আজ- শনিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Email *

শিরোনাম

  Empathy, Patriotism & Commitment Group: একটু বিশ্লেষণ       বৃক্ষ রোপণের ৭ তারকা ও ১ শিল্পী       ‘পরিবর্তন চাই’ এর চার বছর       নামে কী বা আসে যায়       লৌহজং ‘সামাজিক আন্দোলন’ – আমার সুখ স্মৃতি       `একাত্তরের জননী’র সন্তানেরা       মনোয়ারাঃ সক্ষম সন্তানদের মরতে বসা মা       নদী-খাল উদ্ধারে সফল, সফলতার পথে এবং সম্ভাব্য অভিযান       মাছের পেটের রড থেকে গরাদঘরে       পাবনায় নৌ-র‌্যালিঃ নদী উদ্ধারে নতুন উদ্ভাবন       আক্রান্ত সিটিজেন জার্নালিজম       দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহব্যাপী নিম্নচাপঃ উদ্ভাবন ও সিটিজেন জার্নালিজম বিব্রত       আইনজীবীর হৃৎকম্পে কাঁপছে দেশ       পাবলিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিচ্ছবি       জনশক্তিতে উদ্ভাবন       ফেইসবুক, বাংলাদেশ সরকার এবং রাজার ঘণ্টা       অধ্যক্ষ অনিমেষ ও সোশাল মিডিয়া       জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবায় সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রথা ভাঙ্গার গল্প       শিয়ালের কামড় থেকে সোশাল মিডিয়ার কামড়       সোশাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডের ১ বছর ১ মাস    

কর্মশালার গল্পঃ কর্মকর্তা থেকে উদ্ভাবক

২০০০ সালে সরকারী চাকুরীতে ঢুকেছি। কোনো প্রশিক্ষণ পাইনি, ওরিয়েন্টেশনও না। অনেকটা অস্ত্র ছাড়াই যুদ্ধে নেমে ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ হাঁটিয়া চলিলাম। প্রায় সবাই বলেছে – ফাইলে দেখবে, আগে কিভাবে কি করা হয়েছে, সেভাবে করে যাবে। আলাদা কিছু করতে যাবে না। বিপদে পড়বে। এই নিয়ম মেনে আমি ১৪ বছর কোনো বিপদে পড়িনি। ভেবেছি আমি একজন সফল সরকারী কর্মকর্তা। সেই ভাবনায় ছেদ পড়ল ২০১৫ সালে।

২০১৫ সালের ১৭-২১ অক্টোবর বিয়াম ফাউন্ডেশনে ৫ দিনের ‘ইনোভেশন ইন পাবলিক সার্ভিস’ প্রশিক্ষণের জন্য ডাক পেলাম। নির্দিষ্ট দিনে ঠিক সময়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে গেল। কোনো উদ্বোধন পর্ব নেই দেখে ভাবলাম হালকা ধরনের কিছু একটা হবে। একজন ইউএনও তাঁর অফিসে সেবা প্রদান প্রক্রিয়ায় নতুনত্ব কি এনেছেন বর্ণনা করলেন। বললেন তিন/চার মাস আগে এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এই পরিবর্তন এনেছেন। হিংসা মিশ্রিত বিস্ময় নিয়ে এবার আমরা একটু নড়ে চড়ে বসলাম। এরপর পা থেকে সেবা প্রদানকারীর জুতা খুলে রেখে সেবাগ্রহীতার জুতা পায়ে দেবার সময় আবার একটু নড়তে হলো। প্রজেক্টরে তখন জীবনের হাসি আনন্দ দুঃখ বেদনার হৃদয়স্পর্শী ভিডিও ক্লিপ চলছে। ঘরে নেমে এলো পিন পতন নিস্তব্ধতা। বলা হলো ‘সিমপ্যাথি’ যথেষ্ট নয় সরকারী কর্মকর্তার মঞ্জিলে মকসুদ হবে ‘এমপ্যাথি’। নিজ অফিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা বাছাই করতে হলো। সেই সেবা কিভাবে দেয়া হয় ধাপে ধাপে লিখতে হবে। তারপর সেবাটি যেভাবে দিতে চাই তার ধাপগুলো লিখলাম। TCV (টাইম, কস্ট, ভিজিট) বোঝানো হলো। পূর্বের আর পরের TCV নির্ণয় করতে গিয়ে গলদঘর্ম হলাম (কথা সত্যি কারণ এসি মাঝে মাঝে বন্ধ রাখা হতো)।‘টিসিভি’ নামের টুলটা নাড়াচাড়া করে মজা লাগলো। সেবা প্রদান প্রক্রিয়ার ভালমন্দ, উন্নতি-অবনতি কি সহজেই না বের করা যাচ্ছে! প্রথম দিন কিছু গ্রুপ ওয়ার্কও করানো হলো। তবে দিনের শেষে ভাল লাগলো জেনে যে পরের দুদিন বাইরে বাইরে ঘোরাঘুরি, অফিস ভিজিট।

দ্বিতীয় দিন নিজের নয় অন্য সরকারী অফিস পরিদর্শনে পাঠানো হলো মানুষের ভোগান্তি দেখতে। অনেক ভোগান্তি চোখে পড়লো। পরের দিন পাঠানো হলো নিজের বিভাগের অফিসে। সেখানেও কিছু ভোগান্তি চোখে পড়লো। অজান্তেই নিজের অফিসের ভোগান্তি চোখে কম পড়েছিল হয়তো। সেই কমের কারণটুকু ট্রেইনার ঠাকুরের ঘন্টা বাজিয়ে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। এরপর ঠিক করা হলো নিজ নিজ আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য কি কি করতে হবে, কে কোনটা করবে, কে কে কোনটা করবে, কবে করবে। নির্ধারণ করতে হলো কিছু মাইলস্টোনও। পরের প্রশ্ন অর্থ – যতো অনর্থের মূল। চৌদ্দ গুষ্টি (আসলে দুই গুষ্টি) সরকারী চাকরী করছি। জানি কামান চাইলে বন্দুক পাওয়া যায়। কামান চাইলাম, কামানের দাম ৩০ লক্ষ টাকা। কিন্তু অর্থের ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হবে, মানে মশা মারতে কামান দাগা যাবে না। নাড়া খেয়ে সেই বাজেট সাঁই করে ৩০ হাজারে নেমে এলো। এ্যাক্টিভিটিজ, মাইলস্টোন, রিসোর্স ম্যাপিং, গ্যান্ট চার্ট দারুন দারুন সব টার্ম। আবাসিক এই প্রশিক্ষণে সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা, মাঝে মাঝে ৯টা অবধি ব্যস্ত রাখা হতে লাগলো। একটি করে দিন কাটলো আর বুঝতে শুরু করলাম এটি একেবারে আলাদা জাতের। এই ৫ দিনের প্রশিক্ষণে বেশ কয়েকবার নাড়া খেলাম। যা আমার ১৪ বছরের চাকরী জীবনকেই নাড়িয়ে দিল শেকড়সুদ্ধ। বুঝলাম গত ১৪ বছর কিছুই করিনি। প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র নেবার সময় নিজের অজান্তেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলাম সত্যি সত্যি কিছু করতে হবে। নতুন কিছু, ভাল কিছু।

ট্রেনিং শেষে ফিরে এলাম নিজ এলাকায়, অফিসে। প্রতিজ্ঞা কিছুটা ফিকে হতে শুরু করেছে। হঠাৎ একটি ফোন এলো –
: আপনি তো ৫ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছেন, তাইনা?
: জ্বি
: আপনি কি ক্যাসকেডিং ওয়ার্কশপ করেছেন?
: কি?
প্রশিক্ষণ করিয়েছে, ভাতা দিয়েছে – ভাল কথা। কিন্তু পরে যে আবার ক্যাচ ক্যাচ করবে আগে বুঝিনি। এরপর ক্যাসকেডিং ওয়ার্কশপ আয়োজন করলাম। সারাদিন ধরে চললো ব্রেইন স্টর্মিং। চমৎকার একটি উদ্ভাবনী আইডিয়া উঠে এলো সেই ওয়ার্কশপ থেকে। কাজেই আগের আইডিয়া বাদ।

মুশকিল হলো ৫ দিনের বিদ্যা ৫ সপ্তাহে অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। মাইলস্টোন আর এ্যাক্টিভিটিজে প্যাঁচ লেগে গেছে। কয়েকদিন ধরে সমস্যার ঘরে কারণ আর কারণের ঘরে ভোগান্তি লিখি আর কাটাকুটি করি। সমাধান লিখে ফেলেছি অথচ সমস্যা খুঁজে পাচ্ছি না। সেবাগ্রহীতার ভোগান্তি কমাবো কি নিজেই ভোগান্তিতে পড়ে গেলাম। এইসময় ফোন এলো। আগামী ২৯ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর, ২০১৫ পিআইবিতে অনুষ্ঠিত হবে ‘ইনোভেশন ইন প্রজেক্ট ডিজাইন’ প্রশিক্ষণ।তো সেখানে আইডিয়াগুলো দুদিন ধরে ঘষামাজা করা হলো বললে ভুল বলা হবে, আসলে রাঁদা করা হলো। কোনো কোনোটা কুশলী ভাস্করের মতো হাতুড়ি বাটাল দিয়ে কেটে কেটে পরের দিন মন্ত্রণালয়ে পরিবেশনের যোগ্য করা হলো। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ডিজি, অতিরিক্ত সচিব, উপ সচিবদের সামনে নিজের আইডিয়া উপস্থাপন করলাম। জানি না এমন সুযোগ জীবনে আর কখনও পাবো কিনা।

এরপর মাস দুয়েক আর খবর নেই। প্রজেক্ট পাইলটিং ধুঁকে ধুঁকে চলছে। আবার ফোন এলো। ১৭-২১ এপ্রিল, ২০১৬ বিসিসিতে ‘ম্যানেজিং টেকনোলজি ফর ই-গভর্নমেন্ট’ প্রশিক্ষণ। প্রথম দিনই ট্রেইনারের ইন্ধনে ভেঙ্গে গেল ইয়াহু মেইলের সাথে আমার ১০ বছরের সংসার। জিমেইল এর সাথে নতুন করে গাঁটছড়া বাঁধলাম। নতুন জীবনে কতো সুখ, কতো সুবিধা! শ্যালক-শ্যালিকায় ভরা বাড়ি – গুগল ডক, গুগল ফর্ম, গুগল শিট, গুগল ড্রাইভ, গুগল ক্যালেন্ডার, গুগল ট্রান্সলেট। এতোগুলোকে একসাথে হ্যান্ডেল করতে গিয়ে খাবি খাচ্ছি, এটা হয় না, ওটা আসে না। ট্রেইনার মজা করে বলেন ‘গুগলের সাথে তো আপনার জমি-জমা নিয়ে ঝামেলা নেই, চিন্তা করেন না, হবে’। আরেকটি মজার কথা শুনলাম -‘ব তে বিজয়, ব তে বাদ’। এখন থেকে অভ্র, এখন থেকে ইউনিকোড। এখানে আরও অনেক খুঁটিনাটি বিষয়ে ধারণা দেয়া হয় বিশেষ করে এ্যাপ তৈরী করতে হলে আইটি কোম্পানীর সাথে কিভাবে চুক্তি করতে হবে, চুক্তিতে কি কি বিষয় থাকতে হবে এসব। হার্ড ডিস্ক ক্র্যাশ করে অফিসের সব ফাইল হারিয়ে গেছে দুবার। হায় তখন যদি গুগল ড্রাইভ সম্পর্কে জানতাম!

এটুআই এর প্রথম ট্রেইনিং করেছিলাম ‘ইনোভেশন ইন পাবলিক সার্ভিস’ (উজ্জীবিত হোন–নতুন কিছু করুন)। এরপর ‘ইনোভেশন প্রজেক্ট ডিজাইন’ (ডিজাইন করুন ভাল করে)। তারপর ‘ম্যানেজিং টেকনোলজি ফর ই-গভর্নমেন্ট’ (টেকনোলজির সুবিধা নিন)। সবশেষে ‘ডকুমেন্টেশন এ্যান্ড ডিসেমিনেশন অফ ইনোভেশন’- নিজের ঢোল নিজে পিটান। তবে সেই ঢোল পিটানো যেন শিল্পসম্মত হয়, যেন বিরক্তির উদ্রেক না করে উল্টো আগ্রহ সৃষ্টি করে, এটাই ছিল সর্বশেষ ওয়ার্কশপের মূল বিষয়। পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের কথা যদি ধরি, বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের একাধিক প্রেজেন্টেশন বানাতে হয় এটা জানতাম না। মাদার ডকুমেন্ট বলতে উপকরণ-১৩র বাইরে সচিত্র পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন (শুধু চিত্রই বা বলি কেন, ভিডিও, অডিও, পেপার কাটিং, সব) তৈরীর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ধারনাই ছিল না। কোন কাজ করলে তার ডকুমেন্টশন যে এতটা জরুরী আগে ভাবিনি। কিন্তু ভাবা উচিৎ ছিল। জগদীশ চন্দ্র বসু তো এই ডকুমেন্টেশনের অভাবেই রেডিও আবিষ্কারের কৃতিত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন বলে ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি।

ইনফোগ্রাফিক্সের মাধ্যমে এক পাতায় বা একটি পোস্টারে পুরো কাজ তুলে ধরা দারুন মজার। তবে এটা বাংলায় করতে গিয়ে বুঝেছিলাম ব তে বিজয় এখনও পুরোপুরি বাদ হয়নি। এক মিনিটে প্রজেক্ট উপস্থাপন অনুশীলন করানো হলো যা একেবারে আনকোরা ছিল অন্ততঃ আমার কাছে। উদ্ভাবনের গল্প লিখলাম আমরা, এক পাতার। সেই গল্প কতোভাবে লেখা যেতে পারে তার উপর দারুন একটি হ্যান্ডআউট দেয়া হলো। দুদিন প্রায় পুরোটা সময় ট্রেইনার দাঁড়িয়েই ছিলেন যা আমাদের অনেকের জন্যই কঠিন হবে। তিনি ব্যাখ্যাও দিলেন, কাজ যখন শুধু কাজ থাকেনা, উপভোগের বা আনন্দের বিষয় হয়ে যায় তখন দুদিন কেন চারদিনও দাঁড়িয়ে থাকা যায়। কথা সত্য তবে কাজকে খেলা বানিয়ে ফেলা তো ছেলেখেলা নয়। সেটাও ইনোভেশন। এখানে আরেকটি বিষয় দেখলাম, হাঁটুর বয়সী নবীনেরা হাঁটুওয়ালা প্রবীণদেরকেও ভাই বলে সম্বোধন করে। উদ্ভাবনকে উসকে দেবার কাজে যাঁরা জড়িত তাঁরা হয়তো এমনি হয়। ঐ যে ‘বদলে যাও, বদলে দাও’ থিওরি। বদলে না গিয়ে বদলে দেয়া যায়না বোধহয়। এরপর সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতে ওঠার আন্তর্জাতিক হাতছানিও পেলাম। সব মিলিয়ে বিষয়বস্তুর আধুনিকতায় ও বৈচিত্র্র্যে নিজেকে সরকারী নয় কর্পোরেট কর্মকর্তা মনে হচ্ছিলো।

এক পাতার ইনফোগ্রাফিক্স, এক মিনিটের গল্প, ৫, ১৫,৩০ মিনিটের প্রেজেন্টেশন, ভিডিও ক্লিপ, পেপার কাটিং, মাদার ডকুমেন্ট, ফটো সাফারি, উদ্ভাবনের গল্প এরকম নানা অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে থাকতে হবে অবস্থা বুঝে ব্যবহার করার জন্য। গলফ প্লেয়ারদের হ্যাভারস্যাকে যেমন নানা রকম স্টিক থাকে, জোরে মারার, আস্তে মারার, টোকা দেবার – অনেকটা সেরকম। দুদিনের শর্ট কোর্সে সবকিছু ভাল ভাবে আত্মস্থ করতে পারিনি বটে তবে প্রয়োজনীয় ধারণা পেয়েছি- কতোভাবে প্রজেক্টের ডকুমেন্টেশন ও ডিসেমিনেশন করা যায়।

এই প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ব্যবহার করে ‘মোবাইল এ্যাপে ভিসা যাচাই’ উদ্ভাবনটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। এটি আমাকে প্রচলিত বৃত্তের বাইরে এসে কাজ করতে আত্মবিশ্বাসী করেছে। কথার কথা নয়, আমি সত্যিই গুগল ম্যাপসে জনশক্তি ব্যুরোর সব অফিসগুলোকে তথ্য ও ছবিসহ অ্যাড করার দ্বিতীয় আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করেছি। টিওটি প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন শুধু নিজের আইডিয়া নয় জেলায় জেলায় অন্যদের উদ্ভাবনী শক্তিকে উসকে দেবার কাজও করছি। অন্যের উদ্ভাবনী আইডিয়া ঘষা-মাজা করে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির খানিকটা আত্মবিশ্বাসও জন্মেছে। হঠাৎ করেই খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছি মনে হচ্ছে। ডিপার্টমেন্টে, নিজ অফিসে, সমাজে এমনকি পরিবারেও সম্মান বেড়েছে স্পষ্ট বুঝতে পারি। আমাদের জনশক্তি ব্যুরোর ডিজি মহোদয়ের কাছ থেকে ‘Atiq, you have done a good work’ স্বীকৃতি আগে কখনও জোটেনি। এই প্রশিক্ষণ নিয়ে লিখে অনেক বড় মাপের মানুষদের আর মান সম্পন্ন এতো এতো প্রতিক্রিয়া পেয়েছি যা কয়েকটি বই প্রকাশ করেও পাইনি।

এটুআই এর হাত ধরে মরচে পড়া সরকারী অফিসগুলোতে উদ্ভাবনী সংস্কৃতির জাগরণ ঘটেছে বলতেই হবে। ‘ইনোভেশন ইন পাবলিক সার্ভিস‘ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ও প্রাণবন্ত ওয়ার্কশপগুলোর শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে নানাভাবে নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন ঘটছে। আমি মনে করি পুরনো ভাবনা থেকে বের হবার জন্য এটুআই এর ‘ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট’ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সেরা প্লাটফর্ম। যার দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যাবার যোগ্যতাও আছে। অস্ট্রেলিয়াতে দেখেছি ট্রেন স্টেশনের প্লাটফর্মগুলো এদেশের মতো ছোট ছোট নয়। অনেক বড়, পরিচ্ছন্নও। কিনারা দিয়ে আবার রাবারের আস্তরন দেয়া। সাদা ছড়ি ঠুকে ঠুকে চলা মানুষগুলোও যেন শব্দের তারতম্যে বুঝতে পারে কিনারায় চলে এসেছে। এটুআই প্লাটফর্মটা ঐরকম।

ইনোভেশন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণগুলোর ধারাবাহিকতা ও প্রশিক্ষণ পরবর্তী মনিটরিং হলো মূল শক্তি। সরকারী অফিসগুলোতে ‘ইনোভেটর’, ‘এটুআই এর ফ্যাসিলিটেটর’, ‘মেনটর’ এসব এখন খুব সম্মানজনক পরিচয়। যদি নিজের কথা বলি, এটুআই আমার মতো ১৪ বছরের গৎবাঁধা কর্মবিমূখ সরকারী কর্মকর্তাকে উজ্জীবিত উদ্ভাবকে উন্নীত করেছে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দফতর, এটুআই এবং ক্যাবিনেট ডিভিশনকে অনেক ধন্যবাদ।

Categories: প্রশিক্ষন