোরশেদ ১২২, বরকত নূরী ১০৮, মাহফুজ ভু্ইয়া ১০৮, মোঃ আতিকুর রহমান ৬৭, মোঃ নাজমুল হক ৬৪, ফারজানা আফরোজ ৬৩, সাদিয়া শবনম ৬১, মোমেন আব্দুর রউফ ৫৫, হাবিবুর রহমান ৫৩, ডলার সাঈদ ৫২, রণজিৎ দাস ৪৪, আফজাল হোসেন ৪৩, আনোয়ার হোসেন ৪৩, সারওয়ার আলম ৪১, শাহীনা কবির ৪০, আনোয়ার হোসেন ৩৮, আফজাল হোসেন সারওয়ার ৩৭, মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন ৩১, সাইফুল ইসলাম ৩০, সিদ্দিক রেজা ২৮, এমজে কবির জুয়েল ২৬, সৈয়দ বেলাল হোসেন ২১, শাহেবুল আলম ১৮, আনাম সিদ্দিক ১৬, সরকার শম্ভু নাথ ১৬, সালাহউদ্দিন আহমদ ১৪, মনির মোল্লা ১৪, মাহবুবুল আলম ১৪, মোঃ গোলাম মোস্তফা ১৩, রাশেদ হোসেইন ১৩, মনির মোল্লা ১৩, জহিরুল ইসলাম ১২, মোঃ হাসিবুল মাহমুদ ১২, সানাউল হক ১১, সুব্রত চক্রবর্তী ১০, মাশফাকুর রহমান ১০, সুমি মজুমদার ১০ জন সদস্য যোগ করেছেন। এডমিন খন্দকার আনওয়ারুল ইসলাম মিলু কোনো সদস্য যোগ করেননি এই গ্রুপে। আর এডমিন শহীদ নাজিম কখনও কিছু পোস্ট করেননি। সে যাই হোক সবাইকে সবকিছু করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। জ্যাক অফ অল ট্রেড হবার চেয়ে মাস্টার অফ ওয়ান ট্রেড হওয়া অনেক ভাল।

এই গ্রুপে কেবিনেট সচিব, মূখ্য সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং কেবিনেট ডিভিশনের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মহোদয়ের ভূমিকাটা সত্যিকারের অনুঘটকের। ক্রিয়েটর এ্যাডমিন হিসাবে মানিক মাহমুদ স্যারকে সবচেয়ে বেশী এ্যাকটিভ দেখা যায়। অপর এ্যাডমিন সানাউল হক স্যারের মেদহীন মন্তব্যের লেজার আনকাট ডায়মন্ড কেটে দ্যুতি ছড়ায়। নিয়মিত ভূমিকা রাখেন প্রশান্ত কুমার রায়, মুহম্মদ আব্দুল্লাহ, দিলওয়ার বখত, মাহবুব কবির মিলন, বরকত নূরী স্যারসহ আরও অনেকে। এই মানুষগুলোসহ বাকী সবাই মিলে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের শুধু নতুন ইতিহাসই রচনা করছেন না, খুব শক্তিশালী একটি অস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ ঘটিয়েছেন। জাতি এই কারিগরদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

আর এজন্যই এই গ্রুপের মধ্যে থাকা প্রতিষ্ঠান ও পদের আইডিগুলো সরিয়ে ফেলা দরকার। গ্রুপের প্রায় সাড়ে আট হাজার সদস্যের মধ্যে এধরণের প্রায় সাড়ে চারশো আইডি ফেসবুকের নিয়ম অনুসারে ফেক আইডি হিসাবে বিবেচিত। এতো গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপে এরুপ ত্রুটি সম্মানজনক নয়। পদ বা প্রতিষ্ঠানের নামে ফেসবুকে পেজ খোলা উচিৎ। আইডি শুধু ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য তাই আইডি খুলতে জন্মতারিখ, জেন্ডার এসব তথ্য দিতে হয়। পদ বা প্রতিষ্ঠানের নামে যে পেজগুলো খোলা হবে সেগুলোর এ্যাডমিনশীপ দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বুঝিয়ে দেবার রীতিও চালু করা দরকার দপ্তরগুলোতে।

এই একটু বিশ্লেষণের কাজটি বেশ সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর ছিলো। অনেকটা বিভিন্ন রকম ডাল মিশে যাবার পর একটি একটি করে বেছে আলাদা করার মতো। এই বিশ্লেষণ যদি পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন বাংলাদেশ গ্রুপকে আরও জনপ্রিয়, ত্রুটিমুক্ত এবং কার্যকর করার ক্ষেত্রে একটুও কাজে লাগে আমার কিন্তু একটু নয় অনেক ভাল লাগবে।

Categories: পরিকল্পনা