আজ- শুক্রবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  Empathy, Patriotism & Commitment Group: একটু বিশ্লেষণ       বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী       ‘পরিবর্তন চাই’ এর চার বছর       নামে কী বা আসে যায়       লৌহজং ‘সামাজিক আন্দোলন’ – আমার সুখ স্মৃতি       `একাত্তরের জননী’র সন্তানেরা       মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস    

সেবা গ্রহীতার জুতো পায়ে দিয়ে পোস্ট করুন

বিষয়টি প্রথম আমার নজরে এলো সমাজসেবার ডিজি স্যারের পোস্ট দেখে (না দেখে বলা উচিৎ)।

মেজর জেনারেল, লেফটেন্যান্ট জেনারেল, ডাইরেক্টর জেনারেল– নাম শুনলেই গা ছমছম করে। তবু সাহস করে লিখলাম – ‘‘আপনার পোস্ট দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি’’। কিছুক্ষণ পর দেখি পোস্টের স্ক্রিন শট দিয়ে কমেন্ট (পরে জেনেছি স্যারের নির্দেশেই)।

seba grohitader juto

কিন্তু স্ক্রিন শট পাঠিয়ে তো আর সবাইকে পোস্ট দেখানো যাবে না। আইটি বিশেষজ্ঞ মির্জা ভাই বললেন স্যার প্রথমে নিজের প্রোফাইলে বা কোনো গ্রুপে পোস্ট করেছেন। পারমিশন দেয়া ছিল ‘অনলী ফ্রেন্ডস’ (‘পাবলিক’ বা সকল সেবা গ্রহীতার জন্য নয়)। পরে এই গ্রুপে শেয়ার করেছেন। এজন্য শুধু তাঁর ফ্রেন্ডরাই দেখতে পাচ্ছেন। আপনি ফ্রেন্ড লিস্টে নেই তাই……

বললাম একটা নির্দেশনামূলক পোস্ট দিন। সবাই যেন বুঝতে পারে কি করতে হবে আর কিভাবে করতে হবে। এটাই আপনার ইনোভেশন।

তিনি পোস্ট দিলেন। অনেকক্ষণ হ্যাশট্যাগের কথা বলে নীচের দিকে লিখলেন ‘‘আপনার প্রোফাইল, পেইজ বা গ্রুপ থেকে এই পেইজে শেয়ার করার সময় প্রাইভেসি পাবলিক করে নেবেন’’। যা পড়তে হলে অনেক নীচে নামতে হয়।

যাঁরা এখনও অতোটা নীচে নামেননি তাঁদের প্রতি অনুরোধ ‘‘শুধু ইনোভেশন নয় ফেসবুকে পোস্ট করার সময়ও সেবা গ্রহীতার জুতো পায়ে দিয়ে পোস্ট করুন। পোস্টের প্রাইভেসি ‘অনলী ফ্রেন্ডস’ না রেখে ‘পাবলিক’ বা সকল সেবা গ্রহীতা করুন। এমপ্যাথেটিক হোন’’।

আমরা পোস্টের সেবা গ্রহীতারা পোস্টটি পড়তে পারছিনা। আমাদের না পড়তে পারার কষ্ট বুঝে এমনভাবে পোস্ট করুন যেন পড়তে পারি ।

কিভাবে করবেন সেটা এই পোস্টের সাথে ছবিতে তীর চিহ্ন দিয়ে দেখানো হয়েছে – কোথায় ক্লিক করে প্রাইভেসি ‘অনলি ফ্রেন্ডস’ থেকে ‘পাবলিক’ করতে হয়।

প্লিজ করুন। নাহলে মনেহয় দারুন একটি বই পড়তে পড়তে হঠাৎ একটি পাতা নেই, ছেঁড়া। আবার কিছু দূর পড়ার পর আরেকটি পাতা ছেঁড়া। পাতাগুলো না বুঝে বা অনিচ্ছায় ছেঁড়া জানলেও কষ্ট ঠিকই হয়।

কাজেই এটি কোনো পোস্ট নয়, সেবা গ্রহীতাদের কষ্টের আর্তনাদ।

সবাইকে ফ্রেন্ড করাও সম্ভব না। ফ্রেন্ড করা যায় ৫০০০। এই গ্রুপের সদস্য এখনই ৮০০০+।

এরপর অজয় স্যারের পোস্ট দেখতে না পেয়ে পুরোই ঘাবড়ে গেছি। তাঁর ফ্রেন্ড লিস্টে আছি, তাও কেন দেখতে পাচ্ছি না? ফেসবুকের দেখি রকম সকমের শেষ নেই।

তারপর জেলা প্রশাসক যশোরের পোস্টে মানিক স্যারের আর্তনাদ পড়লাম–‘‘এ্যাটাচমেন্ট খোলা যাচ্ছে না’’। গ্রুপের এ্যাডমিনই দেখতে পাচ্ছেন না, আমি তো কোন ছার। ভেবেছিলাম দেখা যায় না এমন পোস্টগুলো এ্যাপ্রুভ না করলেই হয়। এখন তো মনে হচ্ছে এ্যাপ্রুভ করার সময় বোঝাও যায় না। কি মুশকিল!

ইনোভেশনের প্রশিক্ষণে ফেসবুকে পোস্ট করতে বলা হয়। কিন্তু প্রাইভেসি ‘পাবলিক’ করে কিভাবে পোস্ট করলে সবাই দেখতে পাবে সেটা বলা হয় না। বোঝা গেল বলা লাগবে।

আসলে অনেকেই অনেকের পোস্ট দেখতে পাচ্ছে না। কিন্তু উল্লেখ না করার কারণে অগোচরে থেকে যাচ্ছে। যার পোস্ট তিনি তো দেখতে পান। বুঝতেই পারেন না – দেখা যাচ্ছে না। কাজেই এখন থেকে দেখতে না পেলে লিখুন সে কথা।

‘আনঅ্যাভেইলেবল পোস্ট’ ক্যাটাগরিতে সার্টিফিকেট দিয়ে দেখা যায়। এই সার্টিফিকেট দেয়াও সহজ। সচিব স্যারদের স্বাক্ষরও লাগবে না। লেখা থাকবে ‘‘স্বাক্ষর দেখা যাচ্ছে না’’।

আবার এটাও ভাবছি নাটকের মাঝে বিজ্ঞাপন বিরতির মতো এই পেজের মাঝে না দেখতে পাওয়া পোস্টগুলো মোটেও না থাকলে পেজটা খালি খালি লাগবে কিনা। অনেক দিনের অভ্যাস। দেখা গেল পেজটাই অচেনা লাগছে। অন্য কোনো পেজে ঢুকিনি তো? কি যেন নেই!

কাউকে আঘাত করা নয়, স্নেহের অধিকারে মজা করে লেখা । তবে আদরে বাঁদর হয়ে যেতে দেখলে রশিতে টান দেবেন স্যার।

Categories: আইডিয়া,কার্যক্রম,পরিকল্পনা